কিছু হলেই একদল লোক জায়েদের দোষ ধরে বেড়ায়

তৃতীয়বারের মতো চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে প্রার্থী হয়েছেন জায়েদ খান। এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করলেন তিনি। নির্বাচনের প্রসঙ্গে কথা বললেন এই অভিনেতা
তৃতীয়বারের মতো চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে প্রার্থী হয়েছেন জায়েদ খান
ছবি:’ ফেসবুক
প্রশ্ন

এফডিসিতে চলছে নির্বাচনীও আমেজ, প্রার্থী হিসেবে অনুভূতি কেমন?

এবারের নির্বাচনে কাদা–ছোড়াছুড়ি সবচেয়ে বেশি। অনেকেই আমাকে সংগঠনের বাইরে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করে কথা বলছেন। এ ঘটনায় আমি অবাক ও ব্যথিত। শিল্পী হিসেবে শিল্পীদের টেনে নিচে নামানোকে ধিক্কার জানাই। কারণ, এসব কাদা–ছোড়াছুড়ির কারণে তৃতীয় পক্ষ সুযোগ নিচ্ছে।

প্রশ্ন

এতে তো শিল্পীদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে...

এসব কাদা–ছোড়াছুড়ি চলচ্চিত্রশিল্পীদের ভাবমূর্তি একেবারেই শেষ করে দিচ্ছে। শিল্পীদের কিছু বিষয় নিজেদের মধ্যে থাকা দরকার। অথচ এখানে লোক ডেকে এনে মিথ্যা তথ্য দিয়ে একজন শিল্পীকে কিছু বলার অর্থ সবাইকে ছোট করা। এটি শিল্পীদের চর্চা হতে পারে না।

প্রশ্ন

ব্যক্তিগত আক্রমণের শিকার হলে আপনার ভূমিকা কী থাকছে?

আমি বলছি, সবার শুভবুদ্ধির উদয় হোক। শিল্পীরা মানবিক হোক। এটা শিল্পী সমিতি, চর দখলের বিষয় নয় যে গায়ের জোর খাটাব। এখানে কেউ আমরা সারা জীবন থাকতে আসিনি। আমরা সবাই একসঙ্গে শৈল্পিক নির্বাচন চাই।

এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করলেন তিনি
প্রশ্ন

জায়েদ-মিশা আবার একসঙ্গে, এই যোগসূত্রের রহস্য কী?

মিশা ভাইকে সভাপতি হিসেবে পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। তিনি আমার অভিভাবক, বড় ভাই। দেখবেন, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে রেষারেষি থাকেই। কিন্তু মিশা ভাইয়ের সঙ্গে দুই টার্ম শেষ করে আবার নির্বাচন করছি। আমরা আত্মার আত্মা। শিল্পীদের জন্য আমাদের বোঝাপড়া ভালো। তাঁকে আমি বারবার সভাপতি হিসেবে চাই।

প্রশ্ন

ভোট চাইতে গিয়ে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার মুখোমুখি হতে হয়েছে?

না, কিন্তু বাইরের অনেক উৎসুক দর্শকের জন্য ঠিকমতো ভোটই চাইতে পারছি না। বাজারের মতো মানুষ। ধাক্কাধাক্কি লেগেই থাকে। অনেক সিনিয়রকে আনতে পারছি না। কার কী হয়। পরে আবার আমার দোষ হবে। কোনো কিছু হলেই একদল লোক জায়েদের দোষ ধরে বেড়ায়। তবে প্যানেলের সিনিয়ররা চাইলে অনেক অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো যায়। পরিবেশ নিয়েই কিছুটা শঙ্কিত আমি।

প্রশ্ন

কেন জায়েদের দোষ ধরে?

এটা আমি মেনে নিয়েছি—যে কাজ বেশি করে, তার দোষও বেশি। যারা কাজগুলো করতে পারবে না, তারাই দোষ ধরে বেড়ায়।

`মিশা ভাইকে সভাপতি হিসেবে পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার'- জায়েদ
প্রশ্ন

এটাও শোনা যাচ্ছে, আপনার পেছনে এফডিসির বাইরের শক্তি রয়েছে?

এসব অল্প কিছু মানুষের গুজব। নির্বাচন আর বিয়ে করতে গেলে গুজব ছড়াবেই। আমি শিল্পীদের পাশে থাকার জন্য নির্বাচন করছি। আমার পরিবারের একটা অংশ আমাদের শিল্পীরা। পরিবারের বাইরে এখানেই সবচেয়ে বেশি সময় কাটে আমার।

প্রশ্ন

আপনাকে নির্বাচনের পেছনে অনুপ্রাণিত করেন কারা?

ফারুক ভাই, সোহেল রানা ভাই, ডিপজল ভাই, রুবেল ভাই, রোজিনা আপা, অরুণা আপা, অঞ্জনা আপা, মাসুম বাবুল ভাই, উজ্জ্বল ভাই, সুজাতা ম্যাডাম, সুচরিতা আপা, মৌসুমী আপা, মিশা ভাইসহ অনেকেই আছেন।

প্রশ্ন

নির্বাচন ঘিরে আপনাদের কোনো দুশ্চিন্তা বা দুর্বল দিক নিয়ে আলাদা করে ভাবতে হচ্ছে?

আমরা শতভাগ চেষ্টা করে যাচ্ছি। সবার সঙ্গে সবার যোগাযোগ আছে। কিন্তু একটাই দুশ্চিন্তা, অনেক মানুষের কারণে আমরা গুণী সিনিয়র অভিনয়শিল্পীদের এফডিসিতে আনতে পারছি না। এখন ভোটের দিন কেমন পরিবেশ থাকবে, সেটা নিয়ে চিন্তিত। আর প্যানেল নিয়ে এই মুহূর্তে আমরা শক্তিশালী অবস্থায় রয়েছি। সবার সঙ্গে আমার সুসম্পর্ক রয়েছে।

প্রশ্ন

নির্বাচন ঘিরে ভালো লাগার মতো কিছু পেয়েছেন?

অনেক অভিনয়শিল্পীর সঙ্গে অনেক দিন পরে দেখা হচ্ছে, কথা হচ্ছে। সারা বছর ফাঁকা থাকলেও এখন একটা উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন হচ্ছে। কাদা–ছোড়াছুড়ি হলেও আমাদের মধ্যে আন্তরিক যোগাযোগটা রয়েছে। কারণ, শিল্পীদের অভিমান থাকতে হয় না। সবাই এক হয়েছি—এটাই আনন্দের।

মিশা–জায়েদ পরিষদ
প্রশ্ন

আপনাদের প্রতিশ্রুতি বা ইশতেহার কী কী?

অনেক শিল্পীর থাকার জায়গা নেই। তাঁদের জন্য আবাসের ব্যবস্থা করব। কাজে শিল্পীদের অংশগ্রহণ আরও বাড়াব। সদস্য ফর্মকে সহজলভ্য করা। বিদেশি শিল্পীদের নিয়ম মেনে কাজ করার দিকে নজর দেব। শিল্পীদের ফান্ড গঠন, কল্যাণ তহবিল, শিল্পীদের সামগ্রিক সুযোগসহ নানা বিষয় নিয়ে আমরা কাজ করব। শিল্পী সমিতিকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাব।

প্রশ্ন

তৃতীয়বারের মতো নিজেকে কেন সাধারণ সম্পাদক পদে যোগ্য মনে করলেন?

করোনাকালীন আমার কর্মের কারণে। যখন করোনায় অনেকেই আত্মীয়স্বজনকে ছেড়ে পালিয়েছেন, সেই সময় আমরা শিল্পীদের পাশে দাঁড়িয়েছি। দাফন করেছি। খাবার পৌঁছে দিতে ছুটেছি। সবার পাশে থেকেছি। সেই সময়েই শত শত শিল্পী আমাকে ফোন দিয়ে পাশে ছিলেন। এসব আমার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে। তা ছাড়া শিল্পীদের পাশে থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করতে চাই।

প্রশ্ন

নির্বাচনে তো হার–জিত থাকেই...

এত কিছু করার পরেও শিল্পীরা যদি মনে করেন আমি যোগ্য নই, ভোট না দেন, তবু আমি শিল্পী সমিতির জন্য কাজ করতে আগ্রহী। জায়েদ খান সব সময় শিল্পীদের পাশে আছে।

প্রার্থী পরিচিতির দিনে জায়েদের ক্যামেরায় গুণী অভিনয়শিল্পীরা