আইশা খান
আইশা খান

কোন ২১ ডিসেম্বর বিয়ে করব...

মাছরাঙা টেলিভিশনের রিয়েলিটি শো ‘ম্যাজিক বাউলিয়ানা’র পর এনটিভির বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান ‘রাতের আড্ডা’ উপস্থাপনা করছেন অভিনেত্রী ও উপস্থাপক আইশা খান। মুক্তির অপেক্ষায় আছে একাধিক নাটক। গত বৃহস্পতিবার তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন মকফুল হোসেন

প্রশ্ন

মাঝখানে ব্যাংককে গিয়েছিলেন। কোথায় কোথায় ঘুরলেন?

আইশা খান: শহরেই ছিলাম, খুব বেশি ঘোরাঘুরি করিনি। ‘ম্যাজিক বাউলিয়ানা’ নিয়ে টানা চার মাস খুব ব্যস্ত ছিলাম। শুটিং শেষ হওয়ার আগে সপ্তাহ দুয়েকের মতো অবসর পেয়েছিলাম। ‘ম্যাজিক বাউলিয়ানা’র ক্যাম্পে রুটিনে ছিলাম। ছুটির মধ্যে হাওয়া বদল করা দরকার ছিল। সেই ভাবনা থেকেই ১৮ ডিসেম্বর ব্যাংককে যাই। এবারই প্রথম দেশের বাইরে নতুন বছর উদ্‌যাপন করলাম। ভিন্ন রকমের অভিজ্ঞতা হয়েছে।

আইশা খান
প্রশ্ন

এর মধ্যে আপনাকে নাটকে খুব একটা দেখা যায়নি।

আইশা খান: মাস দেড়েকের মতো ‘ম্যাজিক বাউলিয়ানা’র ক্যাম্পে থাকতে হয়েছে। তখন কোনো নাটক করা হয়নি। তবে এর আগে সাপ্তাহিক শো থাকত। তখন চারটির মতো নাটকে কাজ করেছি। দুটি প্রচারিত হয়েছে। বাকি দুটি (আমি একজন খুনি বলছি ও হৃদয়ে তুমি, শেষটার নাম পরিবর্তিত হতে পারে) ঈদে প্রচারিত হবে।

প্রশ্ন

‘ম্যাজিক বাউলিয়ানা’র শুটিং তো শেষ। সামনে কী করছেন?

আইশা খান: ‘ম্যাজিক বাউলিয়ানা’র উপস্থাপনা শুরু করেছিলাম গত ২৮ আগস্ট। এই ১২ জানুয়ারি কাজটা শেষ হয়েছে। এর মধ্যে এনটিভির একটা শো উপস্থাপনা করতাম, সেটা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। আগামী শুক্রবার এনটিভির বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান ‘রাতের আড্ডা’য় উপস্থাপনা শুরু করছি। আগামী মাসে অভিনয়ও শুরু করব।

আইশা খান
প্রশ্ন

কেউ কেউ বলেন, আইশা খানকে নিয়ে গুঞ্জন কম শোনা যায়।

আইশা খান: অনেকভাবেই আলোচনায় আসা যায়; আমি চেয়েছি, কাজ নিয়েই আলোচনা হোক।

প্রশ্ন

এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ২১ ডিসেম্বরে বিয়ে করতে চান। মর্মার্থ কী?

আইশা খান: আমার কাজিনরা বিয়ের পর দেশের বাইরে সেটেল্ড (থিতু) হয়েছে। ওরা একই মাসে ছুটি পায় না। একেকজন একেক সময় ছুটি পায়। ফলে আমরা কারও বিয়েতে একত্র হতে পারিনি। বিয়ের তারিখটা আগে থেকেই বলে রেখেছি, ওদের ফোন করলে যেন চলে আসতে পারে। আমি কাজিনদের খুবই মিস করি। ছোটবেলা থেকে গল্প করে, মুভি দেখে সময় কাটিয়েছি। ওদের কথা ভেবেই সিদ্ধান্তটা নিয়েছি। তবে কোন বছরের ২১ ডিসেম্বর বিয়ে করব, সেটা এখনো সিদ্ধান্ত নিইনি।

আইশা খান
প্রশ্ন

পরিবারের অনেকেই তো বিদেশে থিতু হয়েছেন, আপনার কোনো পরিকল্পনা আছে?

আইশা খান: আমি বাইরে যাব, ঘুরব। এ পর্যন্তই। একেবারে সেটেল্ড হওয়া সম্ভব নয়। বাইরে মাস্টার্স করার ইচ্ছা আছে। হয়তো পড়াশোনার জন্য যেতে পারি। ফিরে আসব, সেটেল্ড হওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই।

প্রশ্ন

এর মধ্যে কী কী সিনেমা-সিরিজ দেখলেন?

আইশা খান: কে-ড্রামা হোয়েন লাইফ গিভস ইউ ট্যানজারিনস, পাকিস্তানি সিরিয়াল কেস নাম্বার নাইন, নেটফ্লিক্সের তস্করি দেখলাম। বিশেষ করে পাকিস্তানি চিত্রনাট্যকারদের আমি আপ্রিশিয়েট করি। ওদের গল্পের গাঁথুনি দেখে মুগ্ধ হই। ওদের নির্মাণ খুব পোক্ত নয়, তবে গল্প শক্তিশালী। ফ্যামিলি ড্রামা, রোমান্টিক সিরিয়ালে খুব ভালো করছে। আমাদের দেশের সিনেমাওয়ালার নাটকেও সেই ধারা দেখছি। হুমায়ূন আহমেদ স্যারের নাটক আমি পছন্দ করি। আনিসুল হক স্যারের ৫১বর্তী খুবই পছন্দ। ফ্যামিলি ড্রামা, রোমান্টিক গল্পের বাইরে পর্দায় রাজনৈতিক গল্পও তুলে আনা যেতে পারে।

আইশা খান
প্রশ্ন

রাজনৈতিক গল্প নিয়ে সম্প্রতি ‘এখানে রাজনৈতিক আলাপ জরুরি’ মুক্তি পেয়েছে।

আইশা খান: হ্যাঁ। (আহমেদ হাসান) সানি ভাইকে কমপ্লিমেন্ট জানাই। (ইমতিয়াজ) বর্ষণ ভাই এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, অনেক রেস্টুরেন্টে লেখা থাকে, ‘এখানে রাজনৈতিক আলাপ নিষেধ’। সেই ধারণা ভাঙা দরকার। রাজনৈতিক আলাপ জরুরি।

আইশা খান
প্রশ্ন

পারিশ্রমিক নিয়ে বরাবরই আপনি সোচ্চার...

আইশা খান: পারিশ্রমিককে একটা নিয়মের মধ্যে আনা উচিত। যদি বলা হয়, ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে দেব, তাহলে সেটা শিল্পী থেকে প্রোডাকশনের ভাই—সবার জন্যই একই নিয়ম প্রযোজ্য হওয়া উচিত। অনেক সময় প্রোডাকশনের ভাইয়েরা বলে, ‘আপু, অমুক প্রোডাকশন হাউস আমারে রেমুনারেশন দেয় নাই।’ নিয়ম সবার জন্য সমান হওয়া উচিত। আমি শিল্পী, আমার জন্য এক নিয়ম আবার প্রোডাকশনের ভাইদের জন্য আলাদা নিয়ম, সেটা ঠিক নয়। বিষয়টিতে নজর দেওয়ার জন্য ডিরেক্টরস গিল্ড, অ্যাক্টরস ইকুইটির প্রতি অনুরোধ করছি।