
কোক স্টুডিও বাংলার চতুর্থ মৌসুমের প্রথম গান ‘রুমঝুম’। বাংলাদেশের শিল্পী মাহতিম শাকিব ও নুসরাত জাহানের সঙ্গে গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন তুর্কি সংগীতশিল্পী হান্দে চেভগেল। হোয়াটসঅ্যাপে তাঁর কাছ থেকে প্রথমবার ঢাকায় আসা ও কাজের অভিজ্ঞতা শুনলেন মকফুল হোসেন
কবে ‘রুমঝুম’ গাওয়ার প্রস্তাব পান?
হান্দে চেভগেল: শুটিংয়ের কিছুদিন আগে আমি প্রস্তাবটি পাই, আগপাছ না ভেবেই সায় দিয়েছি। গানের সহশিল্পী মোস্তফা (ইপেক) আমার খুব ভালো বন্ধু, সেই সূত্র ধরেই কাজটিতে যুক্ত হই।
ঢাকায় কোথায় ঘুরলেন, কী খেলেন?
হান্দে চেভগেল: প্রথমবার ঢাকায় গিয়েছিলাম। সত্যি বলতে, জায়গাটি আমার কাছে খুবই ভিড়ভাট্টা ও কোলাহলপূর্ণ মনে হয়েছে। শহরটি একই সঙ্গে খুব সবুজ ও ধূসর। যাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি, তাঁরা সব সময়ই খুব বন্ধুসুলভ ছিলেন। আমার ধারণা ছিল, ঢাকার খাবার খুবই ঝাল। তাই খাবার নিয়ে খুব একটা ঘাঁটাঘাঁটি করিনি।
আমি রীতিমতো ফলপাগল, জায়গাটি ফলের স্বর্গরাজ্য। অনেক ফল খেয়েছি। আমরা আহসান মঞ্জিল, পুরান ঢাকা ও লালবাগ ঘুরে দেখেছি। এই প্রজেক্টে খুব বেশি সময় আমাদের ছিল না, তবে আরও অনেক জায়গা দেখার ইচ্ছা আছে।
বাংলাদেশি শিল্পীদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন?
হান্দে চেভগেল: এটাই (বাংলাদেশি শিল্পীদের সঙ্গে কাজ) ছিল সবচেয়ে স্মরণীয়। আমাদের মধ্যে আনন্দের ঢেউ ছড়িয়ে পড়েছিল। আমার মনে হয়, তাঁরাও (মাহতিম শাকিব ও নুসরাত জাহান) কাজটি খুব উপভোগ করেছেন। তাঁদের সঙ্গে দেখা হওয়ায় নিজেকে খুব ভাগ্যবান মনে করি।
‘রুমঝুম’ গানের সঙ্গে তুর্কি লোকসংগীত ‘উস্কুদারা গিদের ইকেন’ গানের মেলবন্ধন ঘটানো হয়েছে। ‘উস্কুদারা গিদের ইকেন’ গানটি তুরস্কে কতটা জনপ্রিয়?
হান্দে চেভগেল: এটি তুরস্কের একটি কালজয়ী গান। তরুণ থেকে প্রবীণ—সবার কাছেই গানটি ভীষণ আপন। যুগ যুগ ধরে মানুষের মুখে মুখে ফিরছে। এখনো অনেক শিল্পী গানটিকে নতুনভাবে পরিবেশন করেন। বাংলা গানের সঙ্গে গানটি গাইতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত। প্রথমবার ‘রুমঝুম’ শুনে গানটির মর্মার্থ ঠিকঠাক বুঝতে পারিনি, তবে গানটি শোনার পর দারুণ অনুভূতি হয়েছিল। সেই অনুভূতিই আমাকে ‘রুমঝুম’ গাইতে আগ্রহী করে।
‘রুমঝুম’-এর গীতিকার কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি। আগে তাঁকে চিনতেন?
হান্দে চেভগেল: সত্যি বলতে, গানটির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আগে কাজী নজরুল ইসলাম সম্পর্কে জানতাম না। তবে ঢাকা গিয়ে দেখেছি, মানুষ তাঁকে কতটা গর্বের সঙ্গে স্মরণ করেন, তাঁকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মূল্যবান একজন মানুষ হিসেবে তুলে ধরেন। পরে তাঁকে নিয়ে কিছু পড়াশোনা করি, আর স্বীকার করতেই হবে, তাঁকে না চেনাটা আমার ঘাটতি ছিল।
বাংলাদেশের সংগীত সম্পর্কে আগে থেকে কতটা জানতেন?
হান্দে চেভগেল: বাংলাদেশে লাউ ও বাঁশ দিয়ে তৈরি বাদ্যযন্ত্র সম্পর্কে আমি জানতাম। আর বিশ্বজুড়ে প্রচলিত সংগীত নোটেশনের বদলে এখানে যে সারগাম পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়, সেটিও জানতাম।
বাংলাদেশে তুর্কি সিরিজ বেশ জনপ্রিয়।
হান্দে চেভগেল: হ্যাঁ, তুর্কি টিভি সিরিজ বিশ্বের অনেক জায়গাতেই খুব জনপ্রিয়। মানুষ যখন আমাকে সিরিজের চরিত্রগুলোর সঙ্গে তুলনা করে, তুর্কি শব্দ চিনতে পারে, কিংবা আমার দেশকে ভালোবাসার কথা বলে, তখন আমার খুব ভালো লাগে।
ভবিষ্যতে বাংলা গান গাওয়ার কোনো ইচ্ছা আছে?
হান্দে চেভগেল: আগেই বলেছি, বাংলাদেশের সংগীত আমার কাছে খুব স্বতঃস্ফূর্ত ও প্রাণবন্ত মনে হয়। তাই সুযোগ পেলে অবশ্যই আবার গাইতে চাই। ‘রুমঝুম’ গানের শেষভাগে বাংলা অংশ গাইতে আমার ভীষণ ভালো লেগেছে।
বাংলাদেশি শ্রোতাদের কোনো বার্তা দিতে চান?
হান্দে চেভগেল: ‘রুমঝুম’ গানটি খুব দ্রুত অনেক মানুষের মনোযোগ কেড়েছে, সে জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। সবাই খুব আন্তরিক, তাঁদের মন্তব্য ও বার্তা আমাকে খুব আনন্দ দিয়েছে। আশা করি, আমরা আরও বেশি করে একসঙ্গে হতে পারব।