জুডি ফস্টার। রয়টার্স
জুডি ফস্টার। রয়টার্স

যৌন নিপীড়ন থেকে বাঁচিয়ে দিয়েছে ‘ট্যাক্সি ড্রাইভার’

হলিউডে শিশুশিল্পী হিসেবে কাজের শুরুর দিনগুলোয় কেন তিনি বড় ধরনের যৌন নিপীড়নের শিকার হননি, সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে মুখ খুলেছেন অস্কারজয়ী অভিনেত্রী জুডি ফস্টার। তাঁর মতে, খুব অল্প বয়সে ‘ট্যাক্সি ড্রাইভার’ ছবিতে অভিনয় করে খ্যাতি ও স্বীকৃতি পাওয়াই তাঁকে একধরনের ক্ষমতা এনে দিয়েছিল, যা অনেকটা ঢাল হয়ে কাজ করেছে।

সম্প্রতি এনপিআরের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘ফ্রেশ এয়ার’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জুডি ফস্টার বলেন, ছোটবেলায় হলিউডে কাজ করতে গিয়ে তাঁকে নিজের অভিজ্ঞতা নতুন করে ভাবতে হয়েছে। তিনি স্বীকার করেন, কর্মক্ষেত্রে নারীদের যে হয়রানি বা সূক্ষ্ম লিঙ্গবৈষম্যের মুখে পড়তে হয়, তা তাঁর ক্ষেত্রেও ছিল। তবে প্রশ্ন ছিল, কেন তিনি আরও ভয়াবহ অভিজ্ঞতা থেকে রক্ষা পেয়েছেন?

ফস্টারের ব্যাখ্যা, খুব অল্প বয়সেই তিনি এমন একপর্যায়ে পৌঁছে যান, যেখানে তাঁর হাতে ক্ষমতা ছিল। মাত্র ১২ বছর বয়সে ‘ট্যাক্সি ড্রাইভার’-এ অভিনয়ের জন্য প্রথম অস্কার মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকেই ইন্ডাস্ট্রিতে তাঁর অবস্থান বদলে যায়। তাঁর ভাষায়, তখন তিনি এমন একজন হয়ে ওঠেন, যাঁকে ‘ছোঁয়া বিপজ্জনক’। কারণ, তিনি চাইলে অন্যের ক্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারতেন কিংবা মুখ খুলতে পারতেন। এই ক্ষমতাই তাঁকে অনেকের কাছ থেকে দূরে রেখেছে।

১৯৬৫ সালে মাত্র তিন বছর বয়সে অভিনয়জীবন শুরু করেন জুডি ফস্টার। তাঁর মা ও ম্যানেজার ইভলিন ‘ব্র্যান্ডি’ ফস্টারের তত্ত্বাবধানে টেলিভিশন দিয়ে যাত্রা শুরু। মার্টিন স্করসেসির ‘ট্যাক্সি ড্রাইভার’-এ কিশোরী যৌনকর্মীর চরিত্রে অভিনয় করে নজর কাড়েন তিনি। এরপর কিশোর বয়সেই ‘ফ্রিকি ফ্রাইডে’, ‘বাগসি মালোন’-এর মতো সফল ছবিতে কাজ করেন।

জুডি ফস্টার। রয়টার্স

সাক্ষাৎকারে ফস্টার আরও বলেন, তাঁর ব্যক্তিত্বও হয়তো তাঁকে রক্ষা করেছে। নিজেকে তিনি ‘সোজাসাপটা’ মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেন। আবেগ সহজে প্রকাশ না করায় তাঁকে মানসিকভাবে প্রভাবিত করা কঠিন ছিল। তাঁর মতে, শিকারিরা সাধারণত দুর্বল, ক্ষমতাহীন ও কম বয়সীদের সহজে নিশানা করে, যেখানে তাঁর অবস্থান ছিল ব্যতিক্রম।
অভিনয় পেশাই তাঁকে আবেগ নিয়ন্ত্রণ ও মানসিক দৃঢ়তা শিখিয়েছে বলেও মনে করেন ফস্টার। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এসব গুণ তাঁকে আরও শক্ত করেছে।

শিশুশিল্পী হিসেবে শুরু করে জুডি ফস্টার পরবর্তী সময় হলিউডের অন্যতম প্রভাবশালী অভিনেত্রী হয়ে ওঠেন। ‘দ্য অ্যাকিউজড’ (১৯৮৯) এবং‘দ্য সাইলেন্স অব দ্য ল্যাম্বস’(১৯৯২)—এই দুই ছবির জন্য তিনি সেরা অভিনেত্রী হিসেবে অস্কার জিতেছেন, যা তাঁর দীর্ঘ ও সফল ক্যারিয়ারের শক্ত ভিত গড়ে দেয়।

জুডি ফস্টার। রয়টার্স