স্বপ্নের মতো সময় কাটছে অভিনেত্রী জোয়ি সালডানার। একের পর এক পুরস্কার পাচ্ছেন, তাঁর সিনেমা মুক্তি পেলেই হচ্ছে সুপারহিট। সবশেষ জেমস ক্যামেরনের ‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’ দিয়ে সবাইকে ছাড়িয়ে গেলেন জোয়ি। তিনিই এখন দুনিয়ার সবচেয়ে ব্যবসাসফল অভিনয়শিল্পী। ভ্যারাইটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, জোয়ি সালডানা অভিনীত সিনেমাগুলোর সম্মিলিত বৈশ্বিক আয় এখন ১৫ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলার।
সর্বকালের শীর্ষ তিন আয় করা ছবির নায়িকা
জোয়ি সালডানার নামের পাশে আছে একের পর এক রেকর্ড। তিনি অভিনয় করেছেন সর্বকালের তিনটি সর্বোচ্চ আয় করা সিনেমায়—২০০৯ সালের ‘অ্যাভাটার’, ২০১৯ সালের ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’ ও ২০২২ সালের ‘অ্যাভাটার: দ্য ওয়ে অব ওয়াটার’।
এ ছাড়া জোয়ি সালডানা হলেন প্রথম অভিনেত্রী, যিনি চারটি সিনেমায় অভিনয় করেছেন, যেগুলোর প্রতিটির বৈশ্বিক আয় ২০০ কোটি ডলারের বেশি। এই তালিকায় রয়েছে ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ইনফিনিটি ওয়ার’ও।
‘মার্ভেল’, ‘স্টার ট্রেক’ ও ‘অ্যাভাটার’–এর অবিচ্ছেদ্য মুখ
মার্ভেল সিনেম্যাটিক ইউনিভার্সে গ্যামোরা চরিত্রে তিনটি ‘গার্ডিয়ানস অব দ্য গ্যালাক্সি’ ছবিতে অভিনয় করেছেন জোয়ি সালডানা। পাশাপাশি ‘স্টার ট্রেক’ ট্রিলজিতে তিনি অভিনয় করেছেন নিয়োটা উহুরা চরিত্রে, যে সিরিজের মোট আয়ও এক বিলিয়ন ডলারের বেশি।
২০২৪ সাল পর্যন্ত সালডানার সিনেমাগুলোর মোট আয় ছিল ১৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি, তখন তিনি ছিলেন স্কারলেট জোহানসন ও স্যামুয়েল এল জ্যাকসনের পর তৃতীয় স্থানে। কিন্তু ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে মুক্তি পাওয়া ‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’ একাই আয় করেছে ১ দশমিক ২৩ বিলিয়ন ডলার, যা তাঁকে একলাফে শীর্ষে তুলে এনেছে।
আবেগঘন কৃতজ্ঞতা বার্তা
এই ঐতিহাসিক অর্জনের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তায় জোয়ি সালডানা বলেন, ‘আজ আমি সর্বকালের সর্বোচ্চ আয় করা চলচ্চিত্র অভিনয়শিল্পী হতে পেরেছি—এই অসাধারণ যাত্রার জন্য আমি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাই। এটা সম্ভব হয়েছে শুধুই সেই সব ফ্র্যাঞ্চাইজি ও সহকর্মীর কারণে, যাদের সঙ্গে কাজ করার সৌভাগ্য আমার হয়েছে।’
সালডানা ধন্যবাদ জানান ‘স্টার ট্রেক’-এর পরিচালক জে জে আব্রামস, ‘অ্যাভেঞ্জার্স’-এর নির্মাতা জো ও অ্যান্থনি রুশো, ‘গার্ডিয়ানস’-এর পরিচালক জেমস গান ও বিশেষভাবে জেমস ক্যামেরনকে। সালডানার ভাষায়, ‘জেমস ক্যামেরন আমার ভেতরে এমন কিছু দেখেছেন, যা আমি নিজেও সব সময় দেখতে পাইনি। তাঁর বিশ্বাস, দিকনির্দেশনা ও দৃষ্টিভঙ্গি শুধু এই সিনেমাগুলোকেই নয়, একজন শিল্পী হিসেবে আমাকেও গড়ে তুলেছে।’
ভক্তদের উদ্দেশে সালডানা বলেন, ‘আপনাদের অটল সমর্থন, ভালোবাসা আর আগ্রহই এই সাফল্যের আসল ভিত্তি। আপনাদের ছাড়া এর কিছুই সম্ভব হতো না। এই অর্জন আমাদের সবার। আর আশা করি, পরের রেকর্ড ভাঙবেন আরেকজন নারী।’
২০২৫: সালডানার স্বর্ণালি বছর
২০২৫ সাল জোয়ি সালডানার ক্যারিয়ারে ছিল স্মরণীয়। মার্চে তিনি ‘এমিলিয়া পেরেজ’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রী হিসেবে অস্কার জেতেন। এর মাধ্যমে তিনি হন প্রথম ডোমিনিকান-আমেরিকান অভিনেত্রী, যিনি একাডেমি পুরস্কার জিতেছেন।
জাক অদিয়ার পরিচালিত এই সংগীতধর্মী ছবিটি কান চলচ্চিত্র উৎসবে প্রশংসিত হয়। এরপর সালডানা জিতে নেন স্যাগ অ্যাওয়ার্ড, বাফটা, গোল্ডেন গ্লোব ও ক্রিটিকস চয়েস অ্যাওয়ার্ড—পুরো মৌসুমেই ছিল তাঁর একচ্ছত্র দাপট।
অস্কার জয়ের অনুভূতি নিয়ে ভ্যারাইটিকে জোয়ি সালডানা মজা করে বলেন, ‘এখন আমাকে কোথাও দেখলেই সবাই বলে “অস্কারজয়ী জোয়ি সালডানা”। আমার স্বামী বলেন, “তুমি এখন ব্যাংক ডাকাতিও করতে পারবে না—খবরে লেখা হবে—অস্কারজয়ী অভিনেত্রী…।” আমি খুব সম্মানিত ও খুশি, তবে কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’
‘অ্যাভাটার’-এর নীল যোদ্ধা নেইতিরি
‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’-এ সালডানা আবার ফিরেছেন নাভি যোদ্ধা নেইতিরি চরিত্রে। মানব থেকে নাভি হয়ে ওঠা নেতা জেক সালির (স্যাম ওয়ারথিংটন) সঙ্গে নেইতিরির সম্পর্কই এই ফ্র্যাঞ্চাইজির মূল আবেগ।
নীল রঙের, আট ফুট লম্বা এই চরিত্রে রূপ দিতে ব্যবহৃত হয়েছে জেমস ক্যামেরনের উদ্ভাবিত পারফরম্যান্স ক্যাপচার প্রযুক্তি। সালডানা বলেন, ‘এই জগৎ এত বাস্তব মনে হয়, কারণ অভিনয়টাই জিমের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পারফরম্যান্স ক্যাপচার আমাদের সব মনোযোগ আর আবেগ দৃশ্যের ভেতর ঢেলে দেওয়ার সুযোগ দেয়।’
সামনে আরও রেকর্ড
জোয়ি সালডানাকে আবার দেখা যাবে ‘অ্যাভাটার ৪’ (ডিসেম্বর ২০২৯) ও ‘অ্যাভাটার ৫’–এ (ডিসেম্বর ২০৩১)। অর্থাৎ বক্স অফিসে তাঁর আধিপত্য আরও বাড়বে—এটা বলাই যায়।
ভ্যারাইটি অবলম্বনে