
৩৩ বছর আগে আজকের দিনে (১৯৯৩ সালের ৩১ মে) স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো থেকে লন্ডনের দিকে যাচ্ছিলেন ক্রিয়েশন রেকর্ডসের নির্বাহী অ্যালান ম্যাকগি। তবে নির্ধারিত ট্রেনটি মিস করেন তিনি। কী আর করার, সময় কাটাতে তিনি ঢুকে পড়েন সেখানের একটি কনসার্টে। কিং টাটস ওয়াহ ওয়াহ হাট ভেন্যুতে তাঁর চোখে পড়ে তখনকার তুলনামূলক অপরিচিত ম্যানচেস্টার ব্যান্ড ওয়েসিসের ওপর। আর সেখান থেকেই শুরু হয় ব্যান্ডটির উত্থান।
সেদিন মঞ্চে ‘ওয়েসিস’ মূল আকর্ষণ ছিল না। তবু তাদের ভেতর ম্যাকগি খুঁজে পেয়েছিলেন এমন এক আত্মবিশ্বাস, যার ফলে ব্যান্ডটির সঙ্গে চুক্তি করতে দ্বিতীয়বার ভাবেননি তিনি। সেই এক সিদ্ধান্তই পরবর্তী সময়ে ব্রিটিশ রকসংগীতের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। তবে পরবর্তী সময়ে ম্যাকগি জানান, ট্রেন মিসই প্রধান কারণ নয়, সেখানে যাওয়ার পেছনে ব্যক্তিগত কিছু কারণও ছিল।
‘ওয়েসিস’–এর যাত্রা শুরু হয়েছিল আরও আগে। ১৯৯১ সালে বেজিস্ট পল ম্যাকগুইগান, গিটারিস্ট পল আর্থারস, ড্রামার টনি ম্যাকক্যারল এবং ভোকাল ক্রিস হাটনকে নিয়ে গড়ে ওঠে ব্যান্ড ‘দ্য রেইন’। তবে হাটনের সঙ্গে বাকিদের মতের অমিল তৈরি হলে নতুন ভোকালের খোঁজ শুরু হয়। সেই অডিশনের মাধ্যমেই ব্যান্ডে যোগ দেন লিয়াম গ্যালাগার। তিনিই ব্যান্ডের নাম পরিবর্তন করে রাখেন ‘ওয়েসিস’। পরে তাঁর ভাই নোয়েল গ্যালাগারও যুক্ত হন, যিনি ব্যান্ডের সাউন্ড ও গান লেখার মূল চালিকা শক্তি হয়ে ওঠেন।
১৯৯৩ সালের সেই পারফরম্যান্সের পর দ্রুতই ব্যান্ডটি ক্রিয়েশন রেকর্ডসের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়। এরপর অপেক্ষা ছিল বড় অভিষেকের।
১৯৯৪ সালের ২৯ আগস্ট প্রকাশিত হয় ওয়েসিসের প্রথম অ্যালবাম ‘ডেফিনেটলি মেবি’। প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই এটি ব্রিটিশ সংগীতজগতে ঝড় তোলে। অ্যালবামটিতে থাকা ‘সুপারসনিক’, ‘শেকারমেকার’ এবং বিশেষ করে ‘লিভ ফরএভার’ তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। এটি যুক্তরাজ্যে সেই সময়ের ইতিহাসে সবচেয়ে দ্রুত বিক্রি হওয়া ডেবিউ অ্যালবামের রেকর্ড গড়ে।
‘ওয়েসিস’ শুধু যুক্তরাজ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। অ্যালবামটি যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে সফলতা পায় এবং প্লাটিনাম সনদ অর্জন করে। এই সাফল্যই ব্যান্ডটিকে দ্রুত ব্রিটিশ রক দৃশ্যপটের কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসে।
পরবর্তী ধাপে আসে আরও বড় বিস্ফোরণ। ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত হয় দ্বিতীয় অ্যালবাম ‘হোয়াটস দ্য স্টোরি মর্নিং গ্লোরি’। এই অ্যালবাম ওয়েসিসকে বিশ্বজুড়ে সুপারস্টার বানিয়ে দেয়। ‘ওয়ান্ডারওয়াল’, ‘ডোন্ট লুক ব্যাক ইন অ্যাঙ্গার’ এবং ‘শ্যাম্পেইন সুপারনোভা’–এর মতো গান শুধু চার্টে শীর্ষে ওঠেনি, বরং সময়ের সবচেয়ে আইকনিক রক গানের তালিকায় জায়গা করে নেয়।
অ্যালবামটি যুক্তরাজ্যে মুক্তির প্রথম সপ্তাহেই রেকর্ড ৩ লাখ ৪৫ হাজার কপি বিক্রি হয়। দ্রুতই এটি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে এবং ওয়েসিসকে ব্রিটপপ আন্দোলনের মুখ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
১৯৯৭ সালে আসে তৃতীয় অ্যালবাম ‘বি হেয়ার নাউ’। মুক্তির সঙ্গে সঙ্গেই এটি ইতিহাস গড়ে, ১৫টির বেশি দেশের চার্টে শীর্ষে ওঠে এবং তখনকার সময়ের সবচেয়ে দ্রুত বিক্রি হওয়া অ্যালবামের রেকর্ড করে। যদিও পরবর্তী সময়ে সমালোচনার মুখে পড়ে, তবু বাণিজ্যিকভাবে এটি ছিল বিশাল সফলতা।
সব মিলিয়ে ওয়েসিস বিশ্বব্যাপী ৭৫ মিলিয়নের বেশি রেকর্ড বিক্রি করে, যা তাদের নব্বইয়ের দশকের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যান্ডগুলোর একটিতে পরিণত করে। তাদের গান ব্রিটপপ যুগের এক পুরো প্রজন্মের সাউন্ডট্র্যাক হয়ে ওঠে।
দ্য গার্ডিয়ান অবলম্বেন