২০ আগস্ট অবসর কাটাতে নেপালে যান সংগীতশিল্পী তাসরিফ খান। মোদি খোলার বন্যা ও পাহাড়ধসে বিরেঠাঁটি–ঘান্দ্রুক সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে তাঁদের ফেরার পথ। ফলে সঙ্গীদের নিয়ে পর্যটন গ্রাম ঘান্দ্রুকে আটকা পড়েছেন এই গায়ক।
তাঁরা বুধবারের বড় বিপর্যয়ের মূল এলাকা রাসুয়া–তিব্বত সীমান্তবর্তী অঞ্চলে নেই; ঘান্দ্রুক থেকে ওই এলাকার সরলরেখার দূরত্ব প্রায় ১৫৫ কিলোমিটার। আটকে পড়ার অভিজ্ঞতা ও দেশে ফেরা নিয়ে দুশ্চিন্তার কথা প্রথম আলোকে জানিয়েছেন তাসরিফ। তাঁর বয়ানে সেই অভিজ্ঞতা—
দুই দিন ধরে নেপালের ঘান্দ্রুক গ্রামে আটকে আছি। সবাই সুস্থ থাকলেও কবে এখান থেকে বের হতে পারব, বুঝতে পারছি না।
ঘান্দ্রুক নেপালের গণ্ডকী প্রদেশের কাস্কি জেলার পরিচিত পর্যটন গ্রাম। অন্নপূর্ণ অঞ্চলের এই গ্রাম সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় দুই হাজার মিটার উঁচুতে। আমরা যে এলাকায় আছি, সেখানে বড় ধরনের প্রাণহানি বা ধ্বংসযজ্ঞ দেখিনি। কিন্তু মোদি খোলার বন্যা ও পাহাড়ধসে বিরেঠাঁটি–ঘান্দ্রুক সড়কের একাধিক অংশ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। কোথাও সেতু ভেঙেছে। প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ পথে চলাচল বন্ধ রেখেছে।
বুধবার রাসুয়া–তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় যে বড় বিপর্যয় ঘটেছে, সেটি এখান থেকে অনেক দূরে। তবে নেপালের বিভিন্ন অঞ্চলের দুর্যোগের খবর এবং আমাদের ফেরার পথের অবস্থা দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে।
মঙ্গলবার আমরা ঘান্দ্রুকে এসেছিলাম। বুধবার ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে পৌঁছাতাম। কিন্তু বের হতে কিছুটা দেরি হয়ে যায়। তখন গাইড এসে বলেন, ‘আজ আর যাওয়া যাবে না, বড় ঝুঁকি আছে।’
পরে জানতে পারি, ‘আমরা যে পথ দিয়ে ফিরতাম, সেটির বিভিন্ন অংশ ধসে গেছে। সময়মতো বের হলে হয়তো আমরাও বিপদের মধ্যে পড়তাম। দেরি হওয়াটাই আমাদের রক্ষা করেছে।’
আমাদের গাইড বিকল্প পথের খোঁজ নিতে এবং প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলতে বাইরে গেছেন। তিনি ফিরলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব। আপাতত আরও দুই–তিন দিন এখানে থাকতে হতে পারে। স্থানীয় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখছি। নেপালের বিভিন্ন এলাকায় বহু মানুষের নিখোঁজ হওয়ার খবর তাঁরা জানাচ্ছেন। এই পাহাড়ি এলাকায় শতাধিক পর্যটক আটকা পড়েছেন বলেও তাঁদের কাছে শুনেছি। পর্যটননির্ভর এলাকার বাসিন্দারা নিজেদের জীবিকা নিয়েও চিন্তিত। আমার হাতে অল্প কিছু নেপালি রুপি ও প্রায় ১০০ ডলার আছে। কার্ডে টাকা আছে। এখানে কার্ড বা ডিজিটাল পদ্ধতিতে লেনদেনের সুযোগ খুবই সীমিত। নগদ অর্থ দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। দেশে ফেরার নতুন টিকিটও পাচ্ছি না। স্বাভাবিক সড়কপথ ব্যবহার করা না গেলে নদীর পাশ দিয়ে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা ট্রেকিং করতে হবে। কিন্তু পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসের মধ্যে সেটিও বিপজ্জনক। পরিস্থিতি নিশ্চিত না হয়ে তাই কোনো ঝুঁকি নিতে চাই না।
টানা কাজের পর কয়েক দিনের অবসর কাটাতে নেপালে এসেছিলাম। সম্প্রতি আমার রোমান্টিক ঘরানার মৌলিক গান ‘বৃষ্টি’ মুক্তি পেয়েছে। পাশাপাশি নিয়মিত মঞ্চ পরিবেশনা চলছিল। কাজের ব্যস্ততা থেকে বিরতি নিতেই এই ভ্রমণের পরিকল্পনা করি। দেশে ফিরে রক ঘরানার নতুন গান ‘জীবনের চাকা’র মিউজিক ভিডিও ধারণের পরিকল্পনা ছিল। গানটিতে জীবন, প্রেম ও রাজনৈতিক অস্থিরতার চিত্র উঠে আসবে। কিন্তু এখন অন্য কিছু ভাবতে পারছি না। শুধু নিরাপদে দেশে ফিরতে চাই। সবার কাছে দোয়া চাই, আমরা যেন সুস্থভাবে প্রিয়জনদের কাছে ফিরতে পারি।