‘দেনা পাওনা’ নাটকের দৃশ্য
‘দেনা পাওনা’ নাটকের দৃশ্য

‘দেনা পাওনা’ শেষ হচ্ছে আজ

তাবাচ্ছুম ছোঁয়ার ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট দেনা পাওনা। ধারাবাহিকটির কল্যাণেই দর্শকের কাছে ‘নীপা’ হয়ে ওঠেন তরুণ এই অভিনেত্রী। জনপ্রিয় ধারাবাহিকটি আজ শেষ হচ্ছে। এই তরুণ অভিনেত্রীর কথায়, ‘ভীষণ মন খারাপ লাগছে। দর্শকদের এত ভালোবাসা পেয়েছি, যা বলার মতো না। সবকিছুকে ছাপিয়ে আমরা ছিলাম একটি পরিবার। এই পরিবারকে আমি সব সময় মিস করব।’

‘দেনা পাওনা’ নাটকের দৃশ্য

২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর শুরু হয় ধারাবাহিকটির পথচলা। আস্তে আস্তে নাটকের গল্প ও চরিত্রগুলো দর্শক পছন্দ করতে থাকেন। খাইরুল-নীপা (অ্যালেন শুভ্র ও তাবাচ্ছুম ছোঁয়া) থেকে শওকত মাস্টার (শহীদুজ্জামান সেলিম), শহীদ (মুসাফির সৈয়দ বাচ্চু) প্রতিটি চরিত্র দর্শকের মনে গেথে যায়। পর্দায় যেমন সম্পর্কের গল্প এগিয়েছে, পর্দার বাইরেও পুরো ইউনিট যেন হয়ে গিয়েছিল একটি পরিবার। তাই নাটকটির শেষ প্রান্তে এসে শিল্পী, কলাকুশলী সবাই আপ্লুত।

নির্মাতা কে এম সোহাগ রানা জানান, এই ধারাবাহিক দর্শকদের পছন্দের কারণ, মধ্যবিত্ত পরিবারের সম্পর্কের টানাপোড়েন। নাটকের গল্প, চরিত্রগুলো ছিল চারপাশ থেকে নেওয়া। দর্শক মনে করতেন, চরিত্রগুলো তাঁদের পরিচিত। যে কারণে প্রচারের পর থেকেই দর্শকদের মধ্যে সাড়া পড়ে। জনপ্রিয়তা পাওয়া সেই ধারাবাহিকের গল্প চমক দিয়েই শেষ হচ্ছে। তবে সেই গল্পটা এখনই বলতে চান না পরিচালক।
পরিচালক বলেন, ‘শুটিং ঘিরে আমাদের অনেক আবেগ ও ইমোশন জড়িত। গল্প–আড্ডায় মাসের একটি নির্দিষ্ট সময়ে শুটিং করতাম, দীর্ঘদিন ধরে এ অভ্যাস। কোন পর্বে কী হচ্ছে, এটা নিয়ে দর্শকদের মতো শিল্পী–কলাকুশলীদেরও অনেক আগ্রহ ছিল। শুটিংয়ে এটা উপভোগ করতাম। সবাই আমরা একটা পরিবারের মতো ছিলাম। ক্যামেরার বাইরের এই পরিবারের সেই গল্পটা থেমে যাচ্ছে। দর্শক যে ভালোবাসা দেখিয়েছেন, সেটা ভেবে ভালো লাগছে। ফেসবুকে নাটকের দর্শকদের নিয়মিত মন্তব্য সেই ভালোবাসার কথাই বলে।’

‘দেনা পাওনা’ নাটকের দৃশ্য

চলতি মাসের শুরুর দিকেই আসে নাটকের শেষ পর্বের ঘোষণা। তার পর থেকেই ভক্তদের মধ্যে তৈরি হয় প্রতিক্রিয়া। অনেকেই জানিয়েছেন, দেনা পাওনা দেখাটা তাঁদের অভ্যাসের অংশ হয়ে গিয়েছিল। খাইরুল চরিত্রটি নিয়ে পুলক আহমেদ নামে একজন লিখেছেন, ‘এইটা কোনো কথা হলো, এক বছর ধরে নাটক দেখছি, এত তাড়াতাড়ি শেষ করে দেওয়াটা মানতে পারছি না। খাইরুলের উন্নতি দেখানোর মধ্য দিয়ে শেষ করেন। তাহলে ভালোভাবে আনন্দময় সমাপ্তি হবে।’
শেষ পর্ব কেমন চান, এই নিয়ে কেউ কেউ পরিচালককে পরামর্শও দিয়েছেন। এক ভক্ত লিখেছেন, ‘শেষটা সুন্দর হোক, খাইরুলের বিয়ে, শহীদের অনুশোচনা, তাঁর মা সুস্থ হোক। আর নবাবের গায়েহলুদ হোক।’ নাটকে ভাবির চরিত্র দিয়ে প্রশংসিত হয়েছেন অভিনেত্রী সুষমা সরকার। তাঁর চরিত্র নিয়েও কথা বলেছেন ভক্তরা। কেউ আবার লিখেছেন, ‘ফাইজার আব্বুর অহংকারটা একটু ভেঙে যাক, সেটা দেখতে চেয়েছিলাম।’ এমন সব প্রশ্নের উত্তরের অপেক্ষায় দর্শক।

নির্মাতা সোহাগ রানা মনে করেন, ‘আমাদের জীবন এমনই। অনেক প্রশ্নের উত্তর থাকে না।’ নির্মাতা বলেন, ‘আরও ৫০টা পর্ব যুক্ত করলাম, তখনো কি সব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে? জীবনে কি সব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়? মনে করছি, এটাই শেষ করার উত্তম সময়।’
অভিনেতা মুসাফির সৈয়দ বলেন, ‘আমার কাজগুলো আমার পরিবারের লোকেরাও তেমন একটা দেখে না। একবার সেজ ভাই হঠাৎ করে নানা প্রশ্ন করতে লাগলেন। জেলে যাওয়া ছেলেটা (অ্যালেন শুভ্র) আমার কে হয়। আমি বললাম, গল্পে আমাদের বাসার কাজের লোক। তখন তিনি জানালেন, তাঁর সঙ্গে আমি কেন এমন ব্যবহার করছি। তাঁর ভাই হয়ে আমি কেন একটা ছেলের সঙ্গে এমন ব্যবহার করছি। দিন শেষে দর্শক ভুলে গিয়েছিল এটা নাটক। এটাই প্রাপ্তি।’
এদিকে পরিচালক জানালেন, শেষ হয়েও শেষ হচ্ছে না এই ধারাবাহিক। ঈদে আসছে সাত পর্বের বিশেষ আয়োজন দেনা পাওনা ঈদ স্পেশাল। পরিচালক বললেন, ‘ঈদ স্পেশালের গল্পে কিছুটা ভিন্নতা আছে। এর সঙ্গে মূল ধারাবাহিকের ধারাবাহিকতা নেই।’ নাটকটিতে আরও অভিনয় করেছেন শিল্পী সরকার অপু, মনিরা আক্তার মিঠু, এম এন ইউ রাজু, এজাজুল ইসলাম, এ বি রোকন। সিনেমাওয়ালা এন্টারটেইনমেন্ট ইউটিউব চ্যানেলে এটি প্রচার হয়।