কেয়া পায়েল। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
কেয়া পায়েল। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

‘এরপর কী হবে?’—আত্মীয়দের ফোন, মেহরিনে সাড়া চারদিকে

শুটিং থাকলে খুব ভোরে উঠতে হয়, বাড়ি ফিরতে ফিরতেও মাঝরাত পার হয়ে যায়। ফলে ঘুম হয় কম। বাধ্য হয়েই এখন বিরতি নিয়ে কাজ করছেন কেয়া পায়েল। এমনই এক বিরতির দিনে গতকাল রোববার অভিনেত্রীর সঙ্গে আড্ডা দিয়েছেন নাজমুল হক

অন্য দিন শুটিংয়ের জন্য ভোরে ঘুম ভাঙলেও বিরতির দিনগুলোতে ঘুমের অভাব পূরণ করতে চান কেয়া পায়েল। তাই এদিন ফোনে থাকে না কোনো অ্যালার্ম। দিনটি অভিনেত্রীর কাছে ‘অ্যালার্ম ফ্রি ডে’। ছোট ভাই-বোনদেরও মায়ের বারণ, কোনো শব্দ করা যাবে না। ঘুম ভাঙতে ভাঙতে তাই দুপুর। উঠেই ছোট বোনের সঙ্গে খেলাধুলা, আঁকাআঁকি করেন। বিকেলে নিজের নতুন ব্যবসা বিউটি পারলারে যান। রাতে এসে সবার সঙ্গে আড্ডা দিয়ে খেয়ে আবার ঘুম। কেয়া পায়েল বলেন, ‘ছুটিটা খুব প্রয়োজন। টানা কাজের ক্লান্তি শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রভাব ফেলে। সুস্থ থাকতে ঘুম প্রয়োজন। দুপুরে মা প্রিয় খাবার রান্না করেন, এমন না যে মা ৮-৯ পদ রান্না করেন, মায়ের হাতে একটা শাকভাজিও অনেক মজা। এতেই প্লেটের পর প্লেট ভাত চলে যায়।’

ছুটির দিনে বই-সিনেমা
স্কুল–কলেজে থাকতে প্রচুর বই পড়তেন কেয়া পায়েল। হুমায়ূন আহমেদের বই বেশি পড়া হতো। কেয়া পায়েল বলেন, ‘কিন্তু এখন চিত্রনাট্য পড়তে পড়তে দিন কেটে যায় (হাসি)। তাই আর বই পড়া হয় না। তবে মুদ্রিত বই না পড়লেও বাইরের কোনো বই নিয়ে আলোচনা হলে অনলাইনে কিনে পিডিএফ পড়ার চেষ্টা করি। তবে সিনেমা দেখার অভ্যাস কমেনি, বিদেশের ওটিটির কাজগুলো দেখা হয়। সবশেষ দেখেছি “খোদা হাফেজ”।’

প্রিয় হুমায়ূন আহমেদ
হুমায়ূন আহমেদের নাটক, সিনেমাও ভীষণ পছন্দ। কেয়া পায়েল বলেন, ‘তাঁর নাটক-সিনেমা বারবার দেখি। “দারুচিনি দ্বীপ” আমার ভীষণ প্রিয় সিনেমা, এটায় যদি অভিনয়ের ভাগ্য নিয়ে জন্মাতাম! হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে যাঁরা কাজ করেছেন, ফারুক (আহমেদ) ভাইয়ের কথাই বলি, অনেক কিছু তাঁর সম্পর্কে জানতে চাই।’

কেয়া পায়েল। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

মেহরিনে পরিবারও মুগ্ধ
চারদিকে এখন ধারাবাহিক ‘এটি আমাদেরই গল্প’র প্রশংসা। ফেসবুক ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ঢুকলেই মোস্তফা কামাল রাজের নাটকটি নিয়ে আলোচনা। নাটকে কেয়া পায়েল অভিনীত মেহরিন চরিত্রের জন্য পরিবারের প্রশংসাও পাচ্ছেন অভিনেত্রী। কেয়া পায়েল বলেন, ‘গত ১০ বছরে কোনো কাজ নিয়ে বাবা জানতে চাননি। এটা শুরু হওয়ার পর থেকেই জানতে চান, এরপর কী হবে। আম্মুকে আত্মীয়রা ফোন দিয়ে জানতে চান, এরপর কী? বাবা-মা যখন সন্তানের কোনো কাজকে এভাবে পছন্দ করেন, গর্বিত হন, সন্তানের এর চেয়ে ভালো লাগা আর কী হতে পারে। রাজ ভাইসহ টিমের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা, এমন একটি চরিত্রে আমাকে সুযোগ দেওয়ার জন্য।’

সর্বশেষ ভাইরাল
শনিবার রাতে ফেসবুকে একটি ভিডিও পোস্ট করেন কেয়া পায়েল। সেখানে জানান, জীবনে অনেক চরিত্রে অভিনয় করলেও এটা তাঁর জন্য বিশেষ। ভিডিওতে তাঁকে মানসিক ভারসাম্যহীন এক চরিত্রে দেখা যায়। আরেকটি ভিডিও শেয়ার করেন অভিনেতা ফারহান আহমেদ জোভান। অভিনেতার ভিডিওটি ফেসবুকে ভাইরাল। গতকাল দুপুর পর্যন্ত ভিডিও দেখেছেন ৭৬ লাখের বেশি মানুষ। চরিত্রটি নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে কেয়া বলেন, ‘সম্প্রতি কাজটি শেষ করেছি। ফেসবুকে ভিডিও পাওয়ার পরই এটি নিয়ে অনেক আলোচনা হচ্ছে। অনেকেই লুকের প্রশংসা করছেন। অনেকে এটা নিয়ে মজাও করছেন, মিমস বানাচ্ছেন। একজন শিল্পী হিসেবে সব সময় এমন চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে কাজ করতে চেয়েছি। রিপিট ক্যারেক্টার নিজের কাছেও ভালো লাগে না।’

কেয়া পায়েল। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

প্রেম করছেন?
দুই তারকা একসঙ্গে কাজ করলে তাঁদের নিয়ে প্রেমের গুঞ্জন নতুন কিছু নয়। কেয়া পায়েলের ক্ষেত্রেও এমন হয়েছে। সম্প্রতি যেমন অভিনেতা খায়রুল বাসারের সঙ্গে তাঁর ‘প্রেম’ নিয়ে চর্চা হচ্ছে। বিষয়টি অভিনেত্রীর চোখেও পড়েছে। ফেসবুকে মন্তব্য পড়ে মজাও পেয়েছেন অভিনেত্রী। কেয়া পায়েল বলেন, ‘ফেসবুক এখন প্রচারণার বড় অংশ। কোনো কাজ মুক্তির আগে প্রচারণা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রতিটি কাজের আগেই সে শিল্পীর সঙ্গে আমার ছবি, পোস্ট দেখবেন। যে গল্পে আমি তাঁর প্রেমিকা, সেখানে ক্যাপশন তো প্রেমেরই হবে। রোমান্টিক কাজই তো আসলে আমার বেশি করা হয়। সে হিসেবে দর্শক কিছু জুটি পছন্দ করেন। পছন্দের জুটি নিয়ে ফেসবুকে লেখেন।’

কেয়া পায়েল। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে