
চীনের বক্স অফিসে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে ‘ডিয়ার ইউ’ সিনেমা। পারিবারিক নাট্যধর্মী এই সিনেমা জুনের প্রথম সপ্তাহান্তে আয় করেছে প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার। আইএমডিবির তথ্যে ছবিটির মোট আয় পৌঁছেছে ২৪ কোটি ৮৭ লাখ ডলারে। বাংলাদেশি মুদ্রায় তিন হাজার কোটি টাকার বেশি। সিনেমাটি এ বছরের আলোচিত সিনেমার একটি।
সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন হংচুন লান। সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন সিটং লি, ইয়ানটং ওয়াং, শাওকিং উ। তুলনামূলক স্বল্প বাজেটে নির্মিত হলেও আবেগঘন গল্পের কারণে দ্রুত দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে সিনেমাটি। ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্র প্রত্যন্ত অঞ্চলের এক বৃদ্ধা, ইয়ে শুরোউ। ঋণের চাপে জর্জরিত তাঁর নাতি একদিন থাইল্যান্ডে পাড়ি জমায় কথিত এক বিলিয়নিয়ার দাদার খোঁজে। সেই অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে উন্মোচিত হতে থাকে অর্ধশতাব্দীজুড়ে লুকিয়ে থাকা এক প্রেমের গল্প। সামনে আসে ঐতিহ্যবাহী ডাকব্যবস্থার মাধ্যমে যাঁকে বছরের পর বছর চিঠি লিখতেন ইয়ে শুরোউ, তাঁর পরিচয় আসলে সম্পূর্ণ ভিন্ন।
ভ্যারাইটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিনেমাটির অন্যতম আকর্ষণ প্রবাসী চীনাদের ঐতিহ্যবাহী চিঠি আদান-প্রদানের ইতিহাস। প্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান সময়ে হারিয়ে যাওয়া সেই যোগাযোগব্যবস্থাকে ঘিরে নির্মিত রহস্য ও স্মৃতিময়তা বহু দর্শকের মধ্যে নস্টালজিয়া তৈরি করেছে। বিশেষ করে বয়স্ক দর্শকেরা ছবিটির সঙ্গে নিজেদের অভিজ্ঞতার মিল খুঁজে পাচ্ছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ‘ডিয়ার ইউ’র সবচেয়ে বড় শক্তি এর গল্প। আধুনিক চীনা সমাজে পরিবার, অভিবাসন, বিচ্ছিন্নতা এবং প্রজন্মগত দূরত্ব—এই চারটি বিষয়কে একসঙ্গে তুলে এনেছে ছবিটি। এক বৃদ্ধা নারী, তাঁর ঋণগ্রস্ত নাতি এবং অর্ধশতাব্দী ধরে লুকিয়ে থাকা এক প্রেমের গল্প দর্শকদের নিজেদের জীবনের সঙ্গে সংযোগ খুঁজে নিতে সাহায্য করছে। একই সঙ্গে ‘ডিয়ার ইউ’ পারিবারিক ঘরানার ছবি হলেও এর ভেতরে রয়েছে পরিচয় অনুসন্ধান, ভালোবাসা, অনুশোচনা ও ক্ষমার গল্প।
চীনের সাম্প্রতিক চলচ্চিত্র বাজারে বড় বাজেটের অ্যাকশন বা ফ্যান্টাসি ছবির ভিড়ে ‘ডিয়ার ইউ’ ব্যতিক্রমী। এখানে দর্শকদের আকৃষ্ট করেছে ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট নয়, বরং মানুষের সম্পর্ক, স্মৃতি ও আবেগের গল্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছবিটির সংলাপ, আবেগঘন দৃশ্য এবং সমাপ্তি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
চীনের বক্স অফিস বিশ্লেষকদের ধারণা, স্থানীয় সংস্কৃতি ও পারিবারিক আবেগকে কেন্দ্র করে নির্মিত হওয়ায় ‘ডিয়ার ইউ’ শহর ও গ্রামের দর্শকদের কাছেও সমানভাবে গ্রহণযোগ্য হয়েছে। একই সঙ্গে ছবিটি প্রমাণ করেছে, শক্তিশালী গল্প ও বিশ্বাসযোগ্য চরিত্র থাকলে স্বল্প বাজেটের চলচ্চিত্রও বড় সাফল্য পেতে পারে।
চীনের চলচ্চিত্রশিল্প যখন আয় কমে যাওয়ার চ্যালেঞ্জের মুখে, তখন ‘ডিয়ার ইউ’ দেখিয়ে দিল—দর্শক এখনো এমন গল্প খোঁজেন, যেখানে তাঁরা নিজেদের জীবন, পরিবার ও স্মৃতির প্রতিফলন দেখতে পান।
২০২৬ সালের শুরু থেকে দেশটির বক্স অফিসে আয় দাঁড়িয়েছে ২৩৬ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪২ দশমিক ৩ শতাংশ কম। এমন সময়ে ‘ডিয়ার ইউ’র সাফল্য প্রমাণ করছে, শক্তিশালী গল্প বলার ক্ষমতাই এখনো চীনের বক্স অফিসের সবচেয়ে বড় চালিকা শক্তি। সিনেমাটির বাজেট ১৭ কোটি টাকা।
সূত্র: ভ্যারাইটি ও আইএমডিবি