৪৭তম বিসিএসে পররাষ্ট্র ক্যাডারে প্রথম হয়েছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের স্নাতক তানভীর রহমান
৪৭তম বিসিএসে পররাষ্ট্র ক্যাডারে প্রথম হয়েছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের স্নাতক তানভীর রহমান

কীভাবে দুশ্চিন্তামুক্ত থেকেছেন পররাষ্ট্র ক্যাডারে প্রথম তানভীর

৪৭তম বিসিএসে পররাষ্ট্র ক্যাডারে প্রথম হয়েছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের স্নাতক তানভীর রহমান। তাঁর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ফুয়াদ পাবলো

প্রশ্ন

বিসিএস দেওয়ার ইচ্ছা কবে, কীভাবে হলো?

তানভীর রহমান: আমি মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজের ছাত্র ছিলাম। সিনিয়রদের সবাইকে দেখতাম হয় সামরিক বাহিনী, না হয় ইঞ্জিনিয়ারিং, মেডিক্যাল বা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিতে। তাঁদের দেখেই মূলত প্রকৌশল পড়ার ইচ্ছা জাগে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পরপরই শুরু হয় কোভিড। বিশ্ববিদ্যালয়ে আবার যখন ক্লাস করতে আসি, তখন আমাদের বুয়েট ফুটবল কমিউনিটির সোয়াদ ভাইকে ৪১তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে যোগদান করতে দেখি। তখন থেকেই হয়তো বিসিএস–ভাবনা একটা জায়গা করে নিয়েছিল। আর চতুর্থ বর্ষের শুরুতে এ ব্যাপারে একটু বেশি মনোযোগী হই।

প্রশ্ন

প্রস্তুতির ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ কৌশল কি ছিল?

তানভীর রহমান: আসলে নির্দিষ্ট কোনো কৌশল ছিল না। মাস্টার্স ও একটা চাকরি পাশাপাশি করেছি বলে সময় ব্যবস্থাপনার দিকে একটু বেশি মনোযোগ দিতে হয়েছে। খুব বেশি না পারলেও প্রতিদিনই অল্প করে পড়া এগিয়ে রাখার চেষ্টা করেছি। হোক সেটা ৪ ঘণ্টা বা ৩০ মিনিট। আমি ভাগ্যে বিশ্বাস করি। যদি ১০ শতাংশ আমার প্রচেষ্টা হয়, বাকি ৯০ শতাংশই আমার তাকদির।

প্রশ্ন

পরীক্ষার সময় কীভাবে দুশ্চিন্তামুক্ত থেকেছেন?

তানভীর রহমান: বন্ধুবান্ধব ও সিনিয়রদের দিক দিয়ে আমি বেশ ভাগ্যবান। ক্যাডেট কলেজ ও বুয়েটে পড়েছি বলে আমার সার্কেলও বেশ বড়। প্রায় সময়ই ফুটবল খেলতে যেতাম। হয় এক্স ক্যাডেট কমিউনিটি, নয় বুয়েট ফুটবল কমিউনিটির সঙ্গে। পরিবারের সদস্যদের সমর্থনের পাশাপাশি এই বিষয়টা আমাকে অনেকটাই নির্ভার রেখেছে। আর সব সময় নামাজ পড়ার চেষ্টা ও ছোটখাটো কিছু ইবাদত মানসিক প্রশান্তিতে বেশ সাহায্য করেছে।

প্রশ্ন

আপনি তো বিসিএসের প্রস্তুতির পাশাপাশি অন্য চাকরি করেছেন। অনেকে আবার সব বাদ দিয়ে শুধু বিসিএসের প্রস্তুতিই নেন। আপনার কী মনে হয়, কোনটা করা উচিত?

তানভীর রহমান: আমার ক্ষেত্রে চাকরি করাটা বেশ জরুরি ছিল। কারণ, আমাদের ডিপার্টমেন্টের বন্ধুবান্ধব প্রায় সবাই মোটামুটি কোনো না কোনো চাকরিতে বেশ দ্রুতই ঢুকে পড়েছে। চাকরি ছাড়া শুধু বিসিএসের পেছনে লেগে থাকলে হয়তো কোনো এক সময় মানসিক অশান্তিতে ভুগতাম। পাশাপাশি গ্রামে থাকার কারণে এলাকার লোকজনেরও বেশ প্রত্যাশা ছিল আমাকে নিয়ে। সব মিলিয়ে আমি বলব এটা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। আমার ক্ষেত্রে যেমন চাকরিতে ঢোকাটাই ভালো ছিল। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছি। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ শিক্ষকদের ব্যক্তিগত উন্নয়নের জন্য বেশ সহায়ক।

প্রশ্ন

যদি পররাষ্ট্র ক্যাডারে যোগ দেন, ভবিষ্যতে হয়তো আপনাকে অনেক জটিল সিদ্ধান্ত নিতে হবে। জীবনের যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে আপনার ‘কম্পাস’ কী?

তানভীর রহমান: আমার বিশ্বাস আমাদের প্রতিটি কাজের জন্যই আমাদের জবাবদিহি করা লাগবে। যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে করা না লাগলেও সৃষ্টিকর্তার কাছে অবশ্যই করা লাগবে। সুতরাং এই জবাবদিহির বাধ্যবাধকতাটাই আমার কাছে মূল কম্পাস। পাশাপাশি সেসব সিদ্ধান্তই নিতে হবে, যা আমার দেশ ও আমাদের স্বার্থের পক্ষে থাকবে।

প্রশ্ন

বিসিএসে না হলে কী করতেন?

তানভীর রহমান: আমি শিক্ষকতা বেশ উপভোগ করি। আমার বাবাও একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। বিসিএসের পাশাপাশি বর্তমানে মাস্টার্স করছি বুয়েটের সিএসই বিভাগে। ৫০তম বিসিএসের রিটেন পরীক্ষাও দিয়েছি। এবার না হলে হয়তো আরও একবার চেষ্টা করতাম। তত দিনে আমার মাস্টার্সও শেষ হয়ে যেত। তখন হয়তো কোনো সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার সুযোগ খুঁজতাম। অবশ্য জীবন পরিবর্তনশীল, সিদ্ধান্তগুলোও পরিবর্তনশীল।

প্রশ্ন

আপনার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময় কোনটা ছিল?

তানভীর রহমান: উচ্চমাধ্যমিক পাস করার পর বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির সময়টাকেই সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং বলব। এর পেছনে বেশ কয়েকটা কারণ আছে। প্রথমত ক্যাডেট কলেজের চেনা গণ্ডি থেকে বের হয়ে একদম অজানা এক জগতের মুখোমুখি হতে হয় আমাদের। দ্বিতীয়ত, ভর্তি পরীক্ষায় সাধারণত সেকেন্ড চান্স থাকে না, যেমন বুয়েটে দ্বিতীয়বার পরীক্ষা দেওয়া যায় না। পাশাপাশি কলেজে ভালো ফলাফল থাকায় প্রত্যাশাও বেশি ছিল। সুতরাং ওই সময়টা বেশ প্রতিকূল ছিল। প্রচুর অনুশীলনের পাশাপাশি এই সময় পরিবারের সমর্থন ও মহান আল্লাহর ওপর বিশ্বাসই আমাকে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে।