
ডিজিটাল মার্কেটিং বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ভালো কনটেন্ট তৈরি করাই যথেষ্ট নয়। পোস্ট করার সময়, দর্শকের অভ্যাস, অ্যালগরিদমের কার্যপ্রণালি এবং দর্শকের সঙ্গে যোগাযোগ—সবকিছুই রিচ ও ভিউ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী এক দশকের মধ্যে প্রতি তিনজনে একজন হবেন পেশাদার কনটেন্ট ক্রিয়েটর। প্রতি পরিবারে কমপক্ষে একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটর থাকবেই। তাই সবারই থাকবে একটাই চাওয়া, আর তা হলো ভাইরাল হওয়া।
আমারই বন্ধু ১০টায় একটি ভিডিও প্রকাশ করে লাখো ভিউ পায়। আবার একই অনুষ্ঠানের একই ভিডিও একই সময়ে আমি পোস্ট করে তেমন সাড়া পাই না। তাই প্রশ্ন জাগল, এর পেছনে তাহলে কি নির্দিষ্ট কোনো সময়, দিন বা কৌশল আছে?
বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিশ্লেষণ করে, এমন প্রতিষ্ঠানের গবেষণায় দেখা গেছে, সপ্তাহের মাঝামাঝি, বিশেষ করে মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতিবার এনগেজমেন্ট তুলনামূলক বেশি থাকে। বাংলাদেশের মতো দেশে সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১০টার মধ্যে বেশির ভাগ ব্যবহারকারী সক্রিয় থাকেন। এটিই সাধারণভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ‘প্রাইম টাইম’।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের চেয়েও ‘আপনার নিজের অডিয়েন্স কখন অনলাইনে থাকেন’, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্ল্যাটফর্মের অ্যানালাইটিকস নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা উচিত।
সাম্প্রতিক বছরগুলোয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদমে বড় পরিবর্তন এসেছে। এখন শুধু লাইক নয়, ভিডিও কতক্ষণ দেখা হচ্ছে, কতজন শেয়ার করছেন, কতজন সেভ করছেন কিংবা মন্তব্য করছেন—এসব বিষয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
যেসব কনটেন্ট সাধারণত ভালো ফল করে—
সংক্ষিপ্ত ও আকর্ষণীয় ভিডিও, পোস্ট
বাস্তব জীবনের গল্প বা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা (স্টোরিটেলিং)
‘কীভাবে করবেন’ ধরনের তথ্যবহুল পোস্ট
চলমান ঘটনা বা ট্রেন্ডভিত্তিক কনটেন্ট
দর্শকের অংশগ্রহণ বাড়ায়, এমন প্রশ্ন বা আলোচনা
ডিজিটাল বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, নির্দিষ্ট সময়ে পোস্ট করলেই ভাইরাল হওয়ার নিশ্চয়তা নেই। অ্যালগরিদম এখন ব্যবহারকারীর আগ্রহ অনুযায়ী কনটেন্ট দেখায়। ফলে দর্শকদের মানসিক চাহিদা বোঝার কোনো বিকল্প নেই। মানসম্মত, মৌলিক ও দর্শকের জন্য মূল্যবান কনটেন্টই দীর্ঘ মেয়াদে ভালো ফল দেয়।
ইনস্টাগ্রাম
মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে বেলা ২টা। শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টা। রিলস ও স্টোরিজের জন্য সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ভালো ফল দেয়। এ সময় অনেকেই অবসর সময়ে বিনোদনমূলক কনটেন্ট দেখেন।
ফেসবুক
বুধবার থেকে শুক্রবার, সকাল ৯টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত পোস্ট করলে তুলনামূলক ভালো রিচ পাওয়া যায়। বিশেষ করে মধ্যসকালের সময়ে (সকালের নাশতা সেরে চা খেতে খেতে অনেকেই ফেসবুকে ঢুঁ মারেন) সাধারণ কনটেন্টের এনগেজমেন্ট বেশি দেখা যায়।
লিংকডইন
মঙ্গল ও বুধবার সকাল ৮টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত সময় সবচেয়ে কার্যকর। কর্মদিবসের শুরুতে, কাজের চাপ বাড়ার আগে পেশাজীবীরা বেশি সক্রিয় থাকেন।
টিকটক
মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার বেলা ২টা থেকে বিকেল ৫টা অথবা সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত পোস্ট করলে ভালো ফল পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এ সময় ব্যবহারকারীদের সক্রিয়ভাবে ভিডিও স্ক্রল করার প্রবণতা বেশি থাকে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদম এখন ‘এনগেজমেন্ট ভেলোসিটি’ বা পোস্ট প্রকাশের পর কত দ্রুত লাইক, মন্তব্য, শেয়ার ও অন্যান্য প্রতিক্রিয়া আসছে, সেটিকে গুরুত্ব দেয়। তাই আপনার অনুসারীরা যখন সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকেন, ঠিক সেই সময় পোস্ট করলে শুরুতেই বেশি প্রতিক্রিয়া পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। এতে পোস্টটি আরও বেশি মানুষের নিউজফিডে দেখানোর সুযোগ তৈরি হয়।
সব গবেষণা একটি সাধারণ ধারণা দেয়, কিন্তু সবার জন্য একই সময় কার্যকর নয়। তাই নিজের পেজ বা অ্যাকাউন্টের অ্যানালাইটিকস (ইনসাইটস) দেখে অনুসারীরা কখন সবচেয়ে বেশি অনলাইনে থাকেন, সেটি বিশ্লেষণ করাই সবচেয়ে ভালো উপায়। আর যদি বিভিন্ন দেশের দর্শককে লক্ষ্য করে পোস্ট করেন, তাহলে ‘হটস্যুইট’-এর মতো সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট টুল ব্যবহার করে নির্ধারিত সময়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পোস্ট প্রকাশ করতে পারেন।
সূত্র: স্প্রাউট সোশ্যাল ও রাডার