উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিল্পীদের পোশাকও আলাদা করে নজর কাড়ে
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিল্পীদের পোশাকও আলাদা করে নজর কাড়ে

বাংলাদেশি ডিজাইনারদের চোখে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী মঞ্চের সেরা পোশাক

এবারের বিশ্বকাপের উদ্বোধনী আয়োজনে অংশ নেওয়া শিল্পীদের বিভিন্ন লুক নিয়ে কথা বলেছেন বাংলাদেশের ফ্যাশন ডিজাইনাররা। চলুন জানা যাক কোন শিল্পীর পোশাক এগিয়ে আছে তাঁদের চোখে।  

ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬–এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বরাবরই সংগীত, নাচ আর প্রযুক্তিনির্ভর মঞ্চায়নের জন্য আলোচনায় থাকে। তবে এসবের পাশাপাশি শিল্পীদের পোশাকও আলাদা করে নজর কাড়ে। কখনো রঙের ব্যবহার, কখনো নকশার সূক্ষ্মতা, আবার কখনো একটি পোশাকের মধ্যেই উঠে আসে কোনো দেশের সাংস্কৃতিক পরিচয়।

গাঢ় মেরুন রঙের টেইলরড স্যুটের হাতাজুড়ে ছিল বেঙ্গল টাইগার, শাপলা ফুল ও জাতীয় পতাকার লাল বৃত্ত

সাসটেইনেবল ফ্যাশন ডিজাইনার ও শিক্ষক আফসানা ফেরদৌসীর মতে, সবচেয়ে ভালো ছিল বাংলাদেশি শিল্পী সঞ্জয় দেবের পোশাক। তিনি বলেন, ‘সঞ্জয়ের পোশাকটি বিশেষভাবে ভালো লেগেছে। গাঢ় মেরুন রঙের টেইলরড স্যুট পরেছিলেন সঞ্জয়, হাতাজুড়ে ছিল সূক্ষ্ম ও নান্দনিক এমব্রয়ডারি। এই নকশায় বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক বেঙ্গল টাইগার, শাপলা ফুল ও জাতীয় পতাকার লাল বৃত্ত সৃজনশীলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। পোশাকটি কেবল একটি পারফরম্যান্স কস্টিউম নয়, এটি ছিল বাংলাদেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও জাতীয় গর্বের এক আধুনিক প্রকাশ। আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের শিকড়কে এত সুন্দরভাবে তুলে ধরা সত্যিই প্রশংসনীয়। বিশেষ করে ঐতিহ্যবাহী প্রতীকগুলোকে সমসাময়িক ডিজাইনের সঙ্গে একীভূত করার যে প্রচেষ্টা দেখা গেছে, তা পোশাকটিকে আরও অর্থবহ ও স্মরণীয় করে তুলেছে। আমার কাছে এই ডিজাইনের সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হলো, এর গল্প বলার ক্ষমতা। এটি প্রমাণ করে যে ফ্যাশন শুধু সৌন্দর্যের বিষয় নয়, বরং একটি দেশের পরিচয়, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরার একটি শক্তিশালী মাধ্যম।’

কানাডায় বিশ্বকাপের উদ্বোধনী মঞ্চে বাংলাদেশের সঞ্জয় দেব

ফ্যাশন ডিজাইনার ইমাম হাসানও পছন্দ করেছেন বাংলাদেশি শিল্পী সঞ্জয় দেবের পোশাক। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশীয় সংস্কৃতিকে তুলে ধরার এই প্রচেষ্টা ছিল দারুণ। পোশাকের হাতায় বেঙ্গল টাইগারের মোটিফসহ বাংলাদেশি ঐতিহ্যের বিভিন্ন উপাদান ব্যবহার নজর কেড়েছে।

ডিজাইনার তাসমিত আফিয়াতের ডিজাইন করা জার্সি স্থান পেয়েছে ফিফা মিউজিয়ামে। তাঁর মতে, ফিফা বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ফুটবল দল খেলতে না পারলেও সৃজনশীল কাজের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক এই মঞ্চে বাংলাদেশের উপস্থিতি ছিল। সঞ্জয় দেবের পোশাকটিই তাঁর কাছে ভালো লেগেছে। সঞ্জয়ের পোশাকের হাতায় বেঙ্গল টাইগার ও শাপলার প্রতীক সুনিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এ ছাড়া নোরা ফাতেহির পোশাকটির রং এবং বড় বড় মোটিফ দূর থেকেও ক্যামেরায় স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে। এটিও ভালো লেগেছে তাসমিয়া আফিয়াতের। কারণ, দূর থেকেই সবাই বুঝতে পেরেছে পোশাকের নকশা ও কাট।

কানাডায় বিশ্বকাপের উদ্বোধনী মঞ্চে কানাডীয় শিল্পী নোরা ফাতেহি

ডিজাইনার সঙ্গীতা ওয়াহিদের পছন্দ ছিল নোরা ফাতেহির পোশাক। লাল-সাদার ডুয়াল টোনে একধরনের খেলোয়াড়সুলভ ভাব পোশাকটির মধ্যে খুঁজে পেয়েছেন। তাঁর মতে, নোরা নিজের স্টাইল বজায় রেখেছেন। অতিরিক্ত জাঁকজমকের পথে হাঁটেননি। বরং মিনিমাল নকশা ও স্পোর্টি সিলুয়েট পারফরম্যান্সের সঙ্গে মানানসই একটি ভিজ্যুয়াল তৈরি করেছে। নোরা ফাতেহি ও বাংলাদেশের সঞ্জয় দেবের যুগল পরিবেশনাও ছিল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ। তাঁদের উপস্থিতি ও পোশাকের সামঞ্জস্য পুরো পরিবেশনাকে আরও পরিপূর্ণ করে তুলেছে বলে মনে করেন তিনি।

সানগ্লাস চোখে পারফরমারদের নিয়ে ‘দাই দাই’ গানের সুর ধরেন শাকিরা

ফ্যাশন হাউস ‘ক্যানভাস’–এর ফ্যাশন ডিজাইনার তন্বী কবিরের কাছে সবচেয়ে ভালো লেগেছে বিশ্বখ্যাত গায়িকা শাকিরার উজ্জ্বল হলুদ পোশাক। তাঁর কাছে এই লুকের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক ছিল রঙের ব্যবহার। তিনি বলেন, ‘হলুদ রংটি পুরো পারফরম্যান্সে একধরনের প্রাণশক্তি এনে দিয়েছে বিশ্বকাপের মঞ্চে। শাকিরার উপস্থিতির নিজস্ব একটি আবহ আছে, আর এই পোশাক সেই পরিচিত আবহকেই আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।’