শীতকাল এলেই ত্বকের স্বাভাবিক ভারসাম্যে বেশ কিছু পরিবর্তন আসে। বাতাসে আর্দ্রতা কমে যাওয়ার কারণে ত্বক দ্রুত শুষ্ক হয়ে পড়ে, যার প্রভাব পড়ে ত্বকের উজ্জ্বলতা, টেক্সচার এবং স্কিন টোনের ওপর। অনেকের ক্ষেত্রেই এ সময় দাগ–ছোপ স্পষ্ট হয়ে ওঠে, স্কিন টোন অসম দেখায় এবং ত্বক হয়ে পড়ে রুক্ষ ও নিষ্প্রাণ। তাই এ সময়ে ত্বকের জন্য বাড়তি যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। এগুলোকে সাময়িক সমস্যা মনে হলেও সঠিকভাবে যত্ন না নিলে এগুলো দীর্ঘমেয়াদি রূপ ধারণ করতে পারে। অথচ সহজ একটি স্কিনকেয়ার রুটিন অনুসরণ ও সঠিক পণ্যের ব্যবহারে শীতকালেও নরম, মসৃণ ও উজ্জ্বল ত্বক পাওয়া সম্ভব। শীতে এলেই কেন বেড়ে যায় দাগ-ছোপ ও অসম টোনের মতো সমস্যাগুলো? এসব সমস্যা থেকে পরিত্রাণের সহজ উপায়ই–বা কী?

শীতকালে ত্বকের পানিশূন্যতা বেড়ে যায়, ফলে ত্বকের কোষগুলো ঠিকমতো পুনরুজ্জীবিত হতে পারে না। এতে মৃত কোষ জমে গিয়ে ত্বকের ওপরের স্তর নিস্তেজ ও রুক্ষ হয়ে ওঠে। পাশাপাশি সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি, ধুলাবালি, দূষণ এবং অনিয়মিত স্কিনকেয়ার রুটিনের কারণে ত্বকে মেলানিন উৎপাদন বেড়ে যায়, যা দাগ–ছোপ ও পিগমেন্টেশনের মূল কারণ। ফলে ত্বকের টোন অসম হয়ে পড়ে এবং মুখের বিভিন্ন অংশে কালচে ছোপ দেখা দেয়।
১. মৃদু ক্লিনজিং দিয়ে দিন শুরু করুন
শীতকালে ত্বক পরিষ্কার রাখা জরুরি হলেও অতিরিক্ত হার্শ ক্লিনজার ব্যবহার ত্বকের প্রাকৃতিক তেল নষ্ট করে দেয়। তাই এমন সময় মাইল্ড ও ময়েশ্চারাইজিং ক্লিনজার ব্যবহার করা উচিত, যা ত্বক পরিষ্কার করার পাশাপাশি স্বাভাবিক আর্দ্রতা বজায় রাখে। এ ছাড়া দিনে দুবার ফেসওয়াশ করলেই যথেষ্ট এবং খুব গরম পানি দিয়ে মুখ ধোয়া এড়িয়ে চলাই ভালো।
২. হাইড্রেশন ও ময়েশ্চারাইজেশন
শীতে পারফেক্ট স্কিনের মূল চাবিকাঠি হলো সঠিক হাইড্রেশন। ত্বককে ভেতর থেকে আর্দ্র রাখতে ভালো মানের লোশন ব্যবহার অপরিহার্য। এ ক্ষেত্রে ভ্যাসলিন গ্লুটা হায়া ফ্ললেস গ্লো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। এতে থাকা গ্লুটা গ্লো টেকনোলজি ভিটামিন সি’র চেয়েও ১০ গুণ বেশি শক্তিশালী, যা ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে সহায়তা করে। পাশাপাশি এর প্রো-রেটিনল মৃত কোষ তুলে ফেলে স্কিন টোন ইভেন করতে সাহায্য করে। শীতে তো বটেই, মসৃণ, নরম ও দাগ–ছোপবিহীন ত্বক পেতে বছরজুড়েই ব্যবহার করতে পারেন এই লোশন।
৩. সপ্তাহে ১–২ বার এক্সফোলিয়েশন
শীতে ত্বকের ওপর মৃত কোষ জমে গেলে ত্বক দেখায় নিস্তেজ ও রুক্ষ। তাই সপ্তাহে এক থেকে দুই বার হালকা এক্সফোলিয়েশন ত্বকের জন্য জরুরি। এতে মৃত কোষ উঠে গিয়ে ত্বক আরও পরিষ্কার ও উজ্জ্বল দেখায় এবং স্কিন কেয়ার পণ্যগুলো ভালোভাবে শোষিত হয়। তবে অতিরিক্ত স্ক্রাব ব্যবহার করলে ত্বক সংবেদনশীল হয়ে যেতে পারে, তাই মাইল্ড এক্সফোলিয়েন্ট বেছে নেওয়া উচিত।
৪. শীতেও ব্যবহার করতে হবে সানস্ক্রিন
শীতকালেও সূর্যের অতিবেগুনি (ইউভি) রশ্মি ত্বকের ক্ষতি করতে পারে এবং দাগ–ছোপ ও পিগমেন্টেশন বাড়াতে পারে। তাই বাইরে বের হওয়ার আগে নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহার করা জরুরি। এটি ত্বকের রঙের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং অকাল বার্ধক্যের ঝুঁকি কমায়।
৫. খাবারের তালিকা ঠিক রাখুন
শীতে ‘পারফেক্ট স্কিন’ পেতে হলে বাহ্যিক যত্নের পাশাপাশি ভেতর থেকেও ত্বকের যত্ন নেওয়া জরুরি। পর্যাপ্ত পানি পান, মৌসুমি ফল ও শাকসবজি খাওয়া, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ কম রাখা—এসব অভ্যাস ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।
৬. স্কিনকেয়ারে ধারাবাহিকতা বজায় রাখুন
ত্বকের যত্নে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ধারাবাহিকতা। নিয়মিত সঠিক স্কিনকেয়ার রুটিন মেনে চললে ধীরে ধীরে ত্বকের টেক্সচার, উজ্জ্বলতা ও স্কিন টোনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে।