ঈদে বাড়ির সাহায্যকারী ছুটি নিচ্ছেন? কীভাবে সব সামলাবেন

পবিত্র রমজান মাসের শেষ সময়টায় ঘরের কাজ যেন হঠাৎ করেই কয়েক গুণ বেড়ে যায়। ঘর পরিষ্কার, রান্নার আয়োজন, ঈদের দিনের মেহমানদারি—সব মিলিয়ে ব্যস্ততা থাকে তুঙ্গে। এর মধ্যে যদি বাসার সাহায্যকারী ব্যক্তিটি ঈদের ছুটিতে চলে যান, তাহলে অনেকের জন্যই পরিস্থিতি বেশ চ্যালেঞ্জিং হয়ে ওঠে। তবে একটু পরিকল্পনা করে আগেভাগে কিছু কাজ গুছিয়ে রাখলে এই চাপ অনেকটাই কমানো সম্ভব।

গভর্নমেন্ট কলেজ আব অ্যাপ্লায়েড হিউম্যান সায়েন্সের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও এন্টারপ্রেনিউরশিপ বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান রীনাত ফওজিয়া বলছিলেন, যদি ঈদের সময় হেল্পিং হ্যান্ড বা বাসার সাহায্যকারী ছুটিতে থাকে, তাহলে ঈদের আগে থেকেই একটু একটু করে কাজ গুছিয়ে নিলে ভালো হয়। আগেই বাসার সাহায্যকারীকে দিয়ে ঘরদোরের পর্দা, সোফার কভার ধুয়ে, ইস্ত্রি করে লাগিয়ে নেবেন। পর্দা খুলে ফেলার দিনই সেসব জায়গা থেকে ময়লা পরিষ্কার করে ফেলা ভালো। শো-কেসে তুলে রাখা তৈজসপত্র ও বাসন-কোসন আগেই ধুয়ে শুকিয়ে রাখলে মেহমান এলে তাড়াহুড়া ও ছুটোছুটি করতে হবে না। আয়না, কাচের দরজা জানালা গ্লাস ক্লিনার দিয়ে আগেভাগেই পরিষ্কার করিয়ে নেবেন।

বাড়িতে সাহায্যকারী থাকলে আগে থেকেই ঘর গোছানোর পরিকল্পনা করে রাখুন

রান্নার জন্য আদা, রসুন, পেঁয়াজ খোসা ছাড়িয়ে, কেটে ব্লেন্ডারে বা শিলপাটায় পিষে পরিমাণমতো ভাগ করে বক্স বা জিপলক ব্যাগে করে তুলে ডিপ ফ্রিজে রেখে দিলে কাজ এগোবে। কাবাব, রোল, শিঙাড়া, সমুচা, চপ, চিকেন বল এমন ধরনের খাবারগুলো তৈরি করে কাঁচা অবস্থায় বক্স বা জিপলক ব্যাগে ভরে ডিপ ফ্রিজে সংরক্ষণ করে রাখুন। ঈদে বাসায় অতিথি এলে খাবারটি ডিপ ফ্রিজ থেকে বের করে কিছুক্ষণ রেখে বরফ ছড়িয়ে ভেজে নিন।

বগুড়ার আমানা বাজারের বিক্রয়কর্মী মাসুমা আকতার জানালেন বেশ কিছু গেজেটের খোঁজ, যেগুলো কাজে লাগিয়ে সাহায্যকারী না থাকলেও ঈদের রান্নার কাজ সহজে করা যাবে। পোলাও, বিরিয়ানি, খিচুড়ি রান্না করতে অনায়াসে রাইস কুকার কাজে লাগানো যায়। আবার মাল্টি কুকার ব্যবহার করে মাংস, মাছ, রোস্ট, মমো এভাবে রান্না করা যাবে অনায়াসে। ছোট, মাঝারি, বড় মাপের মাল্টিকুকার পাওয়া যায় বাজারে।

কাবাব, রোল, শিঙাড়া, সমুচা, চপ, চিকেন বল এমন ধরনের খাবারগুলো তৈরি করে কাঁচা অবস্থায় বক্স বা জিপলক ব্যাগে ভরে ডিপ ফ্রিজে সংরক্ষণ করে রাখুন

এয়ার ফ্রায়ার ব্যবহার করে যেকোনো কাবাব, চিকেন ফ্রাই, ফিশ ফ্রাই, নাগেটস, ফ্রেঞ্চ ফ্রাইয়ের মতো ভাজাভুজি কম তেলে স্বাস্থ্যকর উপায়ে ভাজা যায়। এসব গেজেট ব্যবহার করতে চাইলে গ্যাসের চুলা নয়, প্রয়োজন ইলেকট্রিক লাইনসহ সুইচবোর্ড ও প্লাগ। কারণ, প্রতিটি গেজেটে রান্না বসিয়ে সময় সেট করে দিলে রান্না শেষে স্বয়ংক্রিয়ভাবে গেজেট বন্ধ হয়ে যাবে।
যাদের এসব গেজেট নেই, আবার বাসায় রান্নার গ্যাসের সমস্যা রয়েছে তারা ব্যবহার করতে পারেন ইলেকট্রিক চুলা। হাঁড়ি রাখার জায়গা সমান ও কিছুটা গর্তসহ এমন চুলা যেমন আছে, তেমনি পুরোপুরি গ্যাসের চুলার আদলে তৈরি ইলেকট্রিক চুলাও রয়েছে।
সবজি, সালাদ ও পেঁয়াজ কাটাকুটিকে সহজ করতে ভেজিটেবল কাটার, ফুড প্রসেসর, ভেজিটেবল চপার ও স্লাইসার ব্যবহারে মিলবে আরাম। ইলেকট্রিক ও ম্যানুয়াল দুটোই পাওয়া যায়, সুবিধামতো নিয়ে নিতে পারেন।

এয়ার ফ্রায়ার ব্যবহার করে যেকোনো কাবাব, চিকেন ফ্রাই, ফিশ ফ্রাই, নাগেটস, ফ্রেঞ্চ ফ্রাইয়ের মতো ভাজাভুজি কম তেলে স্বাস্থ্যকর উপায়ে ভাজা যায়। এসব গেজেট ব্যবহার করতে চাইলে গ্যাসের চুলা নয়, প্রয়োজন ইলেকট্রিক লাইনসহ সুইচবোর্ড ও প্লাগ। কারণ, প্রতিটি গেজেটে রান্না বসিয়ে সময় সেট করে দিলে রান্না শেষে স্বয়ংক্রিয়ভাবে গেজেট বন্ধ হয়ে যাবে।

ঈদের দিন চটজলদি রান্না করা যায়—এমন স্বাস্থ্যকর সহজ খাবার টেবিলে রাখুন

যাদের এসব গেজেট নেই, আবার বাসায় রান্নার গ্যাসের সমস্যা রয়েছে তারা ব্যবহার করতে পারেন ইলেকট্রিক চুলা। হাঁড়ি রাখার জায়গা সমান ও কিছুটা গর্তসহ এমন চুলা যেমন আছে, তেমনি পুরোপুরি গ্যাসের চুলার আদলে তৈরি ইলেকট্রিক চুলাও রয়েছে।
সবজি, সালাদ ও পেঁয়াজ কাটাকুটিকে সহজ করতে ভেজিটেবল কাটার, ফুড প্রসেসর, ভেজিটেবল চপার ও স্লাইসার ব্যবহারে মিলবে আরাম। ইলেকট্রিক ও ম্যানুয়াল দুটোই পাওয়া যায়, সুবিধামতো নিয়ে নিতে পারেন।
খাওয়া শেষে গ্লাস, প্লেট, হাঁড়ি মাজার ঝক্কি থেকে বাঁচতে ইলেকট্রিক ডিশ ওয়াশার দেবে একেবারেই মুক্তি। মসলা বাটাবাটির জন্য ইলেকট্রিক ব্লেন্ডার ব্যবহারে সময় সাশ্রয় হবে। আর বাড়িঘরের ধুলাবালি পরিষ্কার করতে ইলেকট্রিক ভ্যাকুয়াম ক্লিনার দারুণ কাজের জিনিস।
সব মিলিয়ে, আগেভাগে কিছু প্রস্তুতি ও প্রয়োজনীয় রান্নাঘরের গেজেট ব্যবহার করলে ঈদের মতো ব্যস্ত সময়েও রান্না ও ঘর গুছিয়ে রাখার কাজ অনেকটাই সহজ হয়ে যায়।