
নিজের মনের মতো শখের কিছু বানিয়ে নিতে চান? থ্রিডি প্রিন্টারে নিজের পছন্দের ম্যাটেরিয়াল দিয়ে এখন যেকোনো জিনিস বানিয়ে নেওয়া অনেক সহজ। কিন্তু প্রোটোটাইপ বা প্রয়োজনীয় জিনিসটি কোথায় ডিজাইন বা প্রিন্ট করাবেন, খরচই–বা কেমন পড়বে? কোথায় পাবেন থ্রিডি প্রিন্টিং সার্ভিস আর প্রযুক্তিটি নিজে শিখতে চাইলে কোথায় যাবেন? জানুন বিস্তারিত।
বেশ কিছুদিন ধরে হেডফোনটা রাখার জন্য একটা সুন্দর স্ট্যান্ড খুঁজছি। কিন্তু বাজারে মনের মতো তেমন কিছুই পাচ্ছি না। যাও–বা দু–একটা পছন্দ হয়, সেসবের দাম আবার হেডফোনের চেয়েও বেশি।
তখন ভাবলাম, ইশ্, যদি নিজে নিজেই একটা স্ট্যান্ড বানিয়ে নিতে পারতাম! আমাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রায়ই অনেক শখের বা কাজের জিনিসের ক্ষেত্রে এমনটা মনে হয়। নিজে নিজে কিছু বানিয়ে ফেলার এই ইচ্ছায় থ্রিডি প্রিন্টার এক বড় মুশকিল আসান।
যন্ত্রটি নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করতে গিয়ে বেশ কিছু তথ্য জানলাম। এটি আদতে কীভাবে কাজ করে, নিজে নিজে কীভাবে থ্রিডি ডিজাইন করা যায়, কোথায় এসব করা যায় আর খরচই–বা কেমন। সব মিলিয়ে এক দারুণ ব্যাপার। ভাবলাম, এই চমৎকার প্রযুক্তি নিয়ে অনেকেরই হয়তো আমার মতো কৌতূহল আছে। সেই ভাবনা থেকেই এই লেখা।
থ্রিডি প্রিন্টার অনেকটা সাধারণ প্রিন্টারের মতোই। তবে এটি কাগজে ছাপানোর বদলে প্লাস্টিক, ধাতু বা কার্বন ফাইবারের মতো উপাদান ব্যবহার করে কোনো বস্তু তৈরি করে।
যন্ত্রটি একটির ওপর একটি স্তর বসিয়ে আস্ত একটা বাস্তব বস্তু তৈরি করে ফেলে।
এমনকি একই সঙ্গে ধাতু ও প্লাস্টিকের মিশ্রণেও কোনো জিনিস বানানো সম্ভব।
আগে যেমন ছবি তোলার জন্য আলোকচিত্রীর কাছে যেতে হতো, এখন আমরা নিজেরাই ফোনে ছবি তুলি; থ্রিডি প্রিন্টিংও ঠিক তেমন। এখন অন্য কারও সাহায্য ছাড়াই নিজের কল্পনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়া যায় থ্রিডি প্রিন্টিংয়ে।
এই প্রযুক্তির শুরুটা হয়েছিল কল্পগল্প থেকে। মার্কিন সায়েন্স ফিকশন লেখক মারে লেইনস্টার ১৯৪৫ সালে তাঁর একটি ছোটগল্পে প্রথম এমন এক যন্ত্রের কথা বলেছিলেন, যা গলিত প্লাস্টিক ব্যবহার করে ড্রয়িংকে বাস্তবে রূপ দিতে পারে।
সেই কল্পনা সত্যি হয় ১৯৮৩ সালে। মার্কিন উদ্ভাবক চাক হাল অতিবেগুনি রশ্মি ব্যবহার করে তরল পদার্থকে শক্ত করার কৌশল আবিষ্কার করেন। তিনি এর নাম দিয়েছিলেন স্টেরিওলিথোগ্রাফি। মূলত কারখানায় বা গবেষণাগারে নতুন ডিজাইনের ছোট ছোট যন্ত্রাংশ দ্রুত তৈরি করাতেই এটি উদ্ভাবন করেছিলেন হাল।
পরে হাল ‘থ্রিডি সিস্টেমস’ নামে নিজের একটি কোম্পানি গড়ে তোলেন। গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল এমনকি মহাকাশ গবেষণা সংস্থাগুলোও এই প্রযুক্তির বিশাল সম্ভাবনা দেখে দ্রুত এটি ব্যবহার শুরু করে। সেখান থেকেই মূলত আজকের থ্রিডি প্রিন্টিং।
থ্রিডি প্রিন্টিং হয় ধাপে ধাপে। প্রথমে কম্পিউটারে একটি থ্রিডি বা ত্রিমাত্রিক নকশা করতে হয়। এর জন্য ব্যবহার করা হয় ক্যাড, রাইনো বা এ রকম আরও বেশ কিছু সফটওয়্যার।
ডিজাইন শেষ হলে কম্পিউটার প্রোগ্রাম প্রিন্টিংয়ের জন্য সেটিকে হাজার হাজার পাতলা স্তরে বা স্লাইসে ভাগ করে ফেলে।
এরপর প্রিন্টারটি নিচ থেকে ওপরের দিকে একটির পর একটি স্তর যোগ করতে থাকে। এই পদ্ধতিকে বলে অ্যাডিটিভ ম্যানুফ্যাকচারিং।
সাধারণ প্রিন্টারে কালি থাকলেও এখানে ব্যবহার করা হয় থার্মোপ্লাস্টিক ফিলামেন্ট। এটি দেখতে সরু তারের মতো, যা তাপে গলে গিয়ে স্তর তৈরি করে।
প্রিন্টিং শুরু হলে একটা বোর্ডের ওপর স্তরগুলো একটির ওপর আরেকটি শক্তভাবে লেগে যায়। এটি এতটাই নিখুঁত যে জটিল বস্তু বা যন্ত্রাংশও সরাসরি প্রিন্ট হয়ে বেরিয়ে আসে।
যেহেতু প্রিন্টারটি ঠিক যতটুকু দরকার, ঠিক ততটুকুই প্লাস্টিক ব্যবহার করে, তাই এতে কোনো অপচয় হয় না।
বলতে গেলে, থ্রিডি প্রিন্টার দিয়ে নিজের মনের মতো প্রায় যেকোনো কিছুই তৈরি করা সম্ভব। বড় কোনো যন্ত্রের ছোট্ট অংশ থেকে শুরু করে খেলনা, ঘর সাজানোর জিনিস—সবই বানানো যায়। আমাদের দেশের অনেক তরুণ উদ্যোক্তা এখন ঘরে বসেই থ্রিডি প্রিন্টিং নিয়ে কাজ করছেন।
তবে মাথায় রাখতে হবে, সব থ্রিডি প্রিন্টার কিন্তু এক মাপের হয় না। কিছু আছে পড়ার টেবিলে রাখার মতো ছোট, আবার কিছু আছে অনেক বড়।
প্রায় সাত ধরনের থ্রিডি প্রিন্টার থাকলেও সবচেয়ে জনপ্রিয় হলো ফিউজড ডিপোজিশন মডেলিং (এফডিএম)। এসব বেশ দামি হটমেল্ট গ্লু গানের মতো কাজ করে। প্লাস্টিক গলিয়ে স্তরে স্তরে আস্ত মডেল প্রিন্ট করে। যদিও বাংলাদেশে অনেক বড় বা অতি সূক্ষ্ম কোনো জিনিস প্রিন্ট করা এখনো কিছুটা চ্যালেঞ্জিং। তবে এফডিএম ধাচের প্রিন্ট সহজে করা যায়।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) স্থাপত্য বিভাগের শিক্ষার্থী বৃন্ত বিশ্বাস পড়াশোনার খাতিরেই থ্রিডি প্রিন্টিংয়ের সঙ্গে যুক্ত হন। নিজের করা ডিজাইন বাস্তবে দেখার শখ থেকেই তিনি আর তাঁর দুই বন্ধু মিলে শুরু করেছেন ‘ডট. ক্রিয়েশনস’ নামের একটি থ্রিডি প্রিন্টিং সার্ভিস। তাঁরা ডায়োরামা ও স্কেল মডেল, স্থাপত্য মডেল প্রোটোটাইপসহ আরও অনেক কিছু থ্রিডি ডিজাইন ও প্রিন্ট করেন।
এই প্রযুক্তিতে এখন ড্রোনের ফ্রেম, হেডফোন স্ট্যান্ড, চাবির রিং, পেনসিল হোল্ডার কিংবা প্রিয় কার্টুন চরিত্রের ছোট মডেল অনায়াসেই বানানো যাচ্ছে। এমনকি হারিয়ে যাওয়া রিমোটের ব্যাটারির কভার, ড্রোনের প্রপেলার কিংবা রোবোটিকস প্রজেক্টেরের বডি তৈরির ঝামেলাও কমিয়ে দিয়েছে থ্রিডি প্রিন্টার। এ ছাড়া আধুনিক ডিজাইনের ফুলদানি, ল্যাম্পশেড, দেয়ালের শোপিস কিংবা অদ্ভুত সব ক্রিয়েটিভ ইলিউশন খেলনাও এখন ঘরে বসেই তৈরি করা যাচ্ছে।
যেকোনো জিনিস থ্রিডি প্রিন্ট করার জন্য সবার আগে প্রয়োজন একটি ডিজিটাল নকশা বা থ্রিডি ফাইল। আপনার কাছে যদি এসটিএল, ওবিজে, থ্রিডিএম বা এসটিইপি ফরম্যাটের কোনো ফাইল থাকে, তবে সেটি দিয়ে সরাসরি প্রিন্ট করা সম্ভব। চাইলে ইন্টারনেট থেকে এ ধরনের ফাইল একদম ফ্রিতে ডাউনলোড করে নিতে পারেন।
অনলাইনে থিংগিভারস (Thingiverse), প্রিন্টেবলস (Printables) বা কাল্টসথ্রিডির (Cults3D) মতো ওপেন সোর্স কমিউনিটিগুলোয় পছন্দের জিনিসের নকশা খুঁজে পাবেন। সেখান থেকে ফাইলটি ডাউনলোড করে যেকোনো থ্রিডি প্রিন্টিং সার্ভিস সেন্টারে নিয়ে গেলেই তারা আপনাকে সেটি বানিয়ে দেবে।
আপনার কাছে যদি কোনো রেডিমেড থ্রিডি ফাইল না থাকে, চিন্তার কিছু নেই। আপনার কাছে থাকা কোনো রেফারেন্স ছবি বা হাতে আঁকা সাধারণ স্কেচ থেকেও এখন থ্রিডি প্রিন্ট করা সম্ভব। দক্ষ ডিজাইনাররা সেই ছবি দেখে কম্পিউটারে নিখুঁত থ্রিডি মডেল তৈরি করে দিতে পারেন।
বর্তমানে থ্রিডি প্রিন্টিং আরও সহজ হয়ে গেছে এআইয়ের জন্য। এখন বিভিন্ন সফটওয়্যার ব্যবহার করে যেকোনো সাধারণ ছবি থেকে সরাসরি থ্রিডি মডেল তৈরি করে ফেলা যায়।
থ্রিডি প্রিন্টার বিভিন্ন ধরনের হলেও আমাদের দেশে বর্তমানে সবচেয়ে সহজলভ্য হলো এফডিএম প্রিন্টার। যন্ত্রটি প্লাস্টিকের সরু তার বা ফিলামেন্টকে তাপে গলিয়ে স্তরে স্তরে সাজিয়ে যেকোনো জিনিস তৈরি করে ফেলে।
যাঁরা শখের বশে নিজের জন্য এমন একটি প্রিন্টার কিনতে চান, তাঁরা সাধারণত ৩০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে কয়েক লাখ টাকার মধ্যে বাজারে এসব পেয়ে যাবেন।
নিজে প্রিন্টার না কিনে বাইরে থেকে কোনো মডেল প্রিন্ট করিয়ে নিতে চাইলে বাংলাদেশে খরচ সাধারণত নির্ধারিত হয় মডেলটির ওজনের ওপর।
অর্থাৎ পছন্দের জিনিসটি তৈরি করতে কত গ্রাম ফিলামেন্ট লাগছে, তার ওপর ভিত্তি করে দাম ধরা হয়। অনেক সময় ফিলামেন্টের গুণগত মান ও মডেলটি তৈরি করতে প্রিন্টারের কতক্ষণ সময় লাগছে, তার ওপরও খরচ কমবেশি হতে পারে।
খরচ নির্ধারণের ক্ষেত্রে আরেকটি বিষয় হলো ডিজাইন। আপনার কাছে যদি আগে থেকেই থ্রিডি ডিজাইন করা না থাকে এবং সার্ভিস সেন্টারকে সেটি তৈরি করে দিতে হয়, তবে তার জন্য আলাদা চার্জ দিতে হতে পারে।
এ ছাড়া প্রিন্ট করার পর সেটিকে ঘষেমেজে মসৃণ করা বা রং করার মতো কাজ থাকলে খরচ কিছুটা বাড়তে পারে। সাধারণ ছোটখাটো মডেল ২০০ থেকে ১ হাজার টাকার মধ্যেই অনায়াসেই তৈরি করে নেওয়া যায়। বর্তমানে এই প্রযুক্তি অনেক দ্রুত হওয়ায় অর্ডার দেওয়ামাত্র এক থেকে দুই দিনের মধ্যেই জিনিসটি হাতে পেয়ে যাবেন।
আপনার কাছে থ্রিডি ডিজাইন বা আইডিয়া থাকলে তা প্রিন্ট করাতে ঢাকায় বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। এসব প্রতিষ্ঠান সাধারণত ডিজাইন অনুযায়ী ফিলামেন্ট বা রেজিন দিয়ে নিখুঁত মডেল তৈরি করে দেয়। নিচে এমন কিছু প্রতিষ্ঠানের খোঁজ দেওয়া হলো।
থ্রিডি প্রিন্টিং হাব
থ্রিডি প্রিন্টিং ও ম্যানুফ্যাকচারিং সেবা দেয় থ্রিডি প্রিন্টিং হাব। সাধারণ ব্যবহারকারী, ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান কিংবা বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান—সবার জন্যই অটোমোটিভ এবং মেডিকেল–শিল্পের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে ম্যানুফ্যাকচারিং সাপোর্ট দেয়।
কাস্টম থ্রিডি প্রিন্টিং, প্রোটোটাইপ তৈরি ও সিলিকন মোল্ডিংয়ের মতো আধুনিক সব সুবিধা আছে তাদের। তবে থ্রিডি প্রিন্টিং হাবে সবচেয়ে বেশি অর্ডার আসে মেকানিক্যাল যন্ত্রাংশ এবং স্থপতিদের জন্য আর্কিটেকচারাল মডেল তৈরির।
এ ছাড়া শৌখিনদের জন্য তারা তৈরি করে চমৎকার সব ছোট খেলনা বা মিনি টয় ফিগার। কুরিয়ারের মাধ্যমে সারা দেশে হোম ডেলিভারির সুবিধা আছে।
থ্রিডি প্রিন্টিং হাব গয়নার নকশা তৈরি ও সিরামিকের তাপসহনশীল শক্তিশালী যন্ত্রাংশও বানায়। সিটি এনজিওগ্রাম থেকে মানবদেহের হাড়, ফুসফুস কিংবা হৃৎপিণ্ডের থ্রিডি মডেলও তৈরি করছে, যা অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি এবং রোগনির্ণয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ ছাড়া পাটের আঁশ দিয়ে পরিবেশবান্ধব উপাদান তৈরি কিংবা গবেষণার জন্য বিশেষ মাইক্রোফ্লুইডিকস চিপ তৈরিতেও কাজ করছে।
কাপঝাপ স্টুডিও
বুয়েটের স্থাপত্য বিভাগের শিক্ষার্থীদের হাত ধরে শুরু হওয়া এই স্টুডিওর মূল লক্ষ্য আর্কিটেকচারাল মডেল তৈরি করা। তবে তারা ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোটোটাইপ, ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ের প্রপস কিংবা ঘর সাজানোর শৌখিন জিনিসও প্রিন্ট করে দেয়।
এই স্টুডিও ব্যবহার করে ব্যাম্বুল্যাবের মতো বিশ্বের সব উন্নত মানের থ্রিডি প্রিন্টার। এ ছাড়া চীনে সরাসরি সোর্স থাকায়, তারা সব ধরনের ফিলামেন্টও সরবরাহ করে। প্রতি গ্রাম মাত্র ৫ থেকে ১০ টাকা হিসাবে তারা প্রিন্ট করে দেয়।
আর পেশাদার প্রকল্পের ক্ষেত্রে কাজের ধরন বুঝে দাম নির্ধারণ করা হয়। ঢাকার ভেতরে অনেক সময় তারা একই দিনে ডেলিভারি দেয়, আর ঢাকার বাইরে পৌঁছাতে সময় লাগে মাত্র এক থেকে দুই দিন। এমনকি দেশের বাইরেও মডেল পাঠানোর সুবিধা আছে।
প্রোটোটাইপ বিডি
নতুন কোনো প্রকল্পের প্রোটোটাইপ তৈরিসহ লেজার কাটিং, সিএনসি মেশিনিং এবং থ্রিডি ডিজাইনিংয়ের মতো সব আধুনিক সেবা দেয়। এমনকি যাঁরা নিজেরা থ্রিডি প্রিন্টিং নিয়ে কাজ করতে চান, তাঁদের জন্য উন্নত মানের থ্রিডি প্রিন্টার মেশিনও বিক্রি করে। এখানে খরচ সাধারণত ডিজাইনের জটিলতা, আকার এবং প্রিন্ট করার সময়ের ওপর নির্ভর করে।
ছোট বা সাধারণ কোনো পার্ট প্রিন্ট করতে সাধারণত ২০০ থেকে ১ হাজার টাকার মতো খরচ হয়। এ ক্ষেত্রে প্রতি গ্রাম ফিলামেন্টের জন্য ধরা হয় ৫ টাকা। তবে বড় বা জটিল মডেলের ক্ষেত্রে কাজের ধরন বুঝে দাম নির্ধারিত হয়।
অনলাইনে এসটিএল বা ওবিজে ফাইল পাঠিয়ে সারা বাংলাদেশ থেকেই অর্ডার করা যায়। কাজ শেষে তারা কুরিয়ারের মাধ্যমে আপনার ঠিকানায় পণ্য পৌঁছে দেবে। ইঞ্জিনিয়ারিং প্রজেক্টের উপাদান ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্টসও তৈরি করে প্রোটোটাইপ বিডি।
আর্কেন
আপনার কাছে কোনো থ্রিডি ফাইল না থাকলেও চিন্তার কিছু নেই। স্রেফ একটি ছবি বা হাতে আঁকা স্কেচ দিলেই আর্কেন সেটা থেকে নিখুঁত মডেল তৈরি করে দিতে পারে। আর্কেন মূলত আর্কিটেকচারাল মডেল, অ্যাকশন ফিগার ও কাস্টম গিফট আইটেম তৈরি করে।
প্রিন্টের সঙ্গে গ্রাহকের পছন্দ অনুযায়ী প্রতিটি মডেলে হাতে রং করে দেয়, যা মডেলটিকে জীবন্ত করে তোলে।
আর্কেন পিএলএ, পিইটিজি, এবিএস, টিপিইউর মতো ফিলামেন্টও ব্যবহার করে। ফিলামেন্টের ওজন অনুযায়ী প্রতি গ্রামের খরচ মাত্র দেড় থেকে ২ টাকা। তবে মূল দাম নির্ভর করে মডেলের আকার, প্রিন্টিং সময় ও ডিজাইন তৈরির পরিশ্রমের ওপর।
স্থাপত্যের শিক্ষার্থী হওয়ায় যেকোনো জটিল নকশা তৈরিতে তারা বেশ পারদর্শী। সারা দেশ থেকেই আর্কেনে অনলাইনে অর্ডার করা সম্ভব।
এ ছাড়া ত্রিমাত্রিক ও জোকেই ওয়ার্কস নামের প্রতিষ্ঠান দুটিও থ্রিডি প্রিন্টিংয়ে এখন বেশ ব্যস্ত।
কোথায় পাবেন থ্রিডি প্রিন্টিং সার্ভিসথ্রিডি প্রিন্টিং শিখতে চাইলে দুটি জিনিস জানতে হবে। প্রথমটি কম্পিউটারে ডিজাইন করা বা মডেলিং এবং দ্বিতীয়টি হলো সেই ডিজাইনকে প্রিন্টারের ভাষায় রূপান্তর করা, অর্থাৎ স্লাইসিং। ভয়ের কিছু নেই, এসব শেখা এখন অনেক সহজ।
শেখার সবচেয়ে বড় মাধ্যম ইন্টারনেট। ইউটিউবে টিংকারক্যাড (Tinkercad) শুরু করার জন্য সেরা, ব্লেন্ডার (Blender) বা ফিউশন ৩৬০ (Fusion 360) লিখে সার্চ করলে হাজার হাজার ফ্রি টিউটোরিয়াল পাবেন। শুরুতে টিংকারক্যাড দিয়ে ছোট ছোট খেলনা বা চাবির রিং ডিজাইন করা শিখতে পারেন।
রাজধানীর ইএমকে সেন্টার মাঝেমধ্যেই থ্রিডি প্রিন্টিংয়ের ওপর কর্মশালা আয়োজন করে। এ ছাড়া ঢাকায় বেশ কিছু প্রাইভেট রোবোটিকস একাডেমি আছে, যারা হাতে–কলমে এই প্রযুক্তির প্রশিক্ষণ দেয়।
থ্রিডি প্রিন্টিংয়ের ওপর বিশ্বের নামী সব বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের তৈরি করা চমৎকার কিছু কোর্স অনলাইনে পাওয়া যায়। গুগল ও মাইক্রোসফটের লার্নিং প্ল্যাটফর্মগুলোয় এই প্রযুক্তির বেসিক কোর্সগুলো থাকে, যা একদম ফ্রিতেও করা যায়।
সরকারিভাবে বিনা মূল্যে থ্রিডি প্রিন্টিং শিখতে চাইলে বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র (বিটাক) একটি চমৎকার জায়গা। প্রতিষ্ঠানটি মূলত দেশের শিল্প খাতকে দক্ষ করার জন্য কাজ করে। এখানে আধুনিক থ্রিডি প্রিন্টিং ও ডিজাইনের ওপর কোর্স করানো হয়।