জলপাইগুড়ির ‘গ্ল্যামারাস লেডি’ তনুশ্রী এখন বিগ বস বাংলার ‘ঠোঁট কাটা’ প্রতিযোগী

কয়েক বছর আগেও তাঁর পরিচয় ছিল মা ও গৃহিণী। করোনার পর হঠাৎ নিজের সক্ষমতা যাচাই করতে চাইলেন। প্রথমে ফেসবুক লাইভে এসে শাড়ি, গয়না ও অনুষঙ্গ বিক্রি শুরু করলেন। লাইভে তাঁর স্বতস্ফূর্ত কথাবার্তায় দ্রুতই পরিচিতি পেতে শুরু করেন। বিক্রি বাড়তে থাকায় অফলাইন দোকানও খোলেন। এবার তিনি বিগ বস বাংলার বদৌলতে আরও পরিচিত। ভারতের উত্তরবঙ্গের ছোট্ট জেলা জলপাইগুড়ির মেয়ে তনুশ্রী রায় দাস। সব পরিচয় ছাপিয়ে যিনি এখন বাঙালির ঘরে ঘরে পৌঁছে গেছেন সত্যি কথা উঁচু গলায় বলার কারণে। এখানে রইল তনুশ্রীর একগুচ্ছ ছবি  

তনুশ্রী রায় দাসের বিয়ে হয়ে যায় খুব ছোটবেলায়। তখন তাঁর বয়স মাত্র ১৬ বছর। তবে বিয়ের পরও নিজের পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন। সংসার আর সন্তান সামলেও তিনি স্কুল–কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে ভূগোলে উচ্চশিক্ষা নেন প্রসন্নদেব মহিলা মহাবিদ্যালয় থেকে
ছবি: ফেসবুক/তনুশ্রী রায় দাস
সবকিছুর মধ্যেও তাঁর ইচ্ছা ছিল নিজের পায়ে দাঁড়ানোর। সেই স্বপ্নই সঙ্গী করে ধীরে ধীরে তৈরি করেছেন নিজের পরিচয়। আর এবার সেই লড়াইয়ের গল্পই তাঁকে পৌঁছে দিয়েছে ‘বিগ বস বাংলা’র ঘরে
এরপর কয়েক বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে লাইভে এসে শাড়ি, গয়না বিক্রি শুরু করেন। লাইভে তনুশ্রীর কথা বলার ধরন ও স্বতঃস্ফূর্ত যোগাযোগের কারণে বিক্রির পাশাপাশি বাড়তে থাকে ফলোয়ারে সংখ্যাও
অনলাইন ব্যবসার পাশাপাশি প্রায় এক বছর আগে বোনকে সঙ্গে নিয়ে জলপাইগুড়ির মার্চেন্ট রোডে খুলে ফেলেন নিজের বুটিক। সেখান থেকে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত ছাড়াও বাংলাদেশে শাড়ি আসে। তবে এখনো (বিগ বসে আসার আগপর্যন্ত) বুটিক থেকে নিয়মিত অনলাইন ক্রেতাদের জন্য লাইভ করেন তনুশ্রী। ছবিতে নিজের বুটিকে মেয়ের সঙ্গে
বিগ বসে আসার পর সঞ্চালক ক্রিকেটার সৌরভ গাঙ্গুলী তনুশ্রীকে মা, ব্যবসায়ী ছাড়াও একজন ‘গ্ল্যামারাস লেডি’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন। তনুশ্রী নিজেও সৌরভকে চিমটি কেটে বোঝার চেষ্টা করেন তাঁর বিগ বসে আসার বিষয়টা সত্যি কি না
বিগ বসের বাড়িতে প্রথম দিন থেকে দুই মাস হলো যে কজন প্রতিযোগী আছেন, তাঁদের মধ্যে একজন তনুশ্রী। যেখানে তাঁর উঁচু গলার প্রতিবাদ দর্শকও পছন্দ করছেন। আর বাড়ির সদস্যরা তনুশ্রীর খাবারের প্রেমে পড়েছেন। ‘রান্নাঘরে তনুশ্রী আছেন মানে, না খেয়ে থাকতে হবে না’—এই ধারণা জন্মেছে বাকি সদস্যদের মধ্যে
তনুশ্রী বিগ বসের বাড়িতে যাওয়ার আগে তাঁর ফেসবুকে অনুসারী ছিল ষাট হাজারের মতো। তবে এখন সেটা বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৩৪ হাজার (২৭ অক্টোবর পর্যন্ত)। তাঁর খেলা দর্শক পছন্দ করেছেন, তবে এই সপ্তাহে তিনি ‘নমিনেট’ হয়েছেন বাড়ির আরেক সদস্য সৌরভের মাধ্যমে। তাই বিগ বসের বাড়িতে টিকে থাকতে হলে এই সপ্তাহে দর্শকের পর্যাপ্ত ভোট পেতে হবে তনুশ্রীকে
ব্যবসা, সন্তান, সংসার ছেড়ে সুদূর মুম্বাইয়ে বিগ বসের সেটে আছেন তনুশ্রী। আর তাই নিয়মিত ক্যামেরার সামনে এসে মেয়েকে মিস করছেন বলে জানান। তাঁর ১৫ বছরের মেয়ে তনুপ্রিয়া নবম শ্রেণিতে পড়ছে। এক সাক্ষাৎকারে মেয়েও জানায়, মায়ের অনুপস্থিতির কারণে মাঝেমধ্যে ‘ইমোশনাল’ হয়ে পড়ছে সে–ও
তনুশ্রীর কাছে প্রথম যখন বিগ বস থেকে ফোন আসে, তিনি তখন বোন জয়শ্রীসহ কলকাতায় ছিলেন ব্যবসার কাজে। শুরুতে বিশ্বাসই করতে পারেননি, শেষে স্টার জলসার অফিসে গিয়ে বিশ্বাস হয় সবকিছু। আর এখন তো দেশ–বিদেশের হাজার হাজার দর্শকের প্রিয় খেলোয়াড় হয়ে উঠেছেন তনুশ্রী রায় দাস
তাঁর এই জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ, কারও কিছু পছন্দ না হলে সেটা মুখের ওপর বলে ফেলা ও উঁচু গলায় প্রতিবাদ এবং ঝগড়া! অনলাইনে তাই অনেকে বিগ বসের ভিডিওর নিচে তনুশ্রীকে ‘ঠোঁট কাটা’ বলে ডাকতে শুরু করেছেন