অধিকাংশ প্যান্ট বা ব্যাগের চেইনে কেন এই তিনটি অক্ষর লেখা থাকে

একটু খেয়াল করলেই দেখবেন, বেশির ভাগ প্যান্ট বা জ্যাকেটের জিপার বা চেইনে তিনটি ইংরেজি অক্ষর লেখা আছে—YKK। এই তিনটি অক্ষরের মানে কী? কেন পৃথিবীর অর্ধেকের বেশি চেইনে এই নামটা লেখা থাকে? এর পেছনের গল্পটা কী?

YKK মানে কী

সারা পৃথিবীতে যত চেইন তৈরি হয়, তার প্রায় অর্ধেকই বানায় YKK
ছবি: উইকিমিডিয়া কমনস

YKK একটি জাপানি কোম্পানির নাম। এর পুরো নাম ‘ইয়োশিদা কোগিও কাবুশিকিকাইশা’। ইংরেজিতে এর মানে ইয়োশিদা কোম্পানি লিমিটেড। এই কোম্পানি প্রতিবছর প্রায় এক হাজার কোটি চেইন বানায়।

অর্থাৎ সারা পৃথিবীতে যত চেইন তৈরি হয়, তার প্রায় অর্ধেকই বানায় তারা! ওই কোম্পানির হিসাব অনুযায়ী, তারা প্রতিবছর ৩০ লাখ কিলোমিটার লম্বা চেইন তৈরি করে। এই চেইন দিয়ে পুরো পৃথিবীকে ৮০ বারের বেশি পেঁচিয়ে ফেলা যাবে!

চেইনের গায়ে এমন নাম থাকে কেন

চেইনের গায়ে এই তিনটি অক্ষর তাদের ব্র্যান্ডের লোগো বা সিল। YKK দেখলে যে কেউই বুঝতে পারে, এটা কোন কোম্পানির তৈরি। ১৯৩৪ সালে জাপানের টোকিও শহরে তাদাও ইয়োশিদা নামের এক ব্যক্তি এই কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন।

তখনকার চেইন বানানোর পদ্ধতিগুলো তাঁর মোটেও পছন্দ ছিল না। তাই তিনি নিজেই চেইন বানানো শুরু করেন। শুরুর দিকে কোম্পানিটি শুধু সেনাবাহিনীর পোশাক ও প্যারাস্যুটের জন্য চেইন বানাত।

কিন্তু এখন পোশাক, ব্যাগ থেকে শুরু করে সব জায়গায় তাদের তৈরি চেইন দেখা যায়।

চেইনের উদ্ভাবক কে

১৮৯০-এর দশকে হুইটকম্ব এল জাডসন নামের এক মার্কিন উদ্ভাবক জুতার জন্য হুক দেওয়া একধরনের ফাস্টেনার বা আটকে রাখার জিনিস তৈরি করেন। দেখতে অনেকটা চেইনের মতো হলেও দুই পাশ একসঙ্গে টেনে আনার জন্য এতে কোনো হাতল ছিল না।

আমরা এখন যে আধুনিক চেইন বা জিপার ব্যবহার করি, তার উদ্ভাবক হিসেবে জিডিওন সুন্ডবেক নামের এক সুইডিশ-মার্কিন প্রকৌশলীকেই কৃতিত্ব দেওয়া হয়।

১৯০৯ সালে তিনি জার্মানিতে এই যন্ত্রের প্রথম পেটেন্ট নেন। এরপর ১৯১৭ সালে সেপারেবল ফাস্টেনার নামে এর আরেকটি পেটেন্ট পান। এটাই আমাদের আজকের পরিচিত চেইন।

অসাধারণ মান ও নিখুঁত গঠনের জন্য YKK–র চেইন এত বিখ্যাত

YKK এত বিখ্যাত কেন

অসাধারণ মান ও নিখুঁত গঠনের জন্য এই কোম্পানির চেইন এত বিখ্যাত। এই কোম্পানির কারখানায় চেইন বানানোর প্রতিটি কাজ নিজেদের ভেতরেই হয়। ধাতু গলানো থেকে শুরু করে প্যাকেট করা পর্যন্ত তারা নিজেরাই করে।

হঠাৎ চেইন নষ্ট হয়ে গেলে ভীষণ বিরক্তি লাগে। একটা দামি পোশাক বা ব্যাগ শুধু চেইন নষ্ট হওয়ার কারণে বাতিল হয়ে যায়।

যেসব কোম্পানি পোশাক বা ব্যাগ বানায়, তারা ব্যাপারটা খুব ভালো করেই বোঝে। এ জন্যই তারা চোখ বন্ধ করে YKK-এর ওপর ভরসা করে। কারণ, তারা জানে, এই কোম্পানির চেইন সহজে নষ্ট হবে না।

বিখ্যাত মার্কিন ফ্যাশন ডিজাইনার ট্রিনা টার্ক একবার ‘স্লেট’ পত্রিকাকে বলেছিলেন, ‘আগে কম দামি চেইন ব্যবহার করে আমরা বেশ ঝামেলায় পড়েছিলাম। এখন আমরা শুধু YKK ব্যবহার করি।

কোনো ক্রেতা যখন ২০০ ডলার দিয়ে একটা প্যান্ট কিনবেন, তখন তার চেইনটাও ভালো হওয়া চাই। কারণ, চেইন ছিঁড়ে গেলে ক্রেতা চেইনটিকে নয়; বরং পুরো প্যান্টের নির্মাতাকেই দোষ দেবেন!’

কোথায় দেখা যায় এই চেইন

একটু খুঁজলেই আপনার আশপাশে YKK চেইন লাগানো কোনো না কোনো জিনিস ঠিকই পেয়ে যাবেন

আপনি কে বা কোথায় থাকেন, সেটা কোনো ব্যাপার নয়। একটু খুঁজলেই আপনার আশপাশে YKK চেইন লাগানো কোনো না কোনো জিনিস ঠিকই পেয়ে যাবেন। প্যান্ট, জুতা, ব্যাকপ্যাক, স্কুবা ডাইভিংয়ের পোশাক, ব্যাগপাইপের কভার, এমনকি পুরোনো দিনের বিখ্যাত হার্মিস ব্র্যান্ডের দামি হ্যান্ডব্যাগেও এই চেইন দেখা যায়।

সূত্র: রিডার্স ডাইজেস্ট