আপেল পরিষ্কার করার সবচেয়ে সহজ ও নিরাপদ উপায় হলো প্রবহমান পানিতে ভালোভাবে ধোয়া
আপেল পরিষ্কার করার সবচেয়ে সহজ ও নিরাপদ উপায় হলো প্রবহমান পানিতে ভালোভাবে ধোয়া

আপেল ধোয়ার সঠিক উপায় কী

ছোটবেলায় আপেল খেতে চাইলে মা আগে পানিতে একটু ধুয়ে তারপর আঁচল বা গামছায় মুছে দিতেন—‘নাও।’ তখন মনে হতো, এতেই বুঝি আপেল একদম পরিষ্কার হয়ে গেছে। আজও অনেক সময় আমরা আপেল খাওয়ার আগে হয়তো এমনটা করি। কিন্তু প্রশ্ন হলো—এভাবে ধুলেই কি আপেল খাওয়ার জন্য নিরাপদ থাকে? যদি নিরাপদ না হয়, তাহলে আপেল পরিষ্কারের সবচেয়ে ভালো ও নিরাপদ উপায় কী? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিয়েছেন কানাডার অন্টারিওর ইউনিভার্সিটি অব গুয়েলফের ফুড সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. কিথ ওয়ারিনার। চলুন, জেনে নিই আপেলের চামড়ার জীবাণু, ময়লা ও মোমের আস্তরণ দূর করার সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি কোনটি।

কেন আপেল ধোয়া জরুরি

বাজার থেকে কেনা আপেলের গায়ে কীটনাশক, ছত্রাক, জীবাণু বা ময়লা লেগে থাকতে পারে। আমাদের দেশের জন্য আরেকটি বড় উদ্বেগ হলো ফরমালিন। অসাধু ব্যবসায়ীরা ফল সংরক্ষণে ফরমালিনের মতো ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করেন। এসব পদার্থ চোখে দেখা না গেলেও স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
অধ্যাপক কিথ ওয়ারিনার বলেন, আপেল সংগ্রহের পর সাধারণত সেগুলোকে পানির একটি প্রবাহপথ দিয়ে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নেওয়া হয়। এই পানির মাধ্যমে জীবাণু আপেলের খোসায় লেগে যেতে পারে। আমাদের দেশে বেশির ভাগ আপেলই আমদানি করা। দীর্ঘ সময় পরিবহন ও সংরক্ষণের জন্য এসব আপেলের গায়ে প্রায়ই মোমের একটি পাতলা আস্তরণ দেওয়া হয়, যাতে ছত্রাক না ধরে এবং ফল দ্রুত শুকিয়ে না যায়। যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফডিএ) মতে, মোমের স্তরে থাকা ছত্রাক প্রতিরোধকারী রাসায়নিকগুলো বিষাক্ত নয়।
তারপরও এর ওপর ধুলাবালু, কীটনাশক বা ফরমালিনের মতো ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ জমে থাকতে পারে। তাই আপেল খাওয়ার আগে পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়াই সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর উপায়।

আপেল ধোয়ার সবচেয়ে ভালো উপায় কী

আপেল পরিষ্কার করার সবচেয়ে সহজ ও নিরাপদ উপায় হলো প্রবহমান পানিতে ভালোভাবে ধোয়া। আপেলের গায়ে থাকা মোম ও কীটনাশক দূর করতে এ পদ্ধতিই সবচেয়ে কার্যকর। তবে আরও ভালো ফলের জন্য কুসুম গরম পানি ব্যবহার করা যেতে পারে, তাহলে আপেলের মোমের স্তরটি গরম পানিতে উঠে যাবে। অতিরিক্ত সতর্কতার জন্য চাইলে ভিনেগার ও পানির মিশ্রণ বা বেকিং সোডা ও পানির দ্রবণ ব্যবহার করতে পারেন। তবে এগুলো ব্যবহারের পর অবশ্যই পরিষ্কার পানি দিয়ে আবার ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে।

খোসাসহ আপেল ধুয়ে নেওয়া জরুরি

তবে যুক্তরাষ্ট্রের এফডিএ সতর্ক করে বলেছে, সাবান, ডিটারজেন্ট বা ফল ধোয়ার বাণিজ্যিক তরল ব্যবহার করা উচিত নয়। কারণ, ফল ও সবজির গঠন ছিদ্রযুক্ত হওয়ায় এসব রাসায়নিক ভেতরে শোষিত হয়ে অসুস্থতার কারণ হতে পারে। তা ছাড়া ফল ধোয়ার তরল কতটা নিরাপদ ও কার্যকর, তা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত নয়। ড. ওয়ারিনার জানান, আপেল সিঙ্কে ভিজিয়ে রাখা উচিত নয়; কারণ, সিঙ্কে থাকা জীবাণু উল্টো ফলের গায়ে লেগে যেতে পারে। একইভাবে ফল ঘষার ব্রাশ ব্যবহারেও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি। কারণ, ব্রাশটি পুরোপুরি পরিষ্কার না হলে সেটিও হতে পারে দূষণের কারণ।

আপেলের খোসা ছাড়ানো কি দরকার

আপেলের খোসা ছাড়ালে ময়লা ও জীবাণু দূর হয় ঠিকই, তবে তার আগে খোসাসহ আপেল ধুয়ে নেওয়া জরুরি। কারণ, খোসার ওপর থাকা জীবাণু ছুরি বা পিলারের মাধ্যমে সহজেই ফলের ভেতরের অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। আপেলের ডাঁটার ভেতরের অংশ বা কোর ফেলে দেওয়া ভালো; কারণ, সেখানে অনেক সময় জীবাণু ঢুকে থাকতে পারে। ড. ওয়ারিনার জানান, আপেলের বীজ কখনোই খাওয়া উচিত নয়। বরং এই বীজে অল্প মাত্রায় সায়ানাইড থাকতে পারে। তবে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, আপেলের বীজে থাকা সায়ানাইডের মাত্রা প্রাণঘাতী নয়। তারপরও যেকোনো পরিমাণ বিষ গ্রহণ এড়িয়ে চলাই ভালো।

আমাদের দেশে বেশির ভাগ আপেলই আমদানি করা

সবশেষে

আপেল পরিষ্কারের ক্ষেত্রে জটিল কিছু করার প্রয়োজন নেই। খোসা ছাড়ান বা না ছাড়ান—আগে ভালোভাবে ধুয়ে নিন, কোর ও বীজ ফেলে দিন। যেহেতু আমাদের দেশে ফ্রেশ আপেল পাওয়া দুষ্কর, তাই খাওয়ার আগে কুসুম গরম পানিতে আপেলটি ধুয়ে নিন। আপনিও নিরাপদ থাকুন, পরিবারকেও নিরাপদে রাখুন।


সূত্র: সিম্পলি রেসিপিস