ভালো থাকুন

অন্তঃসত্ত্বার জন্ডিস

.

গর্ভাবস্থায় জন্ডিস হলে তা অনেক সময় মারাত্মক জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে গর্ভকালীন শেষ তিন মাসে জন্ডিস খুবই বিপজ্জনক।
চোখ ও প্রস্রাবের হলুদ রং জন্ডিসের লক্ষণ। জন্ডিসের মাত্রা বেশি হলে ত্বকও হলুদ হতে পারে। জন্ডিসে আক্রান্ত রোগীর বমিভাব, বমি, ক্ষুধামান্দ্য, গলা-বুক জ্বালাপোড়া ও সারা শরীরে চুলকানি হতে পারে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে গর্ভধারণের সঙ্গে জন্ডিসের কোনো সম্পর্ক নেই। সাধারণত ভাইরাস সংক্রমণের কারণেই রোগটি হয়ে থাকে। এর মধ্যে ‘হেপাটাইটিস এ’ এবং ‘হেপাটাইটিস ই’ ভাইরাস দূষিত পানি ও খাবারের মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। ‘হেপাটাইটিস বি’ এবং ‘হেপাটাইটিস সি’ ছড়ায় রক্ত, অনিরাপদ সুচ প্রভৃতির মাধ্যমে। গর্ভাবস্থায় হেপাটাইটিস ই ভাইরাসের সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর।
এসবের বাইরে কখনো গর্ভকালীন কিছু জটিলতার কারণেও জন্ডিস হতে পারে। স্বাভাবিক অবস্থায় পিত্তরসের যে শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া চলে, তা গর্ভাবস্থায় স্থিতিশীল হয়ে গিয়ে জন্ডিস হতে পারে। অতিরিক্ত বমি হলে অথবা উচ্চ রক্তচাপজনিত সমস্যা জটিল আকার ধারণ করলেও জন্ডিস হতে পারে। এ ছাড়া যকৃতে চর্বি জমা হয়েও জন্ডিস হতে পারে।
গর্ভকালীন জন্ডিস এড়াতে তাই সচেতনতা জরুরি। এ বিষয়ে কয়েকটি পরামর্শ:
*ফোটানো, বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে। বাইরের খোলা খাবার খাওয়া যাবে না। খাবার ঢেকে রাখতে হবে। পচা-বাসি খাবার খাওয়া যাবে না।
*রক্ত পরীক্ষার জন্য রক্ত দেওয়ার সময় পুরোনো বা ব্যবহৃত সিরিঞ্জ ও সুচ ব্যবহার করা যাবে না। প্রতিবার নতুন সুচ ও সিরিঞ্জ ব্যবহার করতে হবে।
*হেপাটাইটিস বি অথবা হেপাটাইটিস সি ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত অন্তঃসত্ত্বার শরীরে প্রবেশ করেছে—এমন আশঙ্কা হলে অবশ্যই হেপাটাইটিস বি-এর টিকা নিতে হবে। তবে গর্ভধারণের আগেই এই টিকা নিয়ে রাখা ভালো।
*গর্ভাবস্থায় জন্ডিসের লক্ষণগুলো দেখা গেলে শিগগির চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। জন্ডিসের সঠিক কারণ নির্ণয় করে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।
*জন্ডিসে আক্রান্ত রোগী প্রচুর পানি পান করবেন। সহজপাচ্য খাবার খাবেন। শর্করা ও প্রোটিন খাবেন কিন্তু চর্বিযুক্ত ও মসলাদার খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। ভিটামিন বি ও সি-সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। রোগীকে বিশ্রামে থাকতে হবে।
*রক্তে বিলিরুবিনসহ অন্যান্য উপাদানের মাত্রা বেশি থাকলে, অতিরিক্ত বমি হলে, একেবারেই খেতে না পারলে রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে। জন্ডিস সেরে গেলেও নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
*হেপাটাইটিস বি ভাইরাসে আক্রান্ত মায়ের সন্তানের জন্মের পরপরই তাকে হেপাটাইটিস বি-এর টিকা দিতে হবে।

অধ্যাপক সালমা রউফ
স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা বিভাগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল