ভালো থাকুন

ডায়রিয়াকে অবহেলা নয়

ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব বেড়েই চলছে। এরই মধ্যে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে লাখ লাখ মানুষ গ্রামের বাড়িতে গেছেন, পথঘাটে খাবার খেয়েছেন। ঈদেও গুরুপাক, তেলচর্বিযুক্ত খাবারসহ নানা ধরনের ভাজাপোড়া খাচ্ছেন অনেকে। এর ফলে পেট খারাপ, বদহজমের পাশাপাশি ডায়রিয়ারও ঝুঁকি রয়েছে।

ডায়রিয়া কী

ডায়রিয়া পানি ও খাদ্যবাহিত রোগ। কলেরাও তা-ই। ডায়রিয়াকে নিরীহ রোগ মনে করা হলেও এটি জটিল হয়ে উঠতে পারে, বিশেষ করে যদি পানি ও লবণশূন্যতা দেখা দেয়। তাই ডায়রিয়া হলে অবহেলা করা যাবে না।

কীভাবে হয়

পথঘাট ও হোটেল–রেস্তোরাঁর বাসি ও উন্মুক্ত খাবার ডায়রিয়ার জীবাণু বিস্তারের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। এসব খাবারের সঙ্গে মিশে থাকে জীবাণু ও ধুলাবালু। খোলা খাবারের ওপরে মাছি বসে। মাছি হলো বিভিন্ন রোগ-জীবাণুর বাহক। উপরন্তু এসব খাবার যাঁরা প্রস্তুত ও পরিবেশন করেন, তাঁরা নিয়মিত হাত ধোয়াসহ স্বাস্থ্যকর পন্থা প্রায়ই মানেন না। এর ফলে যাত্রাপথে উন্মুক্ত ও বাসি খাবার পরিহার করা অত্যন্ত জরুরি। যাঁরা ঈদ শেষে আবার ঢাকায় ফিরছেন, এ বিষয়ে তাঁরা সতর্ক থাকবেন।

যা করতে হবে

  • যাত্রাপথ দীর্ঘ হলে অবশ্যই বাড়ি থেকে তৈরি করা নিরাপদ খাবার সঙ্গে নিতে হবে। নিতে হবে নিরাপদ বিশুদ্ধ পানিও।

  • গরমের মৌসুমে অনেকে পানি ঠান্ডা করতে বরফ মিশিয়ে নেন। তবে এ বরফ হতে হবে বিশুদ্ধ পানির তৈরি। অজানা উৎস থেকে তৈরি বরফ অবশ্যই ব্যবহার করা যাবে না।

  • নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস চালু রাখতে হবে।

  • খাবার তৈরি করার আগে ও খাবার খাওয়ার আগে অবশ্যই সাবান দিয়ে অন্তত ২০ সেকেন্ড ভালোভাবে হাত ধুয়ে নিতে হবে। হাত ধোয়ার জন্যও পরিষ্কার পানি ব্যবহার করতে হবে।

  • টয়লেট ব্যবহারের পরও একই নিয়মে হাত পরিষ্কার করতে হবে।

দ্রুত চিকিৎসা নিন

যাত্রাপথে কিংবা বাড়িতে ছুটি উদ্‌যাপনের সময় ডায়রিয়ার লক্ষণ প্রকাশ পেলে দ্রুত চিকিৎসা নিন। খেয়াল রাখতে হবে, যাতে পানিশূন্যতা না হয়। ডায়রিয়ায় পানিশূন্যতা থেকে কিডনি বিকল হয়ে যেতে পারে। সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়ামসহ বিভিন্ন লবণের ঘাটতি মারাত্মক জটিলতা তৈরি করতে পারে। একবার পাতলা পায়খানা হলেও খাবার স্যালাইন গ্রহণ করতে হবে। যদি বমি হয়ে যায় অথবা তীব্র পানিশূন্যতা দেখা দেয়, তবে শিরায় স্যালাইন দেওয়া লাগতে পারে।