
ডায়াবেটিসের কারণে পায়ে গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ ধরনের গুরুতর সমস্যার জন্য অনেক সময় অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন পড়ে। এই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে যে চিকিৎসা পদ্ধতি, সেটিকে বলা হয় ডায়াবেটিক ফুট সার্জারি।
ডায়াবেটিক পায়ের অস্ত্রোপচার পদ্ধতিগুলো মূলত সংক্রমিত টিস্যু অপসারণ, রক্তপ্রবাহ উন্নত করা এবং অন্যান্য জটিলতা প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। এ ধরনের অস্ত্রোপচারের মূল লক্ষ্য হলো পা বাঁচানো এবং অঙ্গচ্ছেদের ঝুঁকি হ্রাস করা।
ডায়াবেটিক পায়ের অস্ত্রোপচার সবার জন্য একই রকম নয়। পায়ের সমস্যার তীব্রতা, রক্তপ্রবাহ ও সংক্রমণের মাত্রার ওপর নির্ভর করে অস্ত্রোপচারের ধরন নির্ধারণ করা হয়।
ডেব্রাইডমেন্ট সার্জারি: মৃত বা সংক্রমিত টিস্যু অপসারণ করা।
ফোঁড়া নিষ্কাশন: পায়ের সংক্রমিত অংশের পকেট খুলে পুঁজ পরিষ্কার করে নিয়মিত ড্রেসিংয়ের মাধ্যমে ক্ষত ভালো করা।
পুনর্গঠনমূলক সার্জারি: বিকৃতি সংশোধন করা, পায়ের আকৃতি উন্নত করা এবং ভবিষ্যৎ আলসার প্রতিরোধ করা। রক্তনালির শল্যচিকিৎসা, বাইপাস বা এনজিওপ্লাস্টির মাধ্যমে রক্ত সঞ্চালন পুনরুদ্ধার করে।
অঙ্গচ্ছেদ (প্রয়োজনে): সংক্রমণের বিস্তার বন্ধ করতে এবং রোগীর জীবন বাঁচাতে শুধু গুরুতর ক্ষেত্রেই এটি করা হয়।
কিছুটা অস্বস্তি ও ব্যথা তো হয়ই, তবে ব্যথা নিয়ন্ত্রণে অ্যানেসথেসিয়া এবং ব্যথা ব্যবস্থাপনা কৌশল ব্যবহার করা হয়।
এ ছাড়া ডায়াবেটিসের রোগীদের এমনিতেই ব্যথার অনুভূতি কম। অস্ত্রোপচারের পর সেরে উঠতে সাধারণত কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস সময় লাগে। এটা নির্ভর করে ক্ষতের তীব্রতা ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপর।
অস্ত্রোপচারের পর ক্ষত পরিচর্যার নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। রক্তে শর্করার মাত্রা ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
এ ছাড়া পায়ের ওপর চাপ দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। নিয়মিত ফলোআপ চেকআপের বিষয়টি এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
সঠিক চিকিৎসা, ফিজিওথেরাপি ও সহায়ক পাদুকা ব্যবহার করে বেশির ভাগ মানুষ স্বাভাবিক হাঁটার ক্ষমতা ফিরে পান।
ডা. এম এ করিম, সহকারী অধ্যাপক, জেনারেল সার্জারি ও ডায়াবেটিক ফুট সার্জন, মার্কস মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, মিরপুর-১৪, ঢাকা