
অনেকের সামান্য হাঁটাহাঁটি করলেই পায়ে ব্যথা হয়। এ কারণে অনেকে বেশি হাঁটতে চান না। এ সমস্যার পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। সঠিকভাবে এর কারণ নির্ণয় ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। পায়ে ব্যথার ধরন বিভিন্ন হতে পারে। যেমন পায়ে টান ধরা বা ক্র্যাম্প হতে পারে। এ ছাড়া পায়ে জ্বালাপোড়া বা ঝিনঝিন ভাব হয়। নির্দিষ্ট স্থানে তীব্র ব্যথা করে। আর হাঁটলে ব্যথা বাড়ে। বিশ্রাম নিলে আবার কমে যায়।
হাঁটার সময় পায়ে ব্যথার অন্যতম কারণ পেশির অতিরিক্ত চাপ বা মাসল স্ট্রেইন।
টানা দীর্ঘ সময় হাঁটা, হঠাৎ বেশি ব্যায়াম বা সঠিক ওয়ার্ম আপ না করে হাঁটা শুরু করলে পেশিতে টান পড়ে ব্যথা হতে পারে।
আরেকটি সাধারণ কারণ প্লান্টার ফ্যাসাইটিস। এতে পায়ের পাতার নিচের অংশে প্রদাহ হয়।
জয়েন্টের সমস্যা, যেমন হাঁটু বা গোড়ালির অস্টিওআর্থ্রাইটিস থাকলে ব্যথা হতে পারে।
বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে এ সমস্যা বাড়তে দেখা যায়।
স্নায়ুর সমস্যা বা নার্ভ কমপ্রেশন যেমন সায়াটিকা থাকলে কোমর থেকে পা পর্যন্ত ব্যথা ছড়িয়ে যেতে পারে।
কিছু ক্ষেত্রে রক্ত চলাচলের সমস্যা যেমন পেরিফেরাল আর্টারি ডিজিজ থাকলে হাঁটার সময় পায়ে ব্যথার সৃষ্টি হয়, যা বিশ্রামে কমে যায়।
প্রথমেই ব্যথার সঠিক কারণ নির্ণয় করাটা জরুরি।
ব্যথা বেশি হলে কিছুদিন বিশ্রাম নিন। আক্রান্ত স্থানে বরফ সেঁক দিন (১৫–২০ মিনিট, দিনে ২–৩ বার)।
স্ট্রেচিং ও স্ট্রেনদেনিং এক্সারসাইজ পায়ের পেশি ও লিগামেন্টকে শক্তিশালী করে। বিশেষ করে কাফ মাসল বা পায়ের মাংসপেশির ব্যায়াম খুব উপকারী।
আরামদায়ক জুতা ব্যবহার করা গুরুত্বপূর্ণ। শক্ত বা অনুপযুক্ত জুতা ব্যথা বাড়িয়ে দিতে পারে।
অতিরিক্ত ওজন পায়ের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে, ফলে ব্যথা বাড়ে। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।
দরকার হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যথা বা প্রদাহনাশক ওষুধ সেবন করা যেতে পারে।
যদি সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে আলট্রাসাউন্ড থেরাপি, শকওয়েভ থেরাপি বা বিশেষ অর্থোপেডিক চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।
নিয়মিত হালকা ব্যায়াম ও স্ট্রেচিং করুন।
হঠাৎ করে অতিরিক্ত হাঁটা বা দৌড়ানো এড়িয়ে চলুন।
হাঁটা বা ব্যায়ামের শুরুতে ওয়ার্ম আপ করবেন।
প্রতিদিনের কাজে সঠিক ভঙ্গি বজায় রাখুন।
দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকা কমিয়ে আনতে হবে।
এম ইয়াছিন আলী, ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞ, চিফ কনসালট্যান্ট, ঢাকা সিটি ফিজিওথেরাপি হাসপাতাল