নেতিবাচক মানুষ সব সময় অভিযোগ করেন, সমালোচনা করেন কিংবা অন্যের সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হন
নেতিবাচক মানুষ সব সময় অভিযোগ করেন, সমালোচনা করেন কিংবা অন্যের সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হন

নেতিবাচক মানুষের সঙ্গে কথা বলেও ইতিবাচক থাকার ৫ কৌশল

আমাদের চারপাশে এমন কিছু মানুষ থাকেন, যাঁদের সঙ্গ যেন অদৃশ্যভাবে মানসিক শক্তি শুষে নেয়। তাঁরা সব সময় অভিযোগ করেন, সমালোচনা করেন কিংবা অন্যের সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হন। তাঁদের এই ধারাবাহিক নেতিবাচকতা অনেক সময় আমাদের মেজাজ খিটখিটে করে তোলে, কাজের মনোযোগ নষ্ট করে এবং ধীরে ধীরে মানসিক ক্লান্তি তৈরি করে।

আপনি চাইলে চারপাশের মানুষ বদলাতে পারবেন না, কিন্তু নিজের প্রতিক্রিয়া বদলাতে পারবেন। স্নায়ুবিজ্ঞান ও মনোবিজ্ঞানের গবেষণা বলছে, আমাদের মস্তিষ্ককে এমনভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব, যাতে অন্যের নেতিবাচকতা আমাদের ভেতরে ঢুকতে না পারে। কীভাবে?

১. মস্তিষ্কের ‘ফাইট অর ফ্লাইট’ মোড নিয়ন্ত্রণ

কেউ নেতিবাচক আচরণ করলে মস্তিষ্কের ‘অ্যামিগডালা’ সেটিকে হুমকি হিসেবে ধরে এবং শরীরে কর্টিসলসহ স্ট্রেস হরমোন বাড়িয়ে দেয়। এটিই ‘ফাইট অর ফ্লাইট’ প্রতিক্রিয়া। এই স্বয়ংক্রিয় প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করতে নিজেকে সামান্য সময় দিন। কটু কথা শুনে সঙ্গে সঙ্গে জবাব না দিয়ে গভীর শ্বাস নিন, মনে মনে ১ থেকে ১০ পর্যন্ত গুনুন। এই ছোট বিরতি যুক্তিনির্ভর মস্তিষ্ককে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ দেয়, ফলে উত্তেজনার বদলে শান্ত থাকা সহজ হয়।

২. ‘গ্রে রক’ বা নিস্পৃহ থাকার কৌশল

নেতিবাচক মানুষ সাধারণত অন্যের প্রতিক্রিয়া ও মনোযোগ পেলে উজ্জীবিত হয়। আপনি যদি তর্কে জড়ান বা আবেগ দেখান, তাঁরা আরও উৎসাহিত হন। ‘গ্রে রক’ পদ্ধতিতে তাঁদের সামনে নিজেকে নিস্পৃহ রাখুন—সংক্ষিপ্ত, নিরাসক্ত উত্তর দিন (যেমন: ‘আচ্ছা’, ‘হুম’, ‘ঠিক আছে’) এবং অপ্রয়োজনীয় আলাপে জড়াবেন না। প্রতিক্রিয়া না পেয়ে একসময় তাঁরা আপনার ওপর আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন।

৩. সহমর্মিতা রাখুন, তবে...

সহমর্মিতা মানে অন্যের অনুভূতি বোঝা, কিন্তু সেই আবেগে ডুবে যাওয়া নয়। নেতিবাচক আচরণ অনেক সময় ব্যক্তির নিজের অস্থিরতা বা কষ্টের বহিঃপ্রকাশ। এটি আপনার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়। এই বোধ ধরে রাখতে পারলে মানসিক দূরত্ব বজায় রাখা সহজ হয়।

৪. সীমানা নির্ধারণ করুন

আপনার মানসিক শান্তি রক্ষার দায়িত্ব আপনার। কেউ যদি নিয়মিত অভিযোগ করেন বা আপনাকে ছোট করার চেষ্টা করেন, তাহলে সময় ও যোগাযোগে সীমা টানুন। প্রয়োজনে বিনয়ের সঙ্গে স্পষ্ট করে বলুন, ‘আমি এ ধরনের আলোচনায় আগ্রহী নই’, ‘না’ বলতে পারা আত্মসম্মান ও মানসিক দৃঢ়তা বাড়ায়।

৫. নিউরোপ্লাস্টিসিটি ও পজিটিভ রিফ্রেমিং

মস্তিষ্ক অভ্যাসের মাধ্যমে নিজেকে বদলাতে পারে, এটিই নিউরোপ্লাস্টিসিটি। নেতিবাচক অভিজ্ঞতার পর সচেতনভাবে অন্তত তিনটি ইতিবাচক বিষয় মনে করুন। দিন শেষে একটি ছোট ‘কৃতজ্ঞতার তালিকা’ তৈরির অভ্যাস করলে মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে ইতিবাচক দিকগুলোয় বেশি মনোযোগ দিতে শেখে। এতে নেতিবাচক প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হয় না।

মানসিক সুস্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দিন। নেতিবাচকতা থেকে দূরে থাকা মানে পালিয়ে যাওয়া নয়; বরং নিজের ভেতরের স্থিরতা ও শক্তিকে সুরক্ষিত রাখা। ছোট ছোট এই অভ্যাসগুলো নিয়মিত চর্চা করলে চারপাশ যেমনই হোক, আপনি ভেতরে থাকবেন শান্ত ও স্থিতিশীল।

সূত্র: হেডস্পেস, টাইনিবুদ্ধা