পিত্তথলির ক্যানসার সাধারণত পিত্তথলির অভ্যন্তরীণ আস্তরণ বা মিউকোসা থেকে উৎপন্ন হয়
পিত্তথলির ক্যানসার সাধারণত পিত্তথলির অভ্যন্তরীণ আস্তরণ বা মিউকোসা থেকে উৎপন্ন হয়

পিত্তথলিতে ক্যানসার কেন হয়

গলব্লাডার বা পিত্তথলি হলো যকৃতের নিচে থাকা একটি ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, যার প্রধান কাজ পিত্তরস সংরক্ষণ ও নিঃসরণ করা। পিত্তথলির ক্যানসার সাধারণত পিত্তথলির অভ্যন্তরীণ আস্তরণ বা মিউকোসা থেকে উৎপন্ন হয়।

পিত্তথলির ক্যানসারে এশিয়ার মধ্যে উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের নারীদের মধ্যে পিত্তথলির ক্যানসারের হার এশিয়ার মধ্যে প্রায় সর্বোচ্চ।

পিত্তথলির ক্যানসার পুরুষের তুলনায় নারীদের মধ্যে তিন থেকে চার গুণ বেশি দেখা যায়। বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এই ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়তে থাকে। সাধারণত ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সীদের বেশি হয়।

ঝুঁকি ও কারণ

পিত্তথলির ক্যানসারের সবচেয়ে বড় কারণ পিত্তপাথর। দীর্ঘমেয়াদি পিত্তথলির প্রদাহ, গলব্লাডার পলিপ, স্থূলতা, অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাদ্যাভ্যাস ও পারিবারিক ইতিহাস এই রোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ায়। এ ছাড়া স্যালমোনেলা টাইফি জীবাণু বহনকারীদের মধ্যে পিত্তথলির ক্যানসারের ঝুঁকি বেশি দেখা যায়।

টাইফয়েড বাহকেরা প্রায়ই পিত্তথলির দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহে ভোগেন। গবেষণায় দেখা গেছে, তাঁদের ক্ষেত্রে পিত্তথলির ক্যানসারের ঝুঁকি প্রায় ছয় গুণ বৃদ্ধি পেতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে পরিবেশগত ও বংশগত কারণও এই রোগের বিকাশে ভূমিকা রাখে।

উপসর্গগুলো কেমন

পিত্তথলির ক্যানসারের প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণত কোনো সুস্পষ্ট উপসর্গ দেখা যায় না। রোগ সম্পর্কে সচেতনতার অভাব ও উপসর্গের অস্পষ্টতার কারণে অধিকাংশ রোগী শেষ পর্যায়ে লক্ষণ নিয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

বয়স্কদের ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক ও অকারণ ওজন হ্রাস এবং ডান দিকের ওপরের পেটে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা থাকলে পিত্তথলির ক্যানসারের ঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। রোগ অগ্রসর হলে জন্ডিস, ক্ষুধামান্দ্য, বমি, অতিরিক্ত ক্লান্তি ও দুর্বলতা এবং পিত্তনালির বাধার কারণে ত্বকে চুলকানি দেখা দিতে পারে।

আরও অগ্রসর অবস্থায় রোগটি লিভার ও আশপাশের অঙ্গে ছড়িয়ে পড়তে পারে। জন্ডিস একটি অত্যন্ত খারাপ চিহ্ন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জন্ডিস হওয়ার পর প্রায় ৮৫ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে টিউমার সম্পূর্ণভাবে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণ করা সম্ভব হয় না।

পিত্তথলির ক্যানসার প্রতিরোধের জন্য পিত্তপাথরের যথাসময়ে চিকিৎসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শারীরিক পরীক্ষা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এই রোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

বিশেষ সতর্কতা

  • কিছু কিছু অবস্থায় অর্থাৎ কিছু উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা জরুরি।

  • দীর্ঘদিনের পিত্তপাথরের রোগীর নতুন কোনো উপসর্গ, যেমন গলব্লাডার পলিপের আকার ১ সেন্টিমিটারের বেশি হয়ে গেলে।

  • হঠাৎ জন্ডিসের সঙ্গে পেটব্যথা হলে।

  • দ্রুত ও অকারণে ওজন হ্রাস পেলে।

ডা. মাকসুদা আক্তার, সহকারী অধ্যাপক, অনকোলজি বিভাগ, খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল