পানি ভাঙা বিষয়ে প্রত্যেক অন্তঃসত্ত্বা নারীর সতর্ক থাকা জরুরি
পানি ভাঙা বিষয়ে প্রত্যেক অন্তঃসত্ত্বা নারীর সতর্ক থাকা জরুরি

গর্ভাবস্থায় সময়ের আগে পানি ভাঙার কারণ কী, কীভাবে বুঝবেন, কী করবেন

সন্তানপ্রসবের সময় গর্ভথলির পানি ভেঙে যাওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু গর্ভাবস্থায় নির্ধারিত সময়ের আগে, এমনকি প্রসববেদনা শুরু হওয়ার আগেই যদি গর্ভথলির পানি ভেঙে যায়, তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এটাকে প্রিম্যাচিউর রাপচার অব মেমব্রেন বা প্রম বলা হয়। এটি মা ও অনাগত শিশুর জন্য একটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা।

৩৭ সপ্তাহের আগে পানি ভেঙে গেলে জরায়ু সংক্রমণ, অকালপ্রসব, প্রিম্যাচিউর শিশুর জন্ম, নবজাতকের শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই পানি ভাঙা বিষয়ে প্রত্যেক অন্তঃসত্ত্বা নারীর সতর্ক থাকা জরুরি।

সময়ের আগে পানি ভাঙার কারণ কী

যেসব বিষয় সময়ের আগে পানি ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়, সেগুলো হলো—

  • যোনিপথ বা মূত্রনালির সংক্রমণ

  • আগের গর্ভাবস্থায় অকালপ্রসবের ইতিহাস

  • অপুষ্টি

  • অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস

  • ধূমপান

  • একাধিক গর্ভস্থ শিশু

  • অতিরিক্ত অ্যামনিওটিক ফ্লুইড বা পলিহাইড্রামনিওস

  • পরিচ্ছন্নতা বজায় না রাখা

কীভাবে বুঝবেন

  • কোনো প্রসববেদনা ছাড়াই হঠাৎ যোনীপথে অতিরিক্ত পানি বা তরল গড়িয়ে পড়া।

  • নড়াচড়ায় পানিতে কাপড় ভিজে যাওয়া।

  • কখনো এর সঙ্গে তলপেটে হালকা অস্বস্তি বা ব্যথা হতে পারে।

কেন এটি বিপজ্জনক

গর্ভকালে শিশু গর্ভথলির পানির মধ্যে ভাসমান অবস্থায় থাকে এবং সুরক্ষিত থাকে। পানি ভেঙে গেলে এই সুরক্ষা নষ্ট হয়ে যায়। এর ফলে সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

এ ছাড়া তৎক্ষণাৎ প্রসব বা সিজার করাতে হয় বলে অকালপ্রসবের ঝুঁকি থাকে। সময়ের আগে জন্ম নেওয়ায় শিশুর ফুসফুসের পরিপক্বতা না–ও হতে পারে, শ্বাসকষ্ট হতে পারে। কম ওজন ও অপরিপক্ব শিশুর নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রের দরকার হয়, এদের মৃত্যুহারও বেশি।

কী করবেন

দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। সঠিক সময়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে মা ও শিশু উভয়ই নিরাপদ থাকতে পারবে।