অতিরিক্ত মাংস খাওয়ার স্বাস্থ্যঝুঁকিও আছে
অতিরিক্ত মাংস খাওয়ার স্বাস্থ্যঝুঁকিও আছে

মাংস রান্নার স্বাস্থ্যকর উপায়গুলো জানা আছে তো

মাংস সুস্বাদু ও পুষ্টিকর খাবার। তবে অতিরিক্ত মাংস খাওয়ার স্বাস্থ্যঝুঁকিও আছে। আবার ভুল পদ্ধতিতে মাংস রান্না করলে কিছু পুষ্টি উপাদান নষ্টও হতে পারে। তাই মাংস রান্নার স্বাস্থ্যকর উপায় জানা প্রয়োজন। এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের কুমুদিনী সরকারি কলেজের গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের প্রধান এবং পুষ্টিবিদ, অধ্যাপক শম্পা শারমিন খান–এর সঙ্গে কথা বলে জানাচ্ছেন রাফিয়া আলম

তেল-চর্বি কম রাখুন

মাংসের যে চর্বি আপনি দেখতে পাচ্ছেন, তা যতটা সম্ভব কেটে ফেলে দিন। রান্নায় তেলের ব্যবহার সীমিত রাখুন। তেল ছাড়াও মাংস রান্না করতে পারেন। লাল মাংসে (যেমন গরু বা খাসির মাংস) যে চর্বি থাকে, উত্তাপে তার কিছুটা বেরিয়ে আসে। তেল ছাড়া রান্না করলে ওই তেলতেলে অংশই রান্নার কাজে আসবে।

ডুবো তেলে ভাজতে হয়, এমন পদ এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। বরং নানা রকম মসলা ব্যবহার করে ভিন্ন ভিন্ন পদ তৈরি করতে পারেন। তাতে স্বাদে বৈচিত্র্য আসবে, স্বাস্থ্যেরও ক্ষতি হবে না।

ঝলসালেও যেন কালো না হয়

কেউ কেউ মাংস দিয়ে গ্রিল বা ঝলসানো–জাতীয় পদ করেন। তবে খেয়াল রাখতে হবে, মাংসের কোনো পদ যেন পুড়ে কালো হয়ে না যায়। ঝলসাতে হবে মৃদু আঁচে, সময় নিয়ে। তাহলে ভেতরটা ভালোভাবে সেদ্ধ হবে। আর ঝলসানোর আগে অবশ্যই অন্যান্য উপকরণ দিয়ে মাখিয়ে রাখতে হবে।

পুষ্টি থাক ঠিকঠাক

  • উচ্চ তাপে মাংস রান্না না করাই ভালো। বরং মাঝারি তাপে ধীরেসুস্থে মাংস রান্না করুন। তাড়া থাকলে প্রেশার কুকার ব্যবহার করুন।

  • পশু জবাই করার তিন-সাড়ে তিন ঘণ্টার মধ্যে মাংস রান্না করা ভালো। বেশি দেরি করলে কিছু পুষ্টি উপাদান নষ্ট হতে পারে।

  • মাংস ঢেকে রান্না করা উচিত। নইলে কিছু পুষ্টি উপাদান বাষ্পীভূত হয়ে যেতে পারে।

  • মাংস বারবার জ্বাল দিয়ে ঝুরি–জাতীয় হয়ে গেলে তা খেতে ভালো লাগে। তবে এতেও কিছু পুষ্টি উপাদান নষ্ট হয়ে যায়।

  • ঝোল–জাতীয় পদে পুষ্টি উপাদান থাকে ঠিকঠাক।

  • মাংসের সঙ্গে কিছু সবজি যোগ করে ভিন্ন ধরনের পদ রান্না করা যায়। এতে মাংস খাওয়ার ক্ষেত্রে পরিমিতি বজায় রাখা সহজ হয়। আর সবজির পুষ্টিও মেলে। শাশলিক–জাতীয় পদে মাংসের সঙ্গে সবজি দিলে শিশুরাও আগ্রহ নিয়ে সবজি খেতে পারে।

খাদ্য হোক নিরাপদ

  • মাংস খুব ভালোভাবে সেদ্ধ করতে হবে। নইলে জীবাণুর সংক্রমণ হতে পারে। হজমের সমস্যাও হতে পারে।

  • কাঁচা মাংস এবং রান্না মাংস আলাদা রাখুন। যে পাত্র, ছুরি, বঁটি, চপিং বোর্ড প্রভৃতিতে কাঁচা মাংস রাখা হয়েছে বা রক্ত লেগেছে, তা ভালোভাবে না ধুয়ে কোনো খাবার রাখবেন না।

  • কাঁচা মাংস ধরার আগে-পরে সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধুয়ে নিন।

খেয়াল রাখুন

  • মাংস ছোট টুকরা করে রান্না করা ভালো।

  • মাংস খাবেন পরিমিত পরিমাণে।

  • পশুর মগজ, পায়া, পাঁজর, মজ্জা, মাথা, মাথার হাড়, গলা, ভুঁড়ি প্রভৃতিতে চর্বি বেশি থাকে। নেহারিতেও চর্বির পরিমাণ বেশি।

  • রানের মাংস, কলিজা ও ফ্যাপসাও অতিরিক্ত খাবেন না।

  • দীর্ঘমেয়াদি কোনো সমস্যার (যেমন কোলেস্টেরল বেশি থাকা, স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদ্‌রোগ, দীর্ঘমেয়াদি কিডনির রোগ প্রভৃতি) জন্য মাংস বা তেল-চর্বি খাওয়ার বিষয়ে বিধিনিষেধ থাকলে তা মেনে চলুন।

  • লবণ দিয়ে মাংস সংরক্ষণ করলে কিংবা মাংসের পদে সস, কেচাপ প্রভৃতি যোগ করলে মাংসের পদ হয়ে উঠতে পারে বাড়তি লবণের উৎস। এ ধরনের পদ এড়িয়ে চলা ভালো।