অনেকে কেন বাথরুমেই স্ট্রোক করে

প্রায়ই শোনা যায়, অমুকে বাথরুমে স্ট্রোক করেছে। বাথরুমে স্ট্রোক করার নির্দিষ্ট কোনো কারণ কি আছে? নাকি পুরোটাই কাকতাল? এ প্রসঙ্গে ঢাকার ধানমন্ডির পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ এবং সহকারী অধ্যাপক ডা. সাইফ হোসেন খানের সঙ্গে কথা বলে লিখেছেন রাফিয়া আলম।

বাথরুমে থাকতে অনেক সময় রক্তচাপের তারতম্য হয়, যে কারণে অনেকেই স্ট্রোক করে
ছবি: প্রথম আলো

মস্তিষ্কের কোনো অংশের রক্তনালির প্রবাহ বন্ধ হয়ে স্ট্রোক হতে পারে। আবার এ ধরনের কোনো রক্তনালি ছিঁড়ে গিয়েও হতে পারে স্ট্রোক। যখন কারও রক্তচাপে খুব বেশি তারতম্য হয়, তখন তাঁর রক্তনালির স্বাভাবিকতা নষ্ট হয়। বাড়ে স্ট্রোকের ঝুঁকি।
বাথরুমে থাকা অবস্থায় কখনো যদি রক্তচাপের তারতম্য খুব বেশি হয়, তাহলে সেখানেও এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
কোন পরিস্থিতিতে বাথরুমে স্ট্রোক হতে পারে, কারা আছেন ঝুঁকিতে, আর সুস্থ থাকতে কী করবেন, জেনে নিন।

বাথরুমে কেন স্ট্রোক করে

  • অতিরিক্ত ঠান্ডা পানিতে গোসল করলে রক্তনালির সংকোচন হতে পারে। এ কারণে হুট করে বেড়ে যেতে পারে রক্তচাপ।

  • প্রস্রাব বা পায়খানা করার জন্য অতিরিক্ত চাপ দিতে হলেও রক্তচাপ বাড়তে পারে।

  • বাথরুমে লম্বা সময় বসে থাকার পর হুট করে উঠে দাঁড়ানোর সময়ও রক্তচাপের তারতম্য হতে পারে।

  • ঘুম ভাঙার পরপরই হুট করে বাথরুমে গেলে তখনো রক্তচাপের এমন তারতম্য হওয়ার ঝুঁকি থাকে। বিষয়টি মূলত ঘুমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। আর ঘুম থেকে উঠেই অনেকে যেহেতু বাথরুমে যান, তাই সমস্যাটা বাথরুমেই হয় বেশি।

ঘুম থেকে উঠেই বাথরুমে ছুটবেন না

আপনিও কি ঝুঁকিতে

এখানে যেসব পরিস্থিতির কথা বলা হয়েছে, সেগুলো কিন্তু সবার জন্য স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায় না। কেবল যাদের স্ট্রোকের অন্যান্য ঝুঁকি রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রেই এসব পরিস্থিতিতে স্ট্রোক হতে পারে। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, স্থূলতা, রক্তে খারাপ চর্বির আধিক্য, কায়িক শ্রমের ঘাটতিতে স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে। পরিবারে কারও স্ট্রোক হয়ে থাকলেও এ রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

কী করতে হবে

স্ট্রোক মারাত্মক রোগ। এ রোগে প্রাণনাশও হতে পারে। স্ট্রোক প্রতিরোধে স্বাস্থ্যকর জীবনধারার বিকল্প নেই। এ জন্য খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ ও শারীরিক শ্রমের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস কিংবা রক্তে খারাপ চর্বির আধিক্য থাকলে তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

অতিরিক্ত ঠান্ডা পানিতে গোসল করবেন না।

যাঁদের স্ট্রোকের ঝুঁকি রয়েছে, বাথরুমে যাওয়ার ক্ষেত্রে তাঁদের কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে হবে

  • অতিরিক্ত ঠান্ডা পানিতে গোসল করবেন না। পানি যদি কিছুটা ঠান্ডাও থাকে, তাহলে প্রথমে পা ভেজান। এরপর ধীরে ধীরে শরীরের অন্যান্য অংশে পানি দিন। এরপর মাথায় দিন। এরপর প্রয়োজনে শরীরের অন্যান্য অংশে আবার পানি দেওয়া যাবে।

  • বাথরুমে লম্বা সময় বসে থাকবেন না। অস্বাভাবিক ভঙ্গিতে বাথরুমে বসবেন না। প্রস্রাব বা পায়খানা করতে খুব বেশি চাপ দিতে হলে কিংবা খুব বেশি সময় বসে থাকতে হলে সে বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

  • ঘুম থেকে উঠেই বাথরুমে ছুটবেন না। ঘুম ভাঙার পর ধীরেসুস্থে উঠে বসুন। ধীরে ধীরে দাঁড়ান। এরপর হেঁটে বাথরুমে যান।