
আমাদের অনেকের জীবনে সবচেয়ে বড় সংকট হলো শৃঙ্খলার অভাব। এর মূল কারণ নিজের নিয়ম বা আত্মনিয়ন্ত্রণ না থাকা। শৃঙ্খলা একটি দক্ষতা; যা সঠিক পদ্ধতি, ধারাবাহিকতা ও অভ্যাসের মাধ্যমে আয়ত্ত করা যায়। কী সেই ছয় কৌশল, যার মাধ্যমে দৈনন্দিন জীবনে শৃঙ্খলা আনবেন?
লক্ষ্য থাকবে বড়। তবে শুরু করবেন ছোট ছোট ভাগে। আর সেসব নিয়মিত পূরণ করার মাধ্যমে। তাই বড় কিছু শুরু করার পরিবর্তে ছোট ও নিয়ন্ত্রিত কাজ দিয়ে শুরু করুন। যেমন প্রতিদিন ১০ মিনিট হাঁটা। ছোট অর্জনগুলো আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। আর ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে একসময় বড় ফলাফল তৈরি করে।
এর অর্থ হলো সত্যিকারের গুরুত্বপূর্ণ কাজকে গুরুত্ব দেওয়া। অনেক সময় অপ্রয়োজনীয় টেক্সটিং, ই–মেইল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ক্রলিং ইত্যাদিতে আপনার অনেক সময় নষ্ট হয়। এর বদলে প্রথমে সেসব কাজ করুন, যা আপনার মূল উদ্দেশ্য ও দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যকে এগিয়ে নেবে।
বলা হয়, আপনি যখন কোনো কিছু একটানা ৪০ দিন করেন, তখন ধরে নিতে হবে, সেটি আপনার অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। একটানা অন্তত ৪০ দিন সিগারেট না খেলে বলা যায় আপনি ধূমপানমুক্ত। তাই যদি সকালে উঠতে চান, একটানা ৪০ দিন অ্যালার্ম শুনেই উঠে পড়ুন। ৪১তম দিন দেখবেন, অ্যালার্ম ছাড়াই ওই সময়ে ঠিকই আপনার ঘুম ভেঙে গেছে। অর্থাৎ তা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।
বলা হয়, ‘সহজ সিদ্ধান্ত, কঠিন জীবন; কঠিন সিদ্ধান্ত, সহজ জীবন’। এর মানে হলো, ধরুন, আপনি প্যাকেটজাত বা টিনজাত খাবার, বার্গার বা নাচোসকে ‘না’ বলে সাময়িক সুস্বাদু খাবারের স্বাদের আনন্দ থেকে নিজেকে বঞ্চিত করলেন। এই অভ্যাস দীর্ঘ মেয়াদে আপনাকে সুস্থ ও এনার্জিটিক থাকতে সাহায্য করবে। এভাবে ধীরে ধীরে আত্মদমনের ক্ষমতাকে শক্তিশালী করুন।
প্রতিদিনের কাজগুলো আগে থেকে পরিকল্পনা করলে নিজের নিয়ম ধরে রাখা সহজ হয়। প্রতিদিন রাতে পরের দিনের মূল কাজগুলো লিখুন। কাজগুলো নির্দিষ্ট সময় অনুসারে সাজান। এতে কাজে মনোযোগ দেওয়া সহজ হয়। উৎপাদনশীলতা বাড়ে। কাজ শেষ করে লক্ষ্য অর্জনের তৃপ্তি অনুভব হয়।
বড় উন্নতি কখনোই আরামসে আসে না। আপনি আরামে থেকে কোনোদিন লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবেন না। সকালে ওঠা, কঠিন কাজের মোকাবিলা, প্রতিনিয়ত নতুন নতুন চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করা, নতুন কিছু শেখা—এসব আরামদায়ক নয়। কিন্তু এসব আপনার নিজের ‘বেটার ভার্সন’ গড়ার পথে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: ফোর্বস