সামুদ্রিক আবহকে মাথায় রেখে সাজানো হয়েছে নোঙ্গর
সামুদ্রিক আবহকে মাথায় রেখে সাজানো হয়েছে নোঙ্গর

নগরে নতুন রেস্তোরাঁ নোঙ্গর, গেছেন কি

মেট্রোরেল চালু হওয়ার পর থেকে আরও জমজমাট মিরপুর এলাকা। বিপণিবিতান ছাড়াও চালু হয়েছে নানা রকম রেস্তোরাঁ। তেমনই একটি নতুন রেস্তোরাঁ ‘নোঙ্গর’। ঘুরে এসে লিখেছেন হুমায়রা মাহজাবিন।

ঢাকা শহরের অন্যতম ব্যস্ত এলাকা মিরপুর–১২–তে একটু সামুদ্রিক আবহ নিয়ে হাজির হয়েছে নোঙ্গর। বন্ধু বা পরিবার–পরিজন নিয়ে খাওয়াদাওয়ার পাশাপাশি ছবি তোলা কিংবা নিরিবিলি বসে আড্ডা দেওয়ার চমৎকার একটি জায়গা। ‘নোঙ্গর’ শব্দটি শুনলেই মনে হয় সমুদ্র বা গভীর নদীর কথা। তাই হয়তো সামুদ্রিক আবহকে মাথায় রেখে সাজানো হয়েছে নোঙ্গর। বিশাল জলরাশির বুকে দুলতে থাকা জাহাজ যেমন শেষমেশ নোঙর ফেলে শান্ত হয়, তেমনি নোঙ্গর রেস্তোরাঁটিও যেন ব্যস্ত নাগরিকদের কিছুটা সময়ের জন্য গেড়ে বসার জায়গা।

যেন জাহাজের ডেক

২০২৫ সালে উদ্বোধনের পর থেকে রেস্তোরাঁটি নিয়ে ফেসবুকে অনেক ভিডিও চোখে পড়েছে। সেসব থেকে একটা ধারণা মিললেও রেস্তোরাঁটিতে যাওয়ার পর আরও অভিনব মনে হয়েছে। পল্লবী মেট্রোস্টেশনের কাছেই একটি ভবনের ছাদে প্রায় ছয় হাজার বর্গফুট জায়গাকে নোঙ্গর হিসেবে গড়ে তুলেছেন স্থপতি ও ইন্টেরিয়র ডিজাইনার রাজাউল করিম। রেস্তোরাঁর প্রতিটি অংশকে সাজিয়েছেন ছবি তোলার উপযোগী করে। রেস্তোরাঁর যেদিকেই দাঁড়ান কিংবা বসেন, ছবি হবে ‘ফাটাফাটি’।

প্রতি শুক্র ও শনিবার এখানে বিশেষ আয়োজন থাকে

নোঙ্গরের জেনারেল ম্যানেজার মহিউদ্দীন ইসলাম বলেন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সমুদ্রের সজীবতাকে প্রাধান্য দিয়ে নোঙ্গরকে সাজানো হয়েছে। তাই রোদ, বৃষ্টি—সবকিছু উপভোগের ব্যবস্থা এখানে রয়েছে। এ ছাড়া রেস্তোরাঁর সজ্জায় ব্যবহার করা হয়েছে প্রচুর গাছ।

মার্বেল পাথরের সিঁড়ি আমাদের পৌঁছে দেয় ভবনের একদম ওপরে, যেখান থেকে ব্যস্ত শহরের পাশাপাশি মেট্রোরেল চলাচলের দৃশ্য সুন্দরভাবে উপভোগ করা যায়। নুড়িপাথর আর সবুজ কার্পেটের সঙ্গে ব্যবহার করা হয়েছে বিভিন্ন ধরনের গাছ।

জাহাজের কলকবজা দিয়ে সাজানো একদিকের দেয়াল

রুফটপ রেস্তোরাঁটিকে দুই অংশে ভাগ করে সাজানো হয়েছে। এক পাশে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কক্ষ, অন্য পাশ পুরোপুরি খোলা। শীতাতপনিয়ন্ত্রিত অংশে পায়ের নিচে কাঠের মেঝে দেখে মনে হতেই পারে কোনো জাহাজের ডেক। এই কক্ষের সাজসজ্জা অবশ্য সেই চিন্তায় কিছুটা পরিবর্তন আনবে। উঁচু সিলিংয়ের নিচে প্রতিটি পাশে একেক ধরনের জিনিস। জাহাজের কলকবজা দিয়ে সাজানো একদিকের দেয়াল। কলকবজার সঙ্গে সময়ের মেলবন্ধন ঘটাতে রাখা হয়েছে বড় একটি ঘড়ি। আরেক পাশের দেয়ালে একটি এলইডি স্ক্রিনে নারকেলগাছের সারি। সমুদ্রতীরের আবহ আনতেই এমন দৃশ্যের আয়োজন। অন্দরসজ্জাকে আরও মনোমুগ্ধকর করতে বিভিন্ন ফুলের গাছ ও লাইটের ব্যবহার চোখে পড়ে।

খোলা অংশ

আকাশের নিচের খোলা অংশটিকে বলা যায় রুফটপ রেস্তোরাঁটির মূল আকর্ষণ। এখানে প্রবেশ করলেই প্রথমে চোখে পড়ে একটি পানির ফোয়ারা। সন্ধ্যার আগে আগে ফোয়ারাটি চালু করা হয়, বাহারি আলোর সঙ্গে মিশে তৈরি হয় মনোমুগ্ধকর এক পরিবেশ। ফোয়ারাকে ঘিরে মার্বেল পাথরের সিঁড়ি। সিঁড়িগুলোকে যেন আঁকড়ে ধরে আছে আয়না। সিঁড়ি ও আয়না দিয়ে তৈরি কাঠামোটি যেন ফোয়ারাটিকে আগলে রেখেছে। সন্ধ্যার পর খেতে আসা অতিথিরা সিঁড়ি ও আয়নাকে কেন্দ্র করে ছবি তোলায় ব্যস্ত।

নোঙ্গর রেস্তোরাঁটি যেন ব্যস্ত নাগরিকদের কিছুটা সময়ের জন্য গেড়ে বসার জায়গা

ফোয়ারার কাঠামোতে ইংরেজিতে লেখা ‘Water’, ‘Rain’, ‘Mud’, ‘Stone’, ‘Air’, ‘Cloud’, ‘Soil’, ‘Nongor’, ‘Clay’, ‘Life’, ‘Earth’, ‘Fountain’, ‘Tree’, ‘Grass’, ‘Sky’, ‘Plant’  ইত্যাদি শব্দ। প্রতিটি শব্দই প্রকৃতির একেকটি উপাদান, যার সঙ্গে আছে নোঙ্গর। ছাদের এক প্রান্তে সাগরপাড়ের ছাতাসমেত বসার জায়গার আদলে বসার ব্যবস্থা। নুড়ি বিছানো পথ যেন সমুদ্রের তীরে পৌঁছে দিচ্ছে। ছাতার নিচে এমন খোলা জায়গায় বসেও এক বেলা কাটিয়ে দেওয়া যায়।

রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, প্রতি শুক্র ও শনিবার এখানে বিশেষ আয়োজন থাকে। খেতে খেতে উপভোগ করা যায় লাইভ মিউজিক। আয়োজনটির জন্য রেস্তোরাঁর সামনের দিকেই আছে একটি মঞ্চ। যার ওপরে রাখা নোঙর বুঝিয়ে দেয় আপনি এখন কোথায় আছেন। মঞ্চের পাশে সাবেকি ঘরানার গাড়ি আর বাগানবিলাস ফুলের মিতালি তৈরি করেছে পুরোনো দিনের আবহ। দর্শনার্থীদের অনেকেই সে আবহ নিয়ে ছবি তুলতে ব্যস্ত।

রেস্তোরাঁর যেদিকেই দাঁড়ান কিংবা বসেন, ছবি হবে ‘ফাটাফাটি

অন্দরসজ্জা নিয়ে তো অনেক কথাই হলো, এবার খাবারের মেনুটা একটু জানা যাক। এখানে একাধিকবার খেতে আসা অতিথিদের কাছ থেকে জানা গেল, খাবারও ভালো। খাবার ভালো বলার কারণ হলো, ঊর্ধ্বগতির বাজারে মোটামুটি সাশ্রয়ী মূল্যেই উপভোগ করা যাবে থাই, ইন্ডিয়ান বা কন্টিনেন্টাল খাবার। যেহেতু সমুদ্রকে মাথায় রেখে নোঙ্গরের যাত্রা, তাই মেনুর বড় অংশজুড়ে আছে সামুদ্রিক খাবারের পদ।

রেস্তোরাঁটির খোলা অংশে দিনের বেলা রোদ, আলো-বাতাস নিয়ে একধরনের আবহ থাকে, রাতের বেলা আবার কৃত্রিম আলোকসজ্জায় তৈরি হয় ভিন্ন আবহ।