শীতের সময় বন্ধুদের আড্ডায় কাবাব মানেই এক উৎসব
শীতের সময় বন্ধুদের আড্ডায় কাবাব মানেই এক উৎসব

ঢাকার কাবাব ম্যাপ: কোথায় কেমন কাবাব পাবেন

একটা সময় ছিল যখন উৎসব, বিয়ে কিংবা বিশেষ দাওয়াতেই শুধু মিলত কাবাবের স্বাদ; কিন্তু এখন শুধু কাবাবকে কেন্দ্র করেই ঢাকার বিভিন্ন প্রান্তে গড়ে উঠেছে অনেক নতুন হোটেল ও রেস্তোরাঁ, যেখানে ঐতিহ্যবাহী রেসিপির পাশাপাশি আধুনিক উপস্থাপনায় পরিবেশিত হচ্ছে নতুন নতুন কাবাব। কিছু কিছু রেস্তোরাঁ অন্যান্য খাবারের পাশাপাশি নিয়ে এসেছে কাবাবের বিশেষ প্ল্যাটার। খাবারের নতুন এই ধারায় কিছু পুরোনো প্রতিষ্ঠান যেমন টিকে আছে, তেমনি যোগ হচ্ছে নতুন কিছু নাম। চলুন তাহলে জেনে নিই কোথায় গেলে মিলবে ঢাকার সব সুস্বাদু কাবাব।

ধানমন্ডির সুস্বাদু কাবাব

কাবাবের জন্য স্টার হোটেল অ্যান্ড কাবাব পরিচিত নাম। এখানকার মেনুতে মুরগি, গরু ও খাসি—সব ধরনের কাবাবই পাওয়া যায়। স্টার কাবাবের দামও তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী। গরুর কাবাবের মধ্যে আছে শিক কাবাব, রেশমি কাবাব ও বিফ তন্দুরি কাবাব। ১৩০ টাকা থেকে দাম শুরু। খাসির মধ্যে পাবেন আদানা কাবাব, শিক কাবাব এবং ব্রেন মসলা, যেগুলোর জন্য গুনতে হবে ১৩০ থেকে ২৩০ টাকা। মুরগির নানা পদের বৈচিত্র্যও চোখে পড়ার মতো।

নানা ধরনের আর স্বাদের কাবাব পাওয়া যাচ্ছে ঢাকায়

ধানমন্ডি ২৭ নম্বরের অক্সফোর্ড স্কুলের সামনেই তৈরি হয়েছে কাবাবের নতুন এক ঠিকানা। নাম লাহোরি নিহারি ঢাকা। পাকিস্তানি রীতিতে তৈরি কাবাব ও নিহারি পরিবেশনকারী রেস্তোরাঁটি যাত্রা শুরু করে ২০২৩ সালে। রেস্তোরাঁটির স্বত্বাধিকারী শাহিন সারাহর ভাষায়, বাংলাদেশে কোনো রেস্তোরাঁতেই আসল পাকিস্তানি কাবাবের স্বাদ পাননি তিনি। সেই অপূর্ণতা থেকেই ঢাকায় পাকিস্তানি কাবাবের স্বাদ নিয়ে আসতে অনুপ্রাণিত হন। লাহোরি নিহারির সিগনেচার ডিশ মুর্গ মাখনওয়ালা ও রেশমি মাখনওয়ালা। মূলত বিশেষভাবে তৈরি করা কাবাবকেই মাখনে ডুবিয়ে পরিবেশন করা হয়। দাম ৩৮০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা।

মোহাম্মদপুরের মোস্তাকিম কাবাব

মোহাম্মদপুরের মোস্তাকিম কাবাব

সময়টা ১৯৮৬। মোহাম্মদপুর উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে এখন যেখানে ফুটপাত, সেখানেই প্রথম বসেছিল মোস্তাকিমের চাপ-কাবাবের দোকান। মোস্তাকিমের সঙ্গে একই সারিতে ইসলামি, দারুর কাবাব ও সরফু মিয়ার কাবাব নামে আরও চারটি দোকান ছিল। অবশ্য বাকি দোকানগুলোর কোনোটাই এখন আর নেই। কেউ অন্যত্র সরে গেছেন; আবার কেউ অন্য ব্যবসায় জড়িয়েছেন। সময় গড়িয়েছে, প্রশস্ত রাস্তা হয়েছে। স্কুলের ফটক বরাবর যে রাস্তাটা চলে গেছে, তারই বাঁ পাশে বসেছে মোস্তাকিমের দোকান। মোস্তাকিমের দোকানের সঙ্গে যোগ হয়েছে মুসলিম, মুরসালিন ও রহিম কাবাব নামে আরও তিনটি দোকান। জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা মোস্তাকিম ধারণ ক্ষমতা বাড়াতে পাশেই খোলে আরেকটি শাখা। খোলা থাকে বিকেল চারটা থেকে রাত দুইটা পর্যন্ত। মোস্তাকিম ভ্যারাইটিজ কাবাব অ্যান্ড স্যুপ নামের খাবারের তালিকায় চোখ বুলানো যাক। বিফ আইটেমের মধ্যে আছে গরুর চাপ কাবাব, বটি কাবাব, মগজ ফ্রাই, খিরি কাবাব, গুরদা কাবাব, বট ভুনা, বিফ হান্ডি চাপ কাবাব, কোপ্তা কাবাব, গরুর নেহারি, শিক কাবাব, মালাই কাবাব ও টিক্কা। মিলবে ১০ টাকা থেকে ২৫০ টাকার মধ্যে। এ ছাড়া আছে খাসি ও মুরগির চাপ।

রেইনি রুফ রেস্তোরাঁয় পাওয়া যায় এ ধরনের প্ল্যাটার

ঢাকার কারওয়ান বাজারে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশন ভবনের ছাদে রেইনি রুফ–এর অবস্থান। রেস্তোরাঁটির ছাদ থেকে শহরের সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে নিতে পারবেন চারকোল গ্রিলের ধোঁয়াটে স্বাদ। কাবাবের পাশাপাশি অনেক ধরনের খাবারও এখানে আছে। ৭৩৫ টাকায় এখানে পাবেন চিকেন আদানা কাবাব, ৮৯৫ টাকায় বিফ আদানা কাবাব। সঙ্গে পরিবেশন করা হয় নানরুটি, অনিয়ন সালাদ, গ্রিলড সবজি ও ফ্রেঞ্চ ফ্রাই। প্রতি ৬০০ গ্রাম কোরাল মাছের কাবাবের দাম ১ হাজার ১৯৫ টাকা ও ফ্যামিলি সাইজ হিসেবে প্রতি ১ কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের দাম পড়বে ২ হাজার ২৯৫ টাকা। পাশাপাশি গ্রিল করা রূপচাঁদা মাছ প্রতি ২৫০ গ্রামের দাম ৭৯৯ টাকা। ৮ পিস গ্রিল করা চিংড়ির দাম পড়বে ১ হাজার ৫০ টাকা।

কাবাবের নতুন ঠিকানা উত্তরা

চিকেন টিক্কাও পছন্দ করছেন অনেকে

উত্তরার নতুন দোকান মেহফিল-এ-গোশত একটু ভিন্নভাবে, কিছুটা আধুনিক কেতায় কাবাবকে উপস্থাপন করছে। এখানে এলে পাবেন পাকিস্তানি কাবাবের স্বাদ। মেহফিল-এ-গোশত রেস্তরাঁয় রেশমি কাবাবের দাম শুরু ২৭৯ টাকা থেকে, সঙ্গে আছে চিকেন সুনেহরি কাবাব, টিক্কা কাবাব ও টাংরি কাবাব। গোশত কাবাবের মধ্যে আছে মেহফিল-এ-দই শিক কাবাব, দাম ৫৭৯ টাকা। এ ছাড়া আছে গোশত চাপলি কাবাব এবং দিল চর্বি কাবাব।

উত্তরার কাবাবপ্রেমীদের আরেক গন্তব্য কাবাব ফ্যাক্টরি। সেক্টর ৭-এর লেক ড্রাইভ রোডে অবস্থিত রেস্তরাঁটি বৈচিত্র্যময় কাবাব ও গ্রিল আইটেমের জন্য পরিচিত। এখানে আফগান স্বাদের কাবাব থেকে শুরু করে সামুদ্রিক মাছের গ্রিল—সবই এক ছাদের নিচে পাওয়া যায়। তাঁদের নতুন সংযোজন মাটন হানজাই কাবাব, ল্যাম্ব চপ, করাচি চিকেন কাবাব, মালাই টিক্কা, বিফ শিক ও বিফ বিহারি কাবাব। নতুন প্রজন্মের পছন্দের কথা মাথায় রেখে উত্তরার কাবাব ফ্যাক্টরি নিয়ে এসেছে কাবাব রোল। যার মধ্যে আছে চিকেন কাবাব রোল, বিফ কাবাব রোল ও বাটার চিকেন রোল।

পুরান ঢাকার বিসমিল্লাহ কাবাব ঘর

পুরান ঢাকার বিসমিল্লাহ কাবাব ঘর

সারা দিনের কর্মব্যস্ততা শেষে ধীরে ধীরে নীরব হয়ে আসে ঢাকা; কিন্তু কিছু অংশে ঘটে উল্টো ঘটনা। সেখানে বরং সন্ধ্যার পর থেকেই বাড়তে থাকে মানুষের আনাগোনা। রাত যত গভীর হয়, সমানুপাতিক হারে বাড়ে মানুষের ভিড়। কাবাবের স্বাদ নিতে পুরান ঢাকা থেকে নতুন ঢাকা, এমনকি দেশের নানা প্রান্ত থেকেও মানুষ এসে ভিড় করে নাজিরাজার। কাবাবের জন্য বিখ্যাত পুরান ঢাকার এই এলাকা। এখানে কাবাবের ব্যবসা চালু করে বিসমিল্লাহ কাবাব ঘর।

রাত যত বাড়ে কাবাবের দোকানগুলো ততই যেন জমজমাট হয়ে ওঠে

বিসমিল্লাহ কাবাব ঘরের কর্ণধার মোঃ হাবিবুর রহমানের জবানিতে শুনুন শুরুর দিনগুলোর কথা, ‘সালটা ছিল ১৯৯০। ওল্ড টাউনে তখন এমন কাবাবের দোকান ছিল না। নাজিরবাজারের এই অংশে সাইকেলের যন্ত্রাংশ আর কিছু তুলার গোডাউন ছিল। একদম নিরিবিলি এমন একটা জায়গায় খাবারের দোকান দিতে অনেকেই মানা করেছিল; কিন্তু আমার কোথাও যেন একটা আত্মবিশ্বাস ছিল। এই কাবাব যেহেতু পুরান ঢাকায় নেই, আবার স্বাদটাও একটু ভিন্ন, তাই নতুন খাবারের স্বাদ নিতে হলেও মানুষ এখানে আসবে বলে আমার বিশ্বাস ছিল। আর সেই থেকে যাত্রা শুরু।’

কাবাবের দাম ১৫০ টাকা থেকে শুরু। পাওয়া যাবে মুরগি, খাসি ও গরুর কাবাব। আরও আছে চিকেন টিক্কা, তন্দুরি ও লেগ চাপ, চিকেন ব্রেস্ট চাপ, ব্রেস্ট চাপ বারবিকিউ, চিকেন বটি কাবাব বারবিকিউ, রেশমি ও হারিয়ালি কাবাব, মাটন মগজ ফ্রাই, বিফ মগজ ফ্রাই, মাটন গুরদা কাবাব, খিরি কাবাব ইত্যাদি।

মিরপুরের কাল্লু কাবাব

মিরপুর ১১ নম্বরের ডেলটা হেলথ কেয়ার হাসপাতালের বিপরীতে ব্র্যাক ব্যাংকের পাশ দিয়ে মেট্রোরেলের পিলার নম্বর ২১৪ বরাবর যে গলিটা গেছে, সেটা দিয়ে মিনিট কতক এগোলেই কাল্লু কাবাবের দেখা মিলবে। ওপরে খাবার জন্য বসার ব্যবস্থা আর নিচতলার পুরোটাই রান্নাঘর। কোনো গ্যাসের কারবার নেই। মাটির চুলায় শুকনা লাকড়িতে রান্না। লাকড়ির চুলায় রান্না করা খাবারের স্বাদই অন্য রকম। আর এই স্বাদের জন্যই প্রতিদিন ছুটে আসে মানুষ, জানালেন মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম। একই সঙ্গে তিনি ক্যাশ সামলাচ্ছেন, আবার বাঁশের আগুনের ওপর থাকা তাওয়ায় ছড়িয়ে দিচ্ছেন মসলা মাখানো মাংস।

তেলে ভাজা হচ্ছে মুরগির চাপ

বছর তিনেক আগেও লোকে এই দোকানকে ‘ধাবা ধাবা’ বলে ডাকত। ছিল বেড়ার ঘর। ওপরে টিন, চারপাশেও টিনের বেড়া আর নিচে মাটির মেঝে। পাশে ছিল প্রকাণ্ড এক বটগাছ, সেই গাছের তলায় বসে কাবাব খেতেন লোকজন।

তিন বছর হলো রাস্তা প্রশস্ত করার কারণে দোতলা ভবনে উঠল কাল্লু কাবাব। যেখানে নিচতলায় রান্নাঘর আর দোতলায় খাবারের ব্যবস্থা। নিচতলার রান্নার কর্মযজ্ঞ দেখে ওপরে উঠতেই মনে হবে যেন হুট করে লোকারণ্যে চলে এসেছি।

সব টেবিলভর্তি লোকজন। খেতে খেতে গল্পে ব্যস্ত। কেউবা আবার সিট দখলের জন্য অপেক্ষমাণ। তেমনি পাঁচজনের একটি দল এসেছে মোহাম্মদপুর থেকে। মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা মোঃ ইমরান জানান, বিহারি ক্যাম্পের মোস্তাকিমেই খাওয়া হয় বেশির ভাগ। আজ অফিসের সহকর্মীদের নিয়ে বিভিন্ন স্বাদের খোঁজে এই কাল্লু কাবাবে আসা। গরুর চাপ, মুরগি চাপ, বিফ শিক সবই ১৫০ টাকা করে। লুচি ১০ টাকা।

গুলশানের রাতের কাবাব

গুলশান ২ নম্বর গোলচত্বরের কাছেই ল্যান্ডমার্ক ভবনের পেছনে একচিলতে রাস্তার পরেই গুলশান টাওয়ার ভবন। রাতে দূর থেকেই দেখা যায় ধোঁয়া। ধোঁয়া অনুসরণ করে এগিয়ে গেলেই ‘রাতের কাবাব’। আগুনে ঝলসে তৈরি হচ্ছে বারবিকিউ, কাবাব। যেখানে খাবার তৈরি হচ্ছে, সেখানেই বসার ব্যবস্থা। বাড়তি চাপের জন্য আরও একটি দোকানে বসার জায়গা করে দিতে হয়েছে।

বাঁশ দিয়ে বানানো প্রবেশপথের একপাশে কড়াইতে কড়াইতে নানা ধরনের কাবাব। পাশেই কড়াইয়ের উল্টো পিঠে বানানো হচ্ছে রুমালি রুটি। সামনে পাকা বাঁশের ঘন বিন্যাসে ঘেরা বেড়া, ওপরেও বাঁশের ছাউনি, তার ওপর ত্রিপল। নিচে পাতা চারটি টেবিল ঘিরে আসন, প্রতিটিই পূর্ণ। খাবার শেষ করে বেরিয়ে আসা একজন বলছিলেন, প্রায়ই অফিস শেষ করে এখানে খেতে আসি। এখানে অনেকটা ৩০০ ফিটের ভাইভ পাওয়া যায়। শহরের জ্যাম ঠেলে দূরের ৩০০ ফিটে গিয়ে খাওয়ার চেয়ে এখানেই পাওয়া যাচ্ছে ৩০০ ফিটের দামে খাবার।

নানা ধরনের মাছের কাবাবও পাওয়া যায়

২০২৩ সালের শেষ দিকে ঠাকুরগাঁওয়ের ছেলে মাসুদ রানার হাত ধরে চালু হয় রাতের কাবাব। মাসুদ রানা জানাচ্ছিলেন শুরুর কথা, আমি দীর্ঘ ২৫ বছর রেস্টুরেন্ট লাইনে চাকরি করি। গুলশান, বনানী এলাকায় দৈনিক চুক্তিভিত্তিক রেস্টুরেন্টের ক্যাটারিং সার্ভিসের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম।

একসময় হাতে কাজের পরিমাণ কমে যায়। বলা চলে পুরো বেকার হয়ে পড়ি। জীবিকার জন্য বাইকে রাইড শেয়ার থেকে শুরু করে অনেক কিছুই করি। সারা দিনের পরিশ্রম শেষে রাতে এসে বসতাম গুলশানে রংপুর চায়ের দোকানে। চা–দোকানের মালিক মো. সেলিম ভাইয়ের সঙ্গে বুদ্ধিপরামর্শ করে সামনে একটি টংগাড়ি দিয়ে শুরু করি। আমার দেখা, ক্যাটারিংয়ে কাবাবের মতো খাবারগুলোই বেশি পছন্দ করেন গুলশান–বনানীর মানুষ। এ দিকটা মাথায় রেখেই কাবাবের দোকান দেওয়া। আর যেহেতু রাত জাগতে, রাতে ঘুরতে আমার পছন্দ, তাই দোকানের নামটাও দিয়েছি ‘রাতের কাবাব’।

শুরুর পনেরো দিনের মাথায় চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে আমার দোকানের নামডাক, যাকে বলে ভাইরাল। এখন ঢাকার বিভিন্ন প্রান্তে আছে রাতের কাবাবের ছয়টি শাখা। গুলশান ২–এর ২টিসহ গুলশান ১, ৩০০ ফিট, হাউজ বিল্ডিং মাসকট প্লাজার পেছনে, এভার কেয়ার হাসপাতালের পেছনে আছে একটি করে রাতের কাবাবের দোকান। মানুষজনের মধে৵ যেমন সাড়া ফেলেছে, বিমানের ভ্রমণ গাইড বইতেও ঠাঁই পেয়েছে রাতের কাবাবের কথা।

আগারগাঁওয়ের নতুন রাস্তায় কাবাবের পসরা

শীতের সন্ধ্যায় কাবাব খেতে যেতে পারেন আগারগাঁও শেরেবাংলা নগরের সারি সারি কাবাবের স্টলে। আগারগাঁও মেট্রো স্টেশন থেকে কিছুটা দূরত্বে আগারগাঁওয়ের নতুন রাস্তায় বসে এসব অস্থায়ী কাবাবের দোকান। সূর্য ডোবার পরপরই এখানে দেখা যায় স্ট্রিট কার্টের পসরা, সঙ্গে থাকে কাবাবের ধোঁয়া ওঠা মসলার সুবাস। কয়লার আগুনে আপনার সামনেই তাঁরা তৈরি করে দেবে আগে থেকে ম্যারিনেট করে রাখা চিকেন মালাই কাবাব, হারিয়ালি কাবাব, রেশমি কাবাব, চিকেন চাপ ও গ্রিল চিকেন। কোথাও কোথাও পাওয়া যায় মাটন চাপ বা বিফ শিক কাবাবও। এই স্ট্রিট কাবাবের বড় আকর্ষণ হলো দাম। যেহেতু রাস্তার পাশেই স্টলে নিয়ে বসা হয়, তাই দামও তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী—৬০ টাকা থেকে শুরু।

শীতের সন্ধ্যায় কাবাব খেতে যেতে পারেন আগারগাঁও শেরেবাংলা নগরের সারি সারি কাবাবের স্টলে

মিরপুর থেকে আগারগাঁওয়ে কাবাব খেতে বন্ধুদের নিয়ে এসেছেন শবনম সুলতানা। নামীদামি দোকানের কাবাব খেলেও স্ট্রিট কার্টের কাবাবে আলাদা এক মজা, জানান তিনি। টাটকা সালাদ, ঝাল-মিষ্টি সস এবং বিশেষ চাটনির সঙ্গে পরিবেশন করা হয় প্রতিটি কাবাব। তবে সন্ধ্যার পরেই এলাকাটি জমজমাট হয়ে ওঠে। যাঁরা শীতের রাতে ঢাকার ভেতরেই কম দামে সুস্বাদু কাবাব উপভোগ করতে চান, ঘুরে আসতে পারেন আগারগাঁওয়ের এই কাবাব স্টল।