বছরের এ সময়কে বলা হয় বিয়ের মৌসুম। চারদিকে গায়েহলুদ, মেহেদি আর বিয়ের আয়োজন। তাই অনেকেই জানতে চাইছেন—কম সময়ে কীভাবে বিয়ের সাজসজ্জা পরিকল্পনা করবেন, কোথায় গেলে একসঙ্গে পাওয়া যাবে বিয়ের সব উপকরণ! আগারগাঁওয়ের ফুলবাজারেই মিলবে এর সমাধান। আগারগাঁও মেট্রোস্টেশন থেকে পায়ে হাঁটা দূরত্বেই এই পাইকারি ফুলের বাজার।
নামে ফুলের বাজার হলেও ফুল ছাড়াও বিয়ের আলোকসজ্জা, ইভেন্ট প্ল্যানিং, ক্যাটারিং, ডেকোরেশন সার্ভিসসহ সব আয়োজনই এখানে মিলবে। ঘরোয়া আয়োজন থেকে শুরু করে বড় আকারের বিয়ে—সব ধরনের আয়োজনের সরঞ্জামই এখানে পাবেন।
বিয়ের অনুষ্ঠানে ফুল শুধু সৌন্দর্যই বাড়ায় না, বরং পুরো আয়োজনের আবহ তৈরি করে। ‘সিক্রেট গার্ডেন’-এর ফুল বিক্রেতা শাহাদাত হোসেন জানান, বেশির ভাগ মানুষই এখন কৃত্রিম ফুলের বদলে অনুষ্ঠানে আসল ফুল ব্যবহারে আগ্রহী। গায়েহলুদ কিংবা বিয়ের জন্য ফুলের অর্ডার দুই থেকে তিন দিন আগে দিলে ভালো। এতে নিখুঁত কাজ পাওয়া যায়। তবে বড় ও ডিজাইনার অর্ডারের ক্ষেত্রে ১০ থেকে ১৫ দিন আগে বুকিং দেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ। যেহেতু অনেক ফুলই চীন থেকে আসে। বর্তমানে চায়নিজ গোলাপ, লিলি ও চায়নিজ জিপসি ফুলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি।
বর-কনের জন্য এক জোড়া ফুলের মালার দাম সাধারণত ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা। ডিজাইন অনুযায়ী ফুলের গয়নার সেটের দাম পড়বে ৩০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা। কনের জাঁকজমকপূর্ণ ফুলের অলংকারের ক্ষেত্রে এই খরচ আরও বাড়বে। কখনো কখনো যা ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত পৌঁছায়। বর-কনেকে বরণ করতে বা টেবিল সাজাতেও আজকাল ফুলের তোড়া ব্যবহার করা হয়। ছোট ফুলের তোড়া ৫০০ টাকা থেকে শুরু আর বড় ও ভারী তোড়ার দাম ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত।
ইনডোর ডেকোরেশনের খরচ সাধারণত ৫০ হাজার টাকা থেকে শুরু হয়, যেখানে পুরো বাসার সাজ, স্টেজ ও গেট অন্তর্ভুক্ত থাকে। আবার শুধু গায়েহলুদ বা ব্রাইডাল শাওয়ারের জন্য ঘরের একটি অংশ সাজাতে চাইলে খরচ শুরু হয় ২৫ হাজার টাকা থেকে। এসব ডেকোরেশন সাধারণত ২৪ ঘণ্টা বা এক দিনের জন্য দেওয়া হয়। সময় বাড়ালে খরচও বাড়ে।
আউটডোর অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে এক দিনের ডেকোরেশন খরচ প্রায় এক লাখ টাকা, তিন দিনের জন্য দেড় লাখ টাকায় গিয়ে দাঁড়ায়। এ ছাড়া কিছু কনভেনশন হলে ইভেন্ট ডেকোরেশনের সঙ্গে অতিরিক্ত ভ্যাট যুক্ত হতে পারে, যা আগেই জানা জরুরি।
গেট ডেকোরেশন এখন বিয়ের অন্যতম আকর্ষণ। কাঠের ফ্রেম, ব্যানার, নেট বা টিস্যু কাপড় এবং তাজা অথবা কৃত্রিম ফুল দিয়ে গেট সাজানো হয়। সাধারণ গেট ডেকোরেশনের খরচ পাঁচ হাজার টাকা থেকে শুরু হলেও ডিজাইন ও উপকরণ অনুযায়ী সেটা ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। গায়েহলুদের অনুষ্ঠানে বর-কনের নামসংবলিত কাস্টমাইজড কর্কশিটের চাহিদাও বেড়েছে, দাম সাধারণত ৩০০ থেকে ১ হাজার টাকা। এসব কাজের জন্য ১৫ থেকে ২০ দিন আগে বুকিং দিলে ঝামেলা কম হয়।
বিয়েতে সাধারণ একটি প্রাইভেট কার সাজাতে খরচ দুই হাজার টাকা। ডিজাইন ও ফুলের ব্যবহার অনুযায়ী সেটা যেতে পারে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত।
মঞ্চ বিয়ের সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন অংশ হওয়ায় এর বাজেটও বেশি। সাধারণ মঞ্চের খরচ শুরু হয় ১৫ হাজার টাকা থেকে, তবে বড় স্টেজ, ফটো বুথ ও থিম ডেকোরেশন যুক্ত হলে এই খরচ কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
আলো ছাড়া বিয়ের সাজসজ্জা যেন অসম্পূর্ণ। আগারগাঁওয়ের ইভেন্ট প্ল্যানারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, লাইটিংয়ের খরচ মূলত নির্ভর করে ভবনের আকার, উচ্চতা ও ব্যবহৃত লাইটের ধরনের ওপর। এলইডি ও মরিচবাতির পাশাপাশি বর্তমানে পিক্সেল লাইট সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ছে, যদিও এটি তুলনামূলক ব্যয়বহুল। একতলা একটি বাড়ি পুরোপুরি আলো দিয়ে সাজাতে এক দিনের খরচ প্রায় ১০ হাজার টাকা। ভবন যত উঁচু হবে, আলো বসানোর খরচও সে অনুযায়ী বাড়বে। ভবন ভেদে খরচ হতে পারে ১০ থেকে ৫০ হাজার টাকা।
‘জান্নাত ওয়েডিং অর্গানাইজার্স’-এ কথা বলে জানা যায়, ফুচকা, গরম জিলাপি, পিঠা কিংবা পানের স্টলের মতো আয়োজন অতিথিদের বাড়তি আনন্দ দেয়। এসব স্টলের জন্য সাধারণত ১ থেকে ২ সপ্তাহ আগেই ৫০-৭০ শতাংশ অগ্রিম খরচ দিয়ে বুকিং দিতে হয়। একটি স্টল ভাড়া নিতে গড়ে খরচ হয় ২ হাজার টাকা, তবে খাবারের উপকরণ ক্রেতাকেই সরবরাহ করতে হয়।
ছোট ও ঘরোয়া আয়োজনের ক্ষেত্রে অনেকেই নিজের মতো করে সাজাতে চান। আগারগাঁওয়ের দোকানগুলোতে চেয়ার-টেবিল, সোফা সেট, টেবিল টপ, চেয়ার বো, কৃত্রিম ফুল, কাপড় ও কাঠের ফ্রেমও ভাড়ায় পাওয়া যায়। ২৪ ঘণ্টার জন্য একটি টেবিল টপের ভাড়া প্রায় ২০০ টাকা, চেয়ার বো ৫ টাকা, আর কৃত্রিম ফুলের একটি গুচ্ছ ভাড়া নেওয়া যায় ২০ টাকায়। সোফা সেট বা কাঠের টুলে সিটিং ব্যবস্থাও ভাড়ায় পাওয়া যায়। যদিও এর সঙ্গে দূরত্ব অনুযায়ী ডেলিভারি চার্জ যোগ হয়।