দেশে ঘোরার খরচেই বিদেশভ্রমণ করতে এই উপায়গুলো জেনে রাখুন

কক্সবাজার বা সাজেকে ঘুরতে যে খরচ, সেই বাজেটের কাছাকাছি খরচে কখনো কখনো বিদেশভ্রমণ করা সম্ভব। তবে তার জন্য চাই পূর্বপরিকল্পনা। ভ্রমণের পরিকল্পনা থেকে শুরু করে দেশে ফেরার আগপর্যন্ত কয়েকটি বিষয়ে সচেতন থাকলে বিদেশভ্রমণের খরচ অনেকটাই কমানো সম্ভব। খরচ কতটা কমানো যাবে, তা ভ্রমণের পরিকল্পনা, সময়, গন্তব্য এবং বুকিংয়ের ওপর নির্ভর করে।

এয়ার টিকিট

বিদেশভ্রমণের মোট বাজেটের বড় একটি অংশ যাতায়াতে চলে যায়
ছবি: পেক্সেলস

বিদেশভ্রমণের মোট বাজেটের বড় একটি অংশ যাতায়াতে চলে যায়। বিশেষ করে বিমানের টিকিট। ধরুন, ঢাকা থেকে মিসরে যাওয়া-আসার টিকিটে খরচ হলো ৯০ হাজার টাকা। সেখানে পৌঁছানোর পর থাকা-খাওয়া ও ঘোরার খরচ আমাদের দেশের তুলনায় কম। ফলে পুরো ভ্রমণ ব্যয়ের বড় অংশই বিমানভাড়া।

টিকিটের খরচ কমানোর প্রথম উপায় হলো আগে থেকে পরিকল্পনা। বাংলাদেশ থেকে চলাচলকারী বিভিন্ন এয়ারলাইনস সময় সময় বিশেষ অফার দেয়। এয়ারলাইনসগুলোর নিউজলেটার বা প্রচারণামূলক বার্তা সাবস্ক্রাইব করে রাখলে এসব অফারের খবর আগে পাওয়া যায়।

ভ্রমণের তারিখ যত আগে নির্ধারণ করা যায়, ততই টিকিটের বিভিন্ন ভাড়া তুলনা করার সুযোগ থাকে। শেষ মুহূর্তে টিকিট কিনলে ভাড়া বেশি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

ট্রাভেল এজেন্সির পাশাপাশি গোযায়ানের মতো অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি বা ওটিএর অফারও দেখা যেতে পারে। বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কার্ডে এসব প্ল্যাটফর্মে সময় সময় ছাড় পাওয়া যায়। ট্রিপ ডটকমের মতো আন্তর্জাতিক বুকিং প্ল্যাটফর্মেও বিভিন্ন সময় টিকিটের অফার থাকে। তবে বিদেশি মুদ্রায় লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যাংকের নিয়ম ও বাংলাদেশে প্রযোজ্য বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারের বিধি আগে জেনে নেওয়া জরুরি। বর্তমানে ৩০০ ডলারের বেশি মূল্যের টিকিট নিতে ব্যাংকের অনুমতি লাগে।

ভিসা প্রসেসিং

বাংলাদেশের পাসপোর্ট

বিদেশভ্রমণের ক্ষেত্রে ভিসা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অনেক দেশের ভিসার আবেদন নির্দিষ্ট এজেন্সির মাধ্যমে করতে হয়। আবার কিছু দেশের ক্ষেত্রে আবেদনকারী নিজেই অনলাইনে বা নির্ধারিত ভিসা সেন্টারে আবেদন করতে পারেন।

যেসব দেশের ক্ষেত্রে নিজে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে, সেখানে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও প্রক্রিয়া ভালোভাবে জেনে নিয়ে নিজেই আবেদন করা যেতে পারে। এতে এজেন্সির সার্ভিস চার্জের খরচ বাঁচতে পারে।

তবে ভিসার নিয়ম দেশভেদে আলাদা। ইউটিউবে এ–সংক্রান্ত অনেক কনটেন্ট পাওয়া যায়। আবার এআই ব্যবহার করেও সাধারণ ধারণা নেওয়া যেতে পারে। তবে আবেদনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাস, কনস্যুলেট বা সরকারি ভিসা ওয়েবসাইটের সর্বশেষ নির্দেশনাই অনুসরণ করা উচিত।

বিমানবন্দর থেকে হোটেল

নতুন দেশে পৌঁছে প্রথম বড় খরচগুলোর একটি হতে পারে বিমানবন্দর থেকে হোটেলে যাওয়ার খরচ

নতুন দেশে পৌঁছে প্রথম বড় খরচগুলোর একটি হতে পারে বিমানবন্দর থেকে হোটেলে যাওয়ার খরচ। বেশির ভাগ শহরের বিমানবন্দর মূল শহর থেকে বেশ দূরে। ট্যাক্সি বা প্রাইভেট গাড়ি নিলে খরচ আরও বাড়তে পারে। দেশভেদে এই খরচ ৩ থেকে ১৫ হাজার টাকাও হতে পারে।

তাই ভ্রমণের আগেই বিমানবন্দর থেকে হোটেলে যাওয়ার পথটি ঠিক করে রাখা ভালো। কোথাও বিমানবন্দর মেট্রো, কোথাও বাস বা শাটল সার্ভিস থাকে। এসব পরিবহনে ট্যাক্সির তুলনায় অনেক কম খরচে শহরে পৌঁছানো যায়।

কিছু হোটেল আবার বিমানবন্দর থেকে বিনা মূল্যে বা নির্দিষ্ট ফিতে পরিবহনের ব্যবস্থা করে। হোটেল বুকিংয়ের সময় এ সুবিধা আছে কি না, দেখে নেওয়া যেতে পারে।

হোটেল বুকিং

হোটেল ভাড়া কমানোর সবচেয়ে সহজ উপায় হলো আগে থেকে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে দাম তুলনা করা

হোটেল ভাড়া কমানোর সবচেয়ে সহজ উপায় হলো আগে থেকে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে দাম তুলনা করা। বুকিং ডটকম, অগোডা, ট্রিপ ডটকমের মতো অনলাইন প্ল্যাটফর্মে একই এলাকার বিভিন্ন হোটেলের দাম, অবস্থান, সুযোগ-সুবিধা ও অতিথিদের পর্যালোচনা একসঙ্গে দেখা যায়। ভ্রমণের মাসখানেক আগে হোটেল বুকিং দিলে বাজেটের মধ্যেই পেয়ে যাবেন। তবে শুধু কম দাম দেখেই হোটেল নির্বাচন না করে অবস্থানটিও বিবেচনায় রাখা উচিত। শহরের একেবারে বাইরে সস্তা হোটেল নিলে প্রতিদিন যাতায়াতে যে অতিরিক্ত খরচ হবে, তা অনেক সময় হোটেল ভাড়ার সাশ্রয়কে খেয়ে ফেলতে পারে। তাই গণপরিবহনের কাছাকাছি এবং দর্শনীয় স্থানগুলোতে যাতায়াত সহজ—এমন জায়গায় হোটেল নিলে মোট ভ্রমণ ব্যয় কমতে পারে।

ট্যুর ও আকর্ষণের টিকিট

বিদেশে বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র, জাদুঘর, রাইড কিংবা ডে-ট্যুরে আলাদা আলাদা টিকিট কিনতে হয়

বিদেশে বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র, জাদুঘর, রাইড কিংবা ডে-ট্যুরে আলাদা আলাদা টিকিট কিনতে হয়। কিছু ক্ষেত্রে আগে থেকে অনলাইনে বুক করলে ছাড় পাওয়া যায়। আবার একাধিক আকর্ষণ মিলিয়ে কম্বো প্যাকেজও পাওয়া যায়।

Klook-এর মতো প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন গন্তব্যের ট্যুর, আকর্ষণের টিকিট ও রাইডের প্যাকেজ পাওয়া যায়। তবে বুকিংয়ের আগে একই সেবার দাম সংশ্লিষ্ট আকর্ষণের নিজস্ব ওয়েবসাইটেও দেখে নেওয়া ভালো। কোন প্যাকেজে কী কী অন্তর্ভুক্ত, বাতিলের নিয়ম কী এবং অতিরিক্ত চার্জ আছে কি না—এসবও দেখে নিতে হবে।

খাবার

ভ্রমণের বাজেটের আরেকটি বড় খরচ খাবার

ভ্রমণের বাজেটের আরেকটি বড় খরচ খাবার। তাই হোটেল বাছাইয়ের সময় সকালের নাশতাসহ বুকিং করলে দিনের একটি বেলার খাবার খরচ কমে যায়। দুপুর বা রাতের খাবারে প্রতিদিন পর্যটন এলাকার দামি রেস্তোরাঁয় না গিয়ে স্থানীয় খাবারের দোকান বা সাধারণ রেস্তোরাঁয় খাওয়া যেতে পারে। এতে খরচ কমার পাশাপাশি স্থানীয় খাবারের স্বাদও নেওয়া যায়।

বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে বা বিমানবন্দরে কার্ডের সুবিধা থাকলে লাউঞ্জ ব্যবহার করেও খাবারের খরচ কিছুটা কমানো সম্ভব। তবে লাউঞ্জ সুবিধা কার্ড ও ব্যাংকভেদে আলাদা। তাই আগে থেকেই নিজের কার্ডের সুবিধাগুলো জেনে নেওয়া ভালো।

শেষ কথা, আপনি যদি বাজেট ট্রাভেলার হন, তবে নানা উপায়েই ভ্রমণের বিভিন্ন খাত থেকে খরচ কমিয়ে দেশে ঘোরার খরচেই প্রতিবছর ঘুরতে পারেন নতুন কোনো দেশ!