
সবুজ পাহাড়, নীল জলের সমুদ্র আর প্রাচীন শহরের টানে প্রতিবছর অনেক বাংলাদেশি দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কা ভ্রমণ করেন। ২০২৫ সালে প্রায় ৬০ হাজার বাংলাদেশি শ্রীলঙ্কা ভ্রমণে গেছেন। আপনার ভ্রমণ পরিকল্পনায় সহায়তা করবে, এমন ১০ তথ্য জানাচ্ছেন সজীব মিয়া
ঢাকা থেকে কলম্বো বিরতিহীন ফ্লাইটে সময় লাগে তিন থেকে চার ঘণ্টা। শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইনস, সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস, থাই এয়ারওয়েজ, ফিটস এয়ার, ইন্ডিগো, এয়ার ইন্ডিয়াসহ বেশ কিছু এয়ারলাইনস প্রতিদিন বিরতি দিয়ে ও বিরতিহীন ফ্লাইট পরিচালনা করছে। ভ্রমণের যত আগে টিকিট নিশ্চিত করবেন, তত সাশ্রয়ী দামে কিনতে পারবেন। বিরতিহীন যাত্রায় ইকোনমি ক্লাসে ৬০ হাজার থেকে ৭০ হাজার টাকায় যাতায়াত করতে পারবেন।
দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কা ঘিরে আছে ভারত মহাসাগর। সাত দিনের ভ্রমণ পরিকল্পনা করলে শ্রীলঙ্কার বেশ কিছু এলাকা আপনি ঘুরে দেখতে পাবেন। আপনার যাত্রা সমুদ্র অঞ্চল কলম্বো, গল থেকে পাহাড়ি অঞ্চল ক্যান্ডি, নুয়ারা এলিয়ার দিকে হতে পারে বা পাহাড়ি অঞ্চলে ভ্রমণ শেষে সমুদ্র উপকূলেও আসতে পারেন। তবে যা–ই করুন না কেন, আগে থেকেই হোটেল-রিসোর্ট–গাড়ি বুকিং করে যাওয়া উচিত।
শ্রীলঙ্কায় মোটরসাইকেল, স্কুটি ও টুকটুক (অটোরিকশা বা টেম্পোর মতো বাহন) ভাড়া পাওয়া যায়। অনেক পর্যটক নিজেদের মতো এসব বাহন ভাড়া করে চলাফেরা করেন। তবে এ জন্য আগে থেকেই পারমিট নিতে হবে। আপনার বাংলাদেশি ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকলে ওয়েবসাইটে (www.srilankabikerent.com/) আবেদন করে পারমিট পেতে পারেন। পারমিটের জন্য ব্যয় হবে প্রায় পাঁচ হাজার টাকা।
শ্রীলঙ্কায় ভ্রমণে বিদেশি পর্যটকদের নিজ নিজ দেশ থেকে আগাম ইটিএ (ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন) গ্রহণ বাধ্যতামূলক। দুভাবে ইটিএ সংগ্রহ করতে পারবেন। শ্রীলঙ্কা সরকারের নির্ধারিত ওয়েবসাইটে (eta.gov.lk/slvisa) আবেদন করে অথবা সংশ্লিষ্ট দেশে অবস্থিত শ্রীলঙ্কার হাইকমিশনের মাধ্যমে ভিসা আবেদন জমা দিয়ে অনুমতি নেওয়া যাবে। বাংলাদেশে ঢাকার গুলশান ২-এ শ্রীলঙ্কার হাইকমিশন।
নিজেই অনলাইনে ফরম পূরণ করে অনলাইন পেমেন্টের মাধ্যমে ইটিএ করা যায়। সার্কভুক্ত দেশ হিসেবে বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য প্রয়োজন হয় ২০ ডলার (সঙ্গে ট্যাক্স)। আপনি ইন্টারন্যাশনাল পেমেন্ট করতে না পারলে ট্রাভেল এজেন্সির সাহায্য নিতে পারেন। এতে বাংলাদেশি মুদ্রায় চার্জসহ তিন হাজার টাকার মতো খরচ পড়বে। বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশনে দেখানোর জন্য ইটিএর প্রিন্ট কপি সঙ্গে রাখতে হবে।
বাংলাদেশি টাকার চেয়ে শ্রীলঙ্কান রুপির মূল্যমান কম। ১ মার্কিন ডলার পেতে প্রায় ১২২ টাকা খরচ হয় আর ১ মার্কিন ডলারে পাওয়া যায় প্রায় ৩১০ শ্রীলঙ্কান রুপি। সর্বোচ্চ দর পেতে বিমানবন্দর থেকেই ডলার ভাঙিয়ে রুপি নিন।
শ্রীলঙ্কায় জীবনযাত্রা ব্যয়বহুল। কোথাও কোথাও আধা লিটার পানি কিনতে আপনাকে গুনতে হতে পারে ৩০০ রুপি। খাবারদাবারের দামও চড়া। ১ হাজার ৫০০ রুপির নিচে এক বেলা খাবার খাওয়া আপনার জন্য কষ্টসাধ্যই হবে। এসব বিবেচনা মাথায় রেখে বাজেট পরিকল্পনা করুন।
নুয়ারা এলিয়ার মতো পাহাড়ি অঞ্চলে তাপমাত্রা কম থাকে, গরম কাপড় নিতে ভুলবেন না। নুয়ারা এলিয়া থেকে এলা ট্রেনযাত্রার অভিজ্ঞতা নিতে ভুলবেন না।
চাকরিজীবী হলে যাত্রার আগে অবশ্যই আপনার প্রতিষ্ঠানের এনওসি (অনাপত্তি সনদ) সঙ্গে নিন। শ্রীলঙ্কায় প্রথমবার ভ্রমণ হলে ইমিগ্রেশনে আপনার সচ্ছলতার বিষয়টিও যাচাই করতে পারে। ট্রাভেল আইটিনারি আর কনফার্ম হোটেল বুকিং অবশ্যই প্রিন্ট করে সঙ্গে রাখবেন। ইমিগ্রেশন আপনার হোটেল বুকিং দেখতে চাইবে। ডকুমেন্টস আর কথায় মিল না থাকলে আপনাকে বেশ ভোগান্তিতে পড়তে হতে পারে।
পাসপোর্টে ডলার এনডোর্স করে নিতে ভুলবেন না। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী শ্রীলঙ্কা ভ্রমণের জন্য কোনো মানি এক্সচেঞ্জ সর্বোচ্চ ২০০ ডলার এনডোর্সমেন্ট করতে পারবেন। চাইলে আপনার ব্যাংক থেকেও এনডোর্স করিয়ে নিতে পারবেন। দেশ উল্লেখ না করে লম্বা সময়ের জন্য সর্বোচ্চ ১২ হাজার ডলার পর্যন্ত এনডোর্স করিয়ে নিতে পারেন।