রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন

মতামত

পুতিন কেন আরও আগ্রাসী হয়ে উঠছেন

গত সপ্তাহান্তে অনুষ্ঠিত পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের দল ইউনাইটেড রাশিয়ার নিরঙ্কুশ বিজয় কেবল প্রত্যাশিতই ছিল না, বরং আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল। নানাবিধ কৌশল শাসক দলের জন্য একটি সুনিশ্চিত বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছিল।

এমনকি অন্যান্য পার্লামেন্টারি দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটও প্রকৃতপক্ষে সরকারের সমর্থনকেই নির্দেশ করে, কারণ সেগুলোও ক্রেমলিন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।

তা সত্ত্বেও, পুতিনের জন্য এই নবায়নকৃত জনরায় ইউক্রেনে তার ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’-এর জন্য নতুনভাবে বৈধতা জোগায়। এটি অভ্যন্তরীণভাবে তা-ই উপস্থাপন করছে, যা ক্রেমলিন আন্তর্জাতিকভাবে প্রক্ষেপণ করতে চাইছে: রাশিয়া একটি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে এবং আরও বেশি বেপরোয়াভাবে তার সামরিক লক্ষ্যগুলো অর্জনে প্রস্তুত।

ক্রেমলিনের মূল লক্ষ্য হলো প্রকৃত পরিস্থিতি যা–ই হোক না কেন, একটি সর্বাত্মক নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার বিভ্রান্তি বা বিভ্রম তৈরি করা। নির্বাচনের ফলাফল এই বার্তাই দেয় যে সবাই পুতিনকে সমর্থন করে, এবং তাই দেশের সামরিক নীতি, বিরোধীদের নির্মম দমন-পীড়ন এবং পশ্চিমবিরোধী অবস্থানকেও তাদের অবশ্যই সমর্থন করতে হবে; আর যারা তাঁর বিরোধিতা করে তারা সমাজচ্যুত ও পরবাসী।

বাস্তবতা আরও জটিল। এপ্রিল থেকে রাশিয়ার জনমত জরিপগুলো ধারাবাহিকভাবে ইঙ্গিত দিচ্ছে যে সরকারের জন্য পরিস্থিতি খুব একটা ভালো যাচ্ছে না।

স্বাধীন গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ‘লেভাদা সেন্টার’, যারা নিয়মিত এই জরিপ চালিয়ে আসছে, তাদের তথ্যমতে জুলাই মাসে বিশেষ সামরিক অভিযানকে সফল মনে করা উত্তরদাতাদের হার কমে ৫০ শতাংশে নেমে এসেছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ কম।

একই জরিপে, দেশ সঠিক পথে এগোচ্ছে বলে মনে করা মানুষের সংখ্যা এক বছর আগের চেয়ে ১০ শতাংশ কমে ৫৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তা ছাড়া, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুলাইয়ের মধ্যে প্রেসিডেন্টের নিজস্ব সমর্থনের হার ১২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে—যা একটি ব্যক্তিকেন্দ্রিক স্বৈরতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পতন।

এর পাশাপাশি, সাধারণ জনগণের মনোবলও ধারাবাহিকভাবে কমেছে। দীর্ঘায়িত যুদ্ধ এবং সম্ভাব্য আরও সামরিক সংহতকরণের পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি, ইন্টারনেট ব্যবহারে কঠোর বিধিনিষেধ এবং অবিরাম জ্বালানি সংকট নিয়ে এখন জনগণের মধ্যে তৈরি হয়েছে এক ধারাবাহিক উদ্বেগ।

যতক্ষণ পুতিন বিশ্বাস করবেন যে সময় তাঁর পক্ষে রয়েছে, এবং জনগণ দুর্ভোগের বোঝা বইতে প্রস্তুত রয়েছে, ততক্ষণ তিনি যুদ্ধ চালিয়ে যাবেন। আর এই যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার অর্থ হলো দেশে এবং বিদেশে যুদ্ধকে আরও উসকে দেওয়া বা সংঘাত বাড়িয়ে তোলা।

আগস্ট মাসে লেভাদা সেন্টারের করা জরিপ অনুযায়ী, প্রতি তিনজনের দুজন উত্তরদাতা জানিয়েছেন যে তাঁরা মোবাইল ইন্টারনেট সেবা, মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহারের সমস্যা এবং পেট্রল স্বল্পতার মুখোমুখি হয়েছেন।

পেট্রল বা গ্যাসোলিনের ঘাটতি প্রতি তিনজন উত্তরদাতার মধ্যে একজনের দৈনন্দিন জীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত করেছে, অন্যদিকে প্রতি পাঁচজনের একজন ইন্টারনেট বিধিনিষেধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
এখন নির্বাচন শেষ হওয়ায় বহু রুশ নাগরিক নতুন করে সামরিক সংহতকরণের আশঙ্কা করছেন।

যদিও ক্রেমলিন গণসংহতকরণের চেয়ে আংশিক এবং গোপন সংহতকরণকেই বেশি পছন্দ করছে বলে মনে হয়। তবে নতুন অন্যান্য চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কাকেও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

যতক্ষণ পুতিন বিশ্বাস করবেন যে সময় তাঁর পক্ষে রয়েছে, এবং জনগণ দুর্ভোগের বোঝা বইতে প্রস্তুত রয়েছে, ততক্ষণ তিনি যুদ্ধ চালিয়ে যাবেন। আর এই যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার অর্থ হলো দেশে এবং বিদেশে যুদ্ধকে আরও উসকে দেওয়া বা সংঘাত বাড়িয়ে তোলা।

ইতিমধ্যেই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং ইউক্রেনে আক্রমণের গতি ও তীব্রতা বাড়িয়ে দিয়েছেন। পুতিনের জন্য সংঘাত বৃদ্ধিই এখন ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার প্রধান হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি আবাসিক ভবন, মস্কো, রাশিয়া, সেপ্টেম্বর, ২০২৬

পরবর্তী ধাপে পদার্পণ

কয়েক সপ্তাহ ধরে একাধিক ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে পুতিন ইউক্রেন ও পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে রাশিয়ার সংঘাতের একটি নতুন পর্যায়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ক্রেমলিন অনবরত এক জরুরি অবস্থা ও হুমকির আবহ তৈরি করে চলেছে।

পার্লামেন্ট নির্বাচনের আগে যুদ্ধবিরোধী দল ‘ইয়াবলোকো’র ওপর ব্যাপক দমন-পীড়ন চালানো হয়েছিল। দলটি কেবল নির্বাচনে অংশ নেওয়া থেকেই নিষিদ্ধ হয়নি, এর সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং এর অন্যতম শীর্ষ নেতা লেভ শ্লোসবার্গকে ১১ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছিল।  

এদিকে পুতিন অস্বাভাবিক ঘন ঘন সফর করছেন, বৈঠক করছেন এবং ভাষণ দিচ্ছেন। তিনি সামরিক বাহিনী, শিশু, বিজ্ঞানী এবং ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন, এমনকি জাপানকে উসকানি দেওয়া ও ক্ষুব্ধ করার স্পষ্ট উদ্দেশ্যে ওখটস্ক সাগরের একটি বিতর্কিত দ্বীপ পরিদর্শন করেছেন।

আগস্ট মাসে রাশিয়ান অর্থোডক্স চার্চ ঘোষণা করে যে চতুর্দশ শতাব্দীর কিংবদন্তি যোদ্ধা-প্রিন্স দিমিত্রি দনস্কয়—যিনি কুলিকোভোর যুদ্ধে মঙ্গোল হোর্ডের তাতারদের পরাজিত করেছিলেন—তাঁর অবশিষ্টাংশ বা দেহাবশেষ মস্কোর ক্যাথেড্রাল অব দ্য আর্চেঞ্জেলে অপ্রত্যাশিতভাবে ‘আবিষ্কৃত’ হয়েছে।

অবিলম্বে পুতিন সেই সমাধিস্থান পরিদর্শন করেন এবং এই ঐতিহাসিক রাজপুত্রকে সামরিক সেবায় নিযুক্তি দেওয়া হয়। তাঁর পবিত্র স্মারকের একাংশ ফ্রন্টলাইনে পাঠানো হয় সেখানে যুদ্ধরত রুশ ইউনিটগুলোকে ‘আধ্যাত্মিকভাবে শক্তিশালী’ করার জন্য।

যুদ্ধ যখন এতটা দীর্ঘায়িত হয়, তখন রুশরা কেবল পুতিনের গর্ব করা ‘অলৌকিক অস্ত্র’-এর ওপরই নয়, বরং স্রেফ কোনো অলৌকিক ঘটনার ওপরও ভরসা করতে শুরু করে।

একমাত্র প্রশ্ন হলো: অলৌকিক ঘটনা আসলে কোনটা? বেশির ভাগ রুশের জন্য, তা হলো যুদ্ধের সমাপ্তি। আজ হোক বা কাল, পুতিনকে এই সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসতে হবে, এবং যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া আর কেউ তাঁকে তা করতে সাহায্য করতে পারবে না।

ট্রাম্প প্রশাসন আলোচনার এক নতুন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। আগস্টে সিআইএ ডিরেক্টর জন র্যাটক্লিফের আকস্মিক মস্কো সফর ছিল এক নতুন ধরনের কূটনীতি অনুসরণের প্রচেষ্টারই অংশ, যা হয়তো শিথিলকরণের যুগে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হেনরি কিসিঞ্জার এবং সোভিয়েত রাষ্ট্রদূত আনাতোলি ডোব্রিনিনের মধ্যে গড়ে ওঠা ব্যাক চ্যানেলের মতো কিছু।

এখন পর্যন্ত, দুই পক্ষকে শান্তির দিকে চালিত করতে পারে এবং অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে পারে এমন কোনো প্রকৃত, স্থায়ী মাধ্যম তৈরি হওয়া কঠিন বলে মনে হচ্ছে।  

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন

আত্মবিশ্বাসী পুতিন

আপাতত, ক্রেমলিন বিশ্বাস করে যে তাদের কাছে যত দিন প্রয়োজন যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মতো সময় এবং উপায়—দুটোই রয়েছে। পুতিন যে সঠিক, তা নিয়ে তার বিন্দুমাত্র সংশয় নেই। সাজানো দুমা নির্বাচনের পাশাপাশি জনপরিসর থেকে যুদ্ধবিরোধী যেকোনো বক্তব্য নির্মূল করার মূল উদ্দেশ্য হলো, পুতিন যা ঠিক মনে করেন তা বাস্তবায়ন করার জন্য তাঁকে একটি শক্তিশালী জনরায় দেওয়া।  

এখন পর্যন্ত, আগুনে জ্বলে যাওয়া তেল শোধনাগার, ধ্বংসপ্রাপ্ত গুদাম, খালি গ্যাস স্টেশন, অকার্যকর ইন্টারনেট এবং ড্রোন হামলার জীবননাশী ঝুঁকির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ নাগরিকদের নিজেদের ওপরই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতির পাশাপাশি বাজেটঘাটতিও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে, এবং রাশিয়ার জিডিপি ও শিল্প উৎপাদন শূন্যের ঠিক সামান্য ওপরে ভাসছে। সম্প্রতি পর্যন্ত অস্ত্র উৎপাদন এই সূচকগুলোকে তুলনামূলক উচ্চপর্যায়ে ধরে রেখেছিল; এখন সেটাও আর খুব একটা কাজে আসছে না। এই সব চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও, মানুষ আপাতত এই ব্যবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নিচ্ছে।

নিত্যনতুন সংকট তৈরি করাই পুতিনের শাসনব্যবস্থার ভিত্তি এবং তাঁর ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার মূল চালিকা শক্তি হয়ে উঠেছে। তবু এই কৌশলের প্রাপ্তি বা সুফল এখন কমে আসছে। এমনকি সরকারের নিজস্ব প্রচারণাতেও এখন এক ধরনের নার্ভাসনেস বা অস্থিতিশীলতার ছাপ স্পষ্ট।

জরিপগুলোতে রুশদের বিশেষ সামরিক অভিযান নিয়ে আগের চেয়ে কম সন্তুষ্ট দেখা গেলেও, জরিপে অংশগ্রহণকারী বিপুলসংখ্যক মানুষকে শান্তি অর্জনে ছাড় দেওয়ার চেয়ে বরং আক্রমণ জোরদার করার পক্ষে মত দিতে দেখা গেছে।

মূলত যুদ্ধের প্রতি চরম ক্লান্তি ও বিরক্তির কারণেই অনেকে সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধিকে শান্তিকে তরান্বিত করার উপায় হিসেবে দেখছেন।

কিন্তু ক্রেমলিন যদি আবারও পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার দাবি তোলে—বিশেষ করে এমন কিছু, যা দেশের বড় একটি পুরুষ জনগোষ্ঠীকে সামরিক অভিযানে যুক্ত করার সঙ্গে সম্পর্কিত—তবে তা পুতিনের বিরুদ্ধে পরিস্থিতিকে মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। এ ধরনের পদক্ষেপের গুজব, যা পরিস্থিতিকে আরও উসকে দেওয়ার রাশিয়ান কৌশলের অংশ হতে পারে, কয়েক সপ্তাহ ধরে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

পুতিন এখনো রাশিয়ার পদক্ষেপগুলোকে একটি ঐতিহাসিকভাবে ন্যায্য, আত্মরক্ষামূলক ও মুক্তিসংগ্রাম হিসেবে চিত্রায়িত করছেন। এটি অনেকটাই ১৯৩৯ সালে ফিনল্যান্ডের সঙ্গে উইন্টার ওয়ার বা সেই একই বছরে রেড আর্মির ‘মুক্তি অভিযান’-কে স্টালিন যেভাবে চিত্রায়িত করেছিলেন তার মতোই।

কিন্তু ক্রেমলিনের প্রচারক এবং কর্মকর্তারা মাঝে মাঝে বিশেষ অভিযানকে যেভাবে ‘জনগণের যুদ্ধ’ বলে অভিহিত করে থাকেন, তেমনটি হতে গেলে সংঘাতের একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকতে হয়।

বস্তুত শুরু থেকেই এটি ছিল একটি ব্যক্তিকেন্দ্রিক যুদ্ধ, যা সাধারণ মানুষকে বিভিন্নভাবে এই লড়াইয়ে টেনে এনেছে—যার মধ্যে রয়েছে সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করা এবং রাজনৈতিক নিয়মকানুন, বিধিনিষেধ ও পদ্ধতিগত দমন-পীড়নের সামনে বাধ্য হয়ে নতি স্বীকার করা।

দশকের পর দশক ধরে রাশিয়ার জনগণকে যুদ্ধের প্রস্তুতির মধ্যে, অথবা আরও নিখুঁতভাবে বললে, বিভিন্ন যুদ্ধের আবহে বাঁচতে অভ্যস্ত করা হয়েছে।

যুদ্ধের এই ক্রমাগত প্রস্তুতি—এবং প্রকৃত যুদ্ধ ও অর্থনীতির অবিরাম সামরিকীকরণ—অবশেষে সোভিয়েত ব্যবস্থাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছিল। পুতিন তাঁর নিজস্ব সাম্রাজ্য পুনর্গঠনের লক্ষ্য পূরণে এই পথকে আবারও পুনরুজ্জীবিত করেছেন।  

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ

যাওয়ার কোনো পথ নেই

পুতিনের রাশিয়ায় পরিস্থিতি উসকে দেওয়া বা সংঘাত বৃদ্ধি দুটি ভিন্ন ক্ষেত্রে ঘটছে। এটি যেমন যুদ্ধক্ষেত্রে ঘটছে, তেমনি ঘটছে দেশের ভেতরের ফ্রন্টেও। এর আলামত দৃশ্যমান প্রায় সর্বত্র।

রাশিয়ার কৌশল সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণে প্রায়ই অভ্যন্তরীণ ফ্রন্টের কথা ভুলে যাওয়া হয়, অথচ এটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। একটি ক্ষেত্রে সংঘাত না বাড়িয়ে অন্য ক্ষেত্রে তা বাড়ানো সম্ভব নয়। অভ্যন্তরীণ চাপ না বাড়িয়ে শাসকগোষ্ঠী তাদের বাহ্যিক পদক্ষেপগুলোকে আরও জোরদার করতে পারে না।

নিত্যনতুন সংকট তৈরি করাই পুতিনের শাসনব্যবস্থার ভিত্তি এবং তাঁর ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার মূল চালিকা শক্তি হয়ে উঠেছে। তবু এই কৌশলের প্রাপ্তি বা সুফল এখন কমে আসছে। এমনকি সরকারের নিজস্ব প্রচারণাতেও এখন এক ধরনের নার্ভাসনেস বা অস্থিতিশীলতার ছাপ স্পষ্ট।

পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার এবং সাবেক টিভি হোস্ট পিয়োত্র তলস্তয়ের মতো কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে শত্রুপক্ষের সাধারণ জনগণকে মানসিকভাবে ভেঙে দেওয়ার জন্য তাদের ওপর হামলার প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন। বিদ্বেষমূলক বক্তব্য এবং নিষ্ঠুরতা ও সহিংসতার মহিমান্বিতকরণ সংঘাতের অন্য আরেকটি রূপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।  

সব ক্ষেত্রে উসকানিমূলক সংঘাত বাড়ানোর পেছনে ক্রেমলিনের এই বর্তমান আগ্রহ কোনো শক্তির লক্ষণ নয়, বরং তা দুর্বলতার লক্ষণ।

যে দেশটি যুদ্ধে ক্ষতবিক্ষত, সহিংসতার প্রচারণা ও জাতীয় শ্রেষ্ঠত্বের আদর্শে বিভ্রান্ত এবং একটি বিকৃত ও অকার্যকর যুদ্ধ-অর্থনীতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত—তার সামনে আর কোনো স্পষ্ট উত্তরণের পথ খোলা নেই।

পুতিন সরকারের সবচেয়ে বড় সংকট হলো ভবিষ্যতের সংকট। এটি জানে না কোথায় যেতে হবে বা কেন যেতে হবে। আর তাই টিকে থাকার উপায় হিসেবে এটি যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করে চলেছে।  

  • আন্দ্রে কোলেসনিকভ রুশ সাংবাদিক; ‘দ্য ক্লোজিং অব দ্য রাশিয়ান মাইন্ড’ গ্রন্থের লেখক।

    ফরেন অ্যাফেয়ার্স থেকে সংক্ষেপে অনূদিত।