
দেশের বিভিন্ন আদালতে বর্তমানে প্রায় ৪৭ লাখ মামলা বিচারাধীন। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের চিত্র পাশাপাশি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, মামলা নিষ্পত্তির এই দীর্ঘসূত্রতা অভাবনীয়। বাংলাদেশে ন্যায়বিচার প্রাপ্তির বাধাগুলো নিয়ে লিখেছেন মো. মাসদার হোসেন
বিশ্বের অধিকাংশ সভ্য ও উন্নয়নশীল দেশে ‘রুল অব ল’ তথা আইনের শাসন কার্যকর করে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা চোখে পড়ার মতো। এ লক্ষ্যেই জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থাও বেশ তৎপর। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিচার বিভাগের উন্নয়ন, নিরপেক্ষতা, স্বাধীনতা ও জনসাধারণের ন্যায়ানুগ স্বার্থ সংরক্ষণ, সর্বোপরি মৌলিক অধিকার সংরক্ষণে কতটা ভূমিকা পালন করছেন, তা পর্যালোচনার দাবি রাখে।
কয়েক দিন আগে জুলাই আন্দোলনকারী এক নারী শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তারের পর আদালতে প্রেরণ করা হলে ম্যাজিস্ট্রেট রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এ নিয়ে জনসাধারণের মধ্যে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল স্বয়ং ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। তিনি জানান, অভিযুক্ত নারী শিক্ষার্থী দ্রুতই প্রতিকার পাবেন। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সেই নারী শিক্ষার্থী জামিন পেয়ে যায়। ফলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা প্রশ্নের সম্মুখীন হয়ে পড়েছে।
অতি সম্প্রতি পার্বত্য চট্টগ্রামের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে বম জনগোষ্ঠীর শিশু-কিশোরসহ ৫৬ সদস্যকে কারাবন্দী করা হয়। জাতিসংঘসহ অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে গত ১২ ডিসেম্বর প্রধান উপদেষ্টা বরাবর পত্র প্রেরণ করলে সরকারের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়ে যায়। কিন্তু অভিযুক্ত ব্যক্তিদের জামিন প্রাপ্তির মৌলিক অধিকারটুকু অধরাই থেকে যায়।
পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোতে কাউকে বিনা বিচারে দীর্ঘ সময় কারাবন্দী রাখা হয় না। উচ্চ আদালতসমূহের সর্বজনীন বিধান হচ্ছে, ‘এভরি কাস্টডি ডে ইজ আ গুড গ্রাউন্ড ফর বেইল’, অর্থাৎ প্রতিদিনের কারারুদ্ধ থাকাই জামিনের একটি ভালো কারণ হিসেবে বিবেচিত হবে। এ দেশের প্রায় সব পর্যায়ের আদালতে কিছু প্রথা চলমান। হাজতবাসের মেয়াদ দীর্ঘ না হলে জামিন শুনানি ও জামিন প্রদান করা হয় না। অর্থাৎ মামলার মেরিট বা গুণাগুণ নয়, প্রথাই প্রাধান্য পাচ্ছে। জুলাইয়ের মামলাগুলোতে জামিন না দেওয়ার ক্ষেত্রে সব আদালতই কমবেশি একই নীতি অনুসরণ করেছে। আগেও গায়েবি মামলায় এ ধরনের বিড়ম্বনা দেখা গেছে।
রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তারা হাইকোর্ট বিভাগের একাধিক আদালতে উপস্থিত হয়ে বিভিন্ন ধরনের, বিশেষত জুলাই আন্দোলন–সংক্রান্ত মামলাগুলোর জামিন শুনানি ও জামিন প্রদান করা যাবে না মর্মে চাপ প্রয়োগ করতে দেখা যায়। অনেক আদালত এসব জামিনের আবেদন গ্রহণই করছেন না। এ অবস্থা আজকে নতুন নয়, আগের ধারাবাহিকতা। এখন প্রশ্ন দাঁড়ায়, ন্যায়বিচার বা আইনের শাসন বলতে আমরা কী বুঝব? অথবা স্বাধীন বিচারব্যবস্থা কি আদৌ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে?
বাংলাদেশের সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের বিরুদ্ধে হত্যা মামলার অভিযোগে ম্যাজিস্ট্রেট আদালত কর্তৃক রিমান্ডে নেওয়ার নজির অভূতপূর্ব। এ মামলায় খায়রুল হকের জামিন শুনানিতে হাইকোর্ট বিভাগ অপারগতা প্রকাশ করেন। এটা কি স্বাধীন বিচার বিভাগ ও আইনের শাসনের বাস্তব রূপ?
সমগ্র বাংলাদেশে বিভিন্ন আদালতে বর্তমানে প্রায় ৪৭ লাখ মামলা বিচারাধীন। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের চিত্র পাশাপাশি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বিচার বিভাগের মামলা নিষ্পত্তির এই দীর্ঘসূত্রতা অভাবনীয়। যদি সঠিকভাবে ‘কেস ম্যানেজমেন্ট’ পদ্ধতিকে অনুসরণ করা হতো, বিচারকের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হতো, পুরোনো মামলা নিষ্পত্তির লক্ষ্যে হাইকোর্ট বিভাগ ও নিম্ন আদালতের অবসরপ্রাপ্ত বিচারকদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রদান করা হতো এবং সর্বোপরি মামলার গুরুত্ব ও গুণাগুণ বিবেচনায় মামলা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হতো, তাহলে ৪৭ লাখ মামলার পাহাড়প্রমাণ চাপ বিচার বিভাগের ওপর ন্যস্ত হতো না।
উন্নত বিশ্বের কেস ম্যানেজমেন্ট (মামলা ব্যবস্থাপনা) এতটাই জনবান্ধব, যা আমরা ভাবতেও পারি না। জাপান, কোরিয়া, তুরস্ক ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের বার্ষিক মামলা নিষ্পত্তির রিপোর্ট পর্যালোচনায় দেখা যায়, তিন থেকে ছয় মাস, কোনো কোনো ক্ষেত্রে এক বছরের মধ্যেই সব প্রকার মামলা স্বাভাবিক নিয়মে নিষ্পত্তি হয়ে চলেছে। ওই সব দেশের বিচারালয় পরিদর্শনে দেখা যায়, আমাদের দেশের মতো হাজার হাজার বিচারপ্রার্থী আদালতগুলোতে ভিড় করছেন না।
বাস্তবে দেখা যায়, অনেক জেলা আদালতে মামলার সংখ্যা খুবই কম। এ ক্ষেত্রেও মামলার সংখ্যা বিবেচনায় বিচারকদের সংখ্যা নির্ধারণ করা উচিত। সময় প্রদানের ক্ষেত্রেও একটি সুনির্দিষ্ট বাস্তবভিত্তিক মানদণ্ড থাকা দরকার। সর্বোপরি বিভিন্ন আদালতের বিচারকদের সংখ্যা বৃদ্ধি করা অতীব জরুরি। অন্যথায় মামলা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে অনিয়ম ও অরাজকতার সুযোগ থেকে যাবে।
পক্ষান্তরে বাংলাদেশের হাইকোর্ট ও নিম্ন আদালতের এজলাস ও বিচারালয়ের বারান্দা লোকে লোকারণ্য থাকে। অনেক দেশে মামলা শুনানির তারিখ ও সময় আগেই নির্ধারণ করা থাকে এবং নির্ধারিত তারিখ ও সময়েই অনলাইনে অর্থাৎ ভার্চ্যুয়ালি মামলার শুনানি হয়। আদালতে বিচারক ও সহায়ক কয়েকজন কর্মচারী ছাড়া লোকজনের কোনো ভিড় থাকে না।
অকারণে মামলা করা, শত্রুতা বা প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে মামলা করার প্রবণতা বন্ধে পরাজিত পক্ষকে মামলা পরিচালনার সব খরচ ও ক্ষতিপূরণ জয়ী পক্ষকে প্রদানের বিধানটি উন্নত দেশগুলোতে প্রবর্তিত হয়েছে। ফলে মামলার সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। তুরস্কের বিচারব্যবস্থায় দেখা যায়, এই ক্ষতিপূরণ প্রদানের দায়িত্ব রাষ্ট্র নিজেই বহন করে।
সম্প্রতি প্রধান বিচারপতি জোবায়ের রহমান চৌধুরী সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের উদ্দেশে বেশ কিছু গাইডলাইন তথা নির্দেশনা দিয়েছেন। উদ্দেশ্য হলো, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা ও মামলা নিষ্পত্তিতে সময়ক্ষেপণ রোধ করা। এটি একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। তবে আমাদের মনে রাখতে হবে, এ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইনজীবী ও অন্য অংশীজনদের মতামত গ্রহণ করাও আবশ্যক।
মওদুদ আহমদ আইনমন্ত্রী থাকাকালে নিম্ন আদালতের জন্য কোনো মামলায় তিনবারের বেশি সময় না দেওয়া এবং সময় প্রদানের ক্ষেত্রে দুই হাজার টাকা ‘কস্ট’ প্রদানের বিধান প্রবর্তন করেছিলেন। কিন্তু ওই আইন প্রবর্তনের তিন দিনের মাথায় তা বাতিল হয়ে যায়।
একটি মামলার বিচার নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে বেশ কতগুলো স্তর অতিক্রম করতে হয়। এ স্তরগুলো কমিয়ে আনা এবং একই সঙ্গে মামলার সংখ্যাধিক্যতার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা আবশ্যক। বিচারকদের মামলা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে মামলার সংখ্যার ভিত্তিতে ও গুরুত্ব অনুসারে বিচারক নিয়োগ ও মামলা বণ্টন করা উচিত।
বাস্তবে দেখা যায়, অনেক জেলা আদালতে মামলার সংখ্যা খুবই কম। এ ক্ষেত্রেও মামলার সংখ্যা বিবেচনায় বিচারকদের সংখ্যা নির্ধারণ করা উচিত। সময় প্রদানের ক্ষেত্রেও একটি সুনির্দিষ্ট বাস্তবভিত্তিক মানদণ্ড থাকা দরকার। সর্বোপরি বিভিন্ন আদালতের বিচারকদের সংখ্যা বৃদ্ধি করা অতীব জরুরি। অন্যথায় মামলা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে অনিয়ম ও অরাজকতার সুযোগ থেকে যাবে।
সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বেঞ্চগুলো প্রতিবছর কয়েকবার পুনর্গঠন করা হয়। সুপ্রিম কোর্ট বছরে অন্তত চার-পাঁচবার দীর্ঘ ছুটির সময়ে আদালতের বিচারকাজ বন্ধ থাকে (জরুরি বিষয় ছাড়া)। কোর্ট পুনর্গঠনের ফলে নতুনভাবে কোর্ট গঠন হয়, বিচারকদের জুরিসডিকশন পরিবর্তন হয় এবং বিচারাধীন মামলাগুলো ওই বিচারকেরা আর নিষ্পত্তি করার সুযোগ পান না।
চূড়ান্তভাবে শুনানি সমাপ্তির পর রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ ও আংশিক শ্রুত মামলাগুলো আবার নতুন আদালতে নতুনভাবে শুরু হয়। ফলে আইনজীবীদের পরিশ্রম ও মামলার দীর্ঘসূত্রতার জন্য বিচারপ্রার্থীরা ভোগান্তিতে পড়েন। যদিও রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ ও আংশিক শ্রুত মামলাগুলো পূর্বের আদালতেই নিষ্পত্তির একটি বিধান রয়েছে। তথাপি বাস্তবে এর নজির খুবই অপ্রতুল।
বিচারপ্রার্থীদের সহজে বিচার প্রাপ্তির ক্ষেত্রে কিছু মারাত্মক অন্তরায় ও জটিলতার বিষয়টি নিরসনের দায়িত্ব বিচার বিভাগকেই নিতে হবে। উন্নত দেশে এ বিষয়ে জনবান্ধব ও জনকল্যাণকর বিচারব্যবস্থা প্রবর্তনের স্বার্থে নতুন নতুন পদ্ধতি প্রবর্তন ও আইন সংস্কার হয়ে আসছে। বাংলাদেশের বিচারালয়ের প্রতি আস্থা ও বিচারব্যবস্থাপনা সম্পর্কে গণজরিপ অনুষ্ঠিত হলে দেখা যাবে, বিচারালয়ের প্রতি বিচারপ্রার্থীদের আস্থাহীনতা ও বিচার প্রাপ্তির জটিলতার বিষয়টিই জরিপে প্রাধান্য পাবে।
পার্শ্ববর্তী দেশ নেপালের প্রধান বিচারপতি সম্প্রতি সমগ্র দেশে বিচারব্যবস্থা–সম্পর্কিত একটি পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। ওই পরিকল্পনার ভিত্তি হচ্ছে ‘মূল্যবোধ’ ও ‘জনবান্ধব’ বিচারব্যবস্থা। ওই পরিকল্পনায় বিচারকদের দক্ষতা, নিরপেক্ষতা, দায়িত্ববোধের প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
এ ছাড়া বিচারের মানোন্নতকরণ, বিচারপ্রার্থীদের সঙ্গে উত্তম আচরণ, বিচারক ও বিচারপ্রার্থীদের বিচারালয়–সম্পর্কিত আলোচনায় অংশগ্রহণ এবং দ্রুততম সময়ে মানসম্পন্ন বিচার প্রদানের মাধ্যমে জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস স্থাপন করে ন্যায়বিচার প্রাপ্তির সুযোগ সৃষ্টির দিকে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
বাংলাদেশেও এসব উদ্দেশ্য অর্জনের লক্ষ্যে বিচার বিভাগ–সম্পর্কিত সংশ্লিষ্ট অংশীজন ও বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে আলোচনা করে বিচারপ্রার্থীদের অসুবিধা দূরীকরণ, প্রয়োজনীয় আইনকানুনের পরিবর্তন করা খুবই প্রয়োজন। বিচার বিভাগ–সংক্রান্ত দেশে কোনো স্থায়ী বিচার ইনস্টিটিউট গঠিত হয়নি। একটি স্থায়ী রিসার্চ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা খুবই জরুরি।
এখানে বলে রাখা দরকার, সাবেক প্রধান বিচারপতি দায়িত্ব গ্রহণ করার পরই তাঁর অভিবাসনে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে একটি রোডম্যাপ প্রদান করেন এবং এ লক্ষ্যেই তিনি ৮ থেকে ৯ সদস্যের একটি রিসার্চ টিম গঠন করেন। সেই রিসার্চ টিম পৃথক সচিবালয় আইনের খসড়া, নিম্ন আদালতে বিচারক নিয়োগ–সংক্রান্ত নীতিমালা ও শৃঙ্খলাজনিত নানা বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কার্যক্রম গ্রহণ করেছে, যাতে বিচার বিভাগের মামলাজট নিরসন ও বিচারকের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়।
বিচার বিভাগের উন্নয়নের লক্ষ্যে এ দেশে কোনো কাজ হয়নি—এ কথা বলার কোনো অবকাশ নেই। আমাদের দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা উন্নত করে বিদেশি বিনিয়োগকে আকৃষ্ট করা এবং এ লক্ষ্যে একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ বিনির্মাণে বিচার বিভাগের ভূমিকা অস্বীকার করা যায় না। মামলা ও অভিযোগের গুরুত্বানুসারে মামলা শ্রেণিবিন্যাস এবং সেই লক্ষ্যে বিভিন্ন আদালতকে সুনির্দিষ্ট মামলা নিষ্পত্তির দায়িত্ব প্রদান করা প্রয়োজন।
চাকরিজীবীদের শৃঙ্খলা বিধান ও অনিয়ম নিরসনের উদ্দেশ্যে ১৯৮০ সালে প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়, যেখানে স্বল্পতম সময়ে বিনা খরচে বিচার সম্পন্ন করার বিধান রাখা হয়। একইভাবে লেবার কোর্ট, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল, বিশেষ আদালতসহ একাধিক ট্রাইব্যুনাল ও আদালতও ওই সব মামলা নিষ্পত্তি করে আসছেন।
কিন্তু আপিল বিভাগে এই মামলাগুলো দীর্ঘসূত্রতার বেড়াজালে পড়ায় বিচারপ্রার্থীদের স্বল্পতম সময়ে বিচার প্রাপ্তি আশা-নিরাশায় পর্যবসিত হচ্ছে। অনেক বিচারপ্রার্থী ওই সব আদালতে স্বল্পতম সময়ে বিচার পেলেও আপিল বিভাগে মামলার দীর্ঘসূত্রতার বেড়াজালে পড়ে অনেকেই মামলার খরচ ও ধকল বহন করতে না পারায় মামলা ছেড়ে দিয়েছেন। অনেকের মামলা চাকরির মেয়াদ শেষ হলেও আপিল বিভাগের বিচার শেষ হয় না। এ ক্ষেত্রে আইনের সংস্কারের সঙ্গে সঙ্গে ওই সব মামলা গুরুত্ব বিবেচনায় স্বল্পতম সময়ে নিষ্পন্ন করা খুবই প্রয়োজন।
পরিশেষে বলতে হয়, ‘সকল নাগরিক আইনের চোখে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী।’ এই মূলনীতিকে কার্যকর করার লক্ষ্যে প্রধান বিচারপতিকেই শক্ত ভূমিকা পালন করতে হবে, যেন বিচার বিভাগের প্রতি জন–আস্থা ফিরে আসে এবং ভয়-ভীতির ঊর্ধ্বে উঠে জনস্বার্থকেই প্রধান্য দিতে হবে।
মো. মাসদার হোসেন সাবেক সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ এবং সদস্য, বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন
*মতামত লেখকের নিজস্ব