গত বছর প্রথম আলো ভবনে আগুন দেওয়ার ঘটনা ছিল গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর একটি বড় আঘাত
গত বছর প্রথম আলো ভবনে আগুন দেওয়ার ঘটনা ছিল গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর একটি বড় আঘাত

অভিমত–বিশ্লেষণ

৫৫ বছরে দেশে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার অবস্থা কী দাঁড়াল

বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে স্বাধীন সংবাদমাধ্যম গড়ে উঠেছিল ১৯৯১ থেকে ২০০৬ সালের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সংসদীয় রাজনীতির মধ্যে। এতে বোঝা যায়, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কোনো নির্দিষ্ট দলের দান নয়; বরং প্রকৃত রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার ফল। ৫৫ বছরে দেশে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার অবস্থা কী দাঁড়াল, তা নিয়ে লিখেছেন রিজওয়ান-উল-আলম

বাংলাদেশে সাংবাদিকতা কখন সবচেয়ে স্বাধীন ছিল? আড্ডায় প্রশ্নটি উঠলে উত্তর সাধারণত রাজনৈতিক অবস্থান অনুযায়ী ভাগ হয়ে যাবে। কেউ বলবেন এক সময়ের কথা, কেউ বলবেন আরেক সময়ের কথা। কিন্তু এখন এই প্রশ্নের উত্তর আর শুধু স্মৃতি, অভিজ্ঞতা বা রাজনৈতিক ব্যাখ্যার ওপর নির্ভর করে দিতে হয় না।

সুইডেনের গোথেনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক ভ্যারাইটিজ অব ডেমোক্রেসি বা ভি-ডেম প্রকল্প গণতন্ত্র বিষয়ে বিশ্বের সবচেয়ে বড় উপাত্তভান্ডার তৈরি করেছে। প্রায় সব দেশের জন্য বছরভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ করতে তারা হাজারো দেশি–বিদেশি বিশেষজ্ঞের মতামত নিয়েছে। প্রশ্নগুলোও সাধারণ নয়; সুনির্দিষ্ট ও সতর্কভাবে সাজানো। যেমন সরকার কি গণমাধ্যম সেন্সর করার চেষ্টা করে? বৈধ সাংবাদিকতার জন্য সাংবাদিকেরা কি হয়রানির শিকার হন? সংবাদ বদলানোর বিনিময়ে সাংবাদিকেরা কি অর্থ নেন? 

২০২৬ সালে প্রকাশিত ভি-ডেমের সর্বশেষ সংস্করণে বাংলাদেশকে ১৯৭১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই উপাত্ত যে গল্প বলছে, তা কোনো সরকারকেই এককভাবে স্বস্তি দেয় না। 

ভি-ডেমের স্কোর বুঝতে একটি বিষয় মনে রাখা দরকার। বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ন একটি পরিসংখ্যানগত মডেলের মাধ্যমে অভিন্ন স্কেলে রূপান্তর করা হয়। সেখানে শূন্য মানে ঐতিহাসিক বৈশ্বিক গড়ের কাছাকাছি অবস্থান। ধনাত্মক স্কোর তুলনামূলক বেশি স্বাধীন বা বেশি পরিচ্ছন্ন গণমাধ্যমের ইঙ্গিত দেয়। ঋণাত্মক স্কোর তার বিপরীত।

অধিকাংশ দেশ মাইনাস ৩ থেকে প্লাস ৩-এর মধ্যে থাকে। একই পদ্ধতিতে সব বছর ও সব দেশের স্কোর তৈরি হওয়ায় এরশাদ আমল, হাসিনা আমল, ১৯৯২ কিংবা ২০২৫—সবই একই মানদণ্ডে তুলনা করা যায়। 

  • ২০০৯ থেকে ২০২৩ সাল সময়ে সাংবাদিক হয়রানির মাত্রা সামরিক শাসনের পর্যায়কেও ছাড়িয়ে গেছে। তাই বেসামরিক সরকার স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবাদমাধ্যমের প্রতি সহনশীল হবে—এমন ধারণা আর টেকসই নয়। 

  • গণমাধ্যমে দুর্নীতি ২০২২ ও ২০২৩ সালে ঐতিহাসিক চূড়ায় পৌঁছেছিল এবং এখনো তা সামান্যই কমেছে। অর্থাৎ সাংবাদিকতার সততা শুধু সরকার পরিবর্তনের মাধ্যমে ফিরে আসে না। 

  • ২০২৪-পরবর্তী সময়ে স্বাধীনতা বাড়লেও সমালোচনা কমেছে। এটি বড় সতর্কসংকেত। যে সংবাদমাধ্যম বন্ধুভাবাপন্ন সরকারকে প্রশ্ন করে না, সে প্রতিকূল সরকারের সময়ও সহজে দাঁড়াতে পারে না।

২.

প্রথমে দেখা যাক মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও বিকল্প তথ্যসূত্রের সূচক। এটি শূন্য থেকে একের মধ্যে একটি যৌথ সূচক। এখানে সেন্সরশিপ, সাংবাদিক হয়রানি, আত্মনিয়ন্ত্রণ, গণমাধ্যমের পক্ষপাত, সমালোচনামূলক প্রতিবেদন এবং নাগরিকদের সামনে থাকা মতের বৈচিত্র্য—সব মিলিয়ে হিসাব করা হয়। 

বাংলাদেশের ছয়টি রাজনৈতিক সময় পর্বের তুলনায় একটি বিষয় স্পষ্ট। ১৯৯১ থেকে ২০০৬ সালের সংসদীয় গণতন্ত্রের সময়কালই ছিল বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের সবচেয়ে স্বাধীন পর্ব। এই সময় সূচকের গড় ছিল শূন্য দশমিক ৭৪৪। ১৯৯২ থেকে ১৯৯৪ সালে তা শূন্য দশমিক ৭৬৮-এ পৌঁছায়, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। 

এই অর্জন ছিল বাস্তব ও বিস্তৃত। সরকারি সেন্সরশিপ প্রচেষ্টার স্কোর ছিল শূন্য দশমিক ৭৬৮। আত্মনিয়ন্ত্রণ বা সেলফ-সেন্সরশিপ কার্যত কমে গিয়ে স্কোর দাঁড়ায় ১.৩৩৮। আর মুদ্রিত ও সম্প্রচারমাধ্যমে মতের বৈচিত্র্য পৌঁছায় ২.১৭৭-এ, যা এর আগে বা পরে আর দেখা যায়নি। এই সময়েই বাংলাদেশের আধুনিক বেসরকারি সংবাদমাধ্যমের বিস্তার ঘটে। উপাত্ত সেই অভিজ্ঞতাকেই সমর্থন করে, যা অনেক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আজও স্মরণ করেন। 

অন্য সময়পর্বগুলো এই অবস্থানের নিচে। শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামলে (১৯৭২–১৯৭৫) সূচকের গড় ছিল শূন্য দশমিক ৫৭৩। ১৯৭৫ সালের সংবাদপত্র বন্ধের আগেই সাংবাদিক হয়রানির স্কোর ছিল গভীরভাবে ঋণাত্মক, মাইনাস শূন্য দশমিক ৮৭০। 

প্রতীকী ছবি

১৯৭৫ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত সামরিক ও সামরিক-সমর্থিত শাসনামলে গড় ছিল শূন্য দশমিক ৪৭০। পুরো ধারাবাহিকতায় সবচেয়ে খারাপ বছর ছিল ১৯৭৫ সাল। 

২০০৭ ও ২০০৮ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ও অবস্থার বড় উন্নতি হয়নি। ওই সময়ের গড় ছিল শূন্য দশমিক ৫৭৯। জরুরি বিধির প্রভাব আত্মনিয়ন্ত্রণের স্কোরকে প্রায় শূন্যে নামিয়ে আনে। 

সবচেয়ে অস্বস্তিকর চিত্রটি দেখা যায় ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের আওয়ামী লীগ শাসনামলে। সাংবাদিক হয়রানির ক্ষেত্রে এই সময়ের গড় ছিল মাইনাস ১.১৫৯। এটি সরাসরি সামরিক শাসনের গড়ের চেয়েও খারাপ। ইন্টারনেট বন্ধের সূচকে স্কোর ছিল মাইনাস ১.২৮৭, যা যেকোনো সময়পর্বের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ (১৯৭১ থেকে ১৯৯২ পর্যন্ত বাংলাদেশ ইন্টারনেট যুগে প্রবেশ করেনি)। মতপ্রকাশের সামগ্রিক সূচকের গড় ছিল শূন্য দশমিক ৪৪৬, যা সামরিক আমলেরও নিচে।

বলা দরকার, ওই সময় সরকারকে সব সময় প্রকাশ-পূর্ব সেন্সরশিপের মতো স্থূল পদ্ধতি ব্যবহার করতে হয়নি। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, কৌশলগত গ্রেপ্তার এবং তার ফলে তৈরি হওয়া আত্মনিয়ন্ত্রণই অনেক ক্ষেত্রে কাজটি নীরবে করে দিয়েছে। 

ভি-ডেমের বিশেষজ্ঞরাও সেই নীরবতাকে ধরেছেন। সংবাদ কাভারেজ সব সময় সরাসরি বিরোধী দলের বিরুদ্ধে বাঁকানো হয়নি; বরং অনেক ক্ষেত্রে তা ধীরে ধীরে নীরবতায় পরিণত হয়েছে।

৩.

এবার গণমাধ্যমে দুর্নীতির প্রশ্নে আসা যাক। এই সূচকটি সতর্কভাবে ব্যাখ্যা করা দরকার। কারণ, এটি প্রায়ই ভুলভাবে বোঝা হয়। 

ভি-ডেম এখানে একটি সংকীর্ণ আচরণগত প্রশ্ন করে থাকে: সাংবাদিক, প্রকাশক বা সম্প্রচারকর্মীরা কি সংবাদ কাভারেজ বদলানোর বিনিময়ে অর্থ নেন? স্কোর শূন্য থেকে ৪। শূন্য মানে অর্থের বিনিময়ে সংবাদ বদলানো নিয়মিত ও স্বাভাবিক চর্চা। ৪ মানে এটি কখনো বা প্রায় কখনো ঘটে না। সহজ ভাষায়, এটি ‘খাম সংস্কৃতি’; অর্থের বিনিময়ে সংবাদ প্রকাশ, কিংবা অর্থের বিনিময়ে সংবাদ চাপা দেওয়ার সূচক।

তবে এটি মালিকানার মাধ্যমে গণমাধ্যম দখল, ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর প্রভাব কিংবা সরকারি বিজ্ঞাপনের ইচ্ছেমতো বণ্টনের মতো সূক্ষ্ম কিন্তু বড় সমস্যাগুলো পরিমাপ করে না। বাংলাদেশের গণমাধ্যমের রাজনৈতিক অর্থনীতিতে এগুলো সম্ভবত আরও বড় রোগ। সেগুলো বোঝার জন্য আলাদা প্রমাণ ও বিশ্লেষণ দরকার।

তবু এই সংকীর্ণ সূচকেও ফল উদ্বেগজনক। সাংবাদিকতা সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন ছিল সংসদীয় গণতন্ত্রের সময়ে। তখন গড় স্কোর ছিল শূন্য দশমিক ৮৮৪। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ও স্কোর ছিল শূন্য দশমিক ৮৫৯। সামরিক শাসনে তা নেমে আসে শূন্য দশমিক ২৬৭-এ। সে সময়ে লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষমতা ও বিজ্ঞাপনের ওপর নির্ভরতা সংবাদমাধ্যমকে সহজে প্রভাবিত করার সুযোগ তৈরি করেছিল। 

কিন্তু পুরো ৫৫ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ বছরগুলো কোনো সামরিক শাসকের আমলে নয়। সেগুলো হলো ২০২২ ও ২০২৩ সাল। ওই দুই বছরে স্কোর নেমে যায় মাইনাস শূন্য দশমিক ৮৭১-এ, যা ঐতিহাসিক সর্বনিম্ন। আগের সরকারের শেষ পর্বে অর্থপ্রদত্ত কনটেন্ট, সুরক্ষাব্যবস্থা এবং মালিকনির্ভর কাভারেজ গণমাধ্যমজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। 

২০২৫ সালেও স্কোর উঠে এসেছে মাত্র শূন্য দশমিক ১১৮-এ, যা বৈশ্বিক গড়ের সামান্য ওপরে। সেন্সরশিপ প্রশাসনিক আদেশে তুলে দেওয়া যায়; কিন্তু দুর্নীতিগ্রস্ত নিউজরুম সংস্কৃতি এত সহজে পাল্টায় না।

প্রতীকী ছবি

৪.

২০২৪ সালের আগস্টের পর কী ঘটেছে? উপাত্ত বলছে, একটি বাস্তব কিন্তু অসম পুনরুদ্ধার ঘটেছে। রাষ্ট্রীয় চাপ মাপে এমন সূচকগুলোতে বড় উন্নতি দেখা যায়। 

সরকারি সেন্সরশিপ প্রচেষ্টার স্কোর ২০২৩ সালের মাইনাস শূন্য দশমিক ৮৫৫ থেকে ২০২৫ সালে শূন্য দশমিক ৬১৪-এ উঠেছে। সাংবাদিক হয়রানির স্কোর মাইনাস ১.৪৩৩ থেকে শূন্য দশমিক ৪২৯-এ উঠেছে। ইন্টারনেট বন্ধের সূচকও বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে পৌঁছেছে। 

এসব অগ্রগতি স্বীকার করা দরকার। কিন্তু সাংবাদিকতার প্রাণশক্তি মাপে এমন সূচকগুলো বিপরীত দিকে গেছে। সরকারকে নিয়মিত সমালোচনা করে এমন গণমাধ্যমের স্কোর ২০২৫ সালে মাইনাস শূন্য দশমিক ৪২৩-এ নেমে গেছে, যা ঐতিহাসিক নিম্নসীমার কাছাকাছি। 

নাগরিকদের সামনে থাকা মতের বৈচিত্র্যও কয়েক দশকের মধ্যে প্রথমবার ঋণাত্মক হয়েছে। অর্থাৎ সংবাদমাধ্যম বহু বছরের তুলনায় সরকারের প্রত্যক্ষ চাপ থেকে বেশি মুক্ত, কিন্তু সরকারকে জবাবদিহির মুখে দাঁড় করাতে কম আগ্রহী বা কম সক্ষম। 

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে সংবাদপত্রের কার্যালয়ে হামলার ঘটনাগুলো থেকেও এটি পরিষ্কার: চাপ পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি; শুধু তার ঠিকানা বদলেছে। আগে চাপ বেশি আসত রাষ্ট্র থেকে। এখন তা অনেক ক্ষেত্রে রাস্তায়, সংগঠিত গোষ্ঠীতে বা অরাষ্ট্রীয় শক্তির হাতে সরে গেছে।

৫.

এই উপাত্ত থেকে চারটি বড় শিক্ষা পাওয়া যায়।

প্রথমত, বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে স্বাধীন সংবাদমাধ্যম গড়ে উঠেছিল ১৯৯১ থেকে ২০০৬ সালের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সংসদীয় রাজনীতির মধ্যে। এতে বোঝা যায়, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কোনো নির্দিষ্ট দলের দান নয়; বরং প্রকৃত রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার ফল।

 দ্বিতীয়ত, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের সময়ে সাংবাদিক হয়রানির মাত্রা সামরিক শাসনের পর্যায়কেও ছাড়িয়ে গেছে। তাই বেসামরিক সরকার স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবাদমাধ্যমের প্রতি সহনশীল হবে—এমন ধারণা আর টেকসই নয়। 

তৃতীয়ত, গণমাধ্যমে দুর্নীতি ২০২২ ও ২০২৩ সালে ঐতিহাসিক চূড়ায় পৌঁছেছিল এবং এখনো তা সামান্যই কমেছে। অর্থাৎ সাংবাদিকতার সততা শুধু সরকার পরিবর্তনের মাধ্যমে ফিরে আসে না। 

চতুর্থত, ২০২৪-পরবর্তী সময়ে স্বাধীনতা বাড়লেও সমালোচনা কমেছে। এটি বড় সতর্কসংকেত। যে সংবাদমাধ্যম বন্ধুভাবাপন্ন সরকারকে প্রশ্ন করে না, সে প্রতিকূল সরকারের সময়ও সহজে দাঁড়াতে পারে না।

সংখ্যাগুলো তাই কোনো সুবিধাজনক রাজনৈতিক বয়ানকে পুরোপুরি সমর্থন করে না। এগুলো অন্তর্বর্তী সময়ের বাস্তব অগ্রগতি স্বীকার করে, আবার একই সঙ্গে দেখায় যে সমালোচনামূলক সাংবাদিকতা দুর্বল হয়েছে। 

বর্তমান পরিবর্তন যদি গণমাধ্যমের জন্য অর্থবহ হতে হয়, তবে কাজ শুধু ‘সেন্সর’ দূরে রাখা নয়। কাজ হলো সাংবাদিকতার এমন অর্থনীতি ও নৈতিকতা পুনর্গঠন করা, যেখানে সংবাদ বিক্রির পণ্য নয় এবং সমালোচনা কোনো সাহসিকতার ব্যতিক্রমী কাজ নয়। সেই মানদণ্ডে বিচার করলে, উপাত্ত বলছে-কাজটি এখনো ঠিকমতো শুরুই হয়নি। 

রিজওয়ান-উল-আলম নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির মিডিয়া, কমিউনিকেশন অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক।

*মতামত লেখকের নিজস্ব