
মিরপুরে আলোচিত শিশু হত্যাকাণ্ডের পর আবারও সেই চিরচেনা প্রতিক্রিয়া সামনে এসেছে—ব্যাপক ক্ষোভ, খুনির দ্রুত ফাঁসি দাবি ও বিরোধী দলের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি। দ্রুত বিচার জরুরি; কিন্তু শুধু শাস্তি দিয়ে এই ধরনের অপরাধ বন্ধ হবে—এই ধারণা বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না।
বাংলাদেশের আইনি ও বিচারিক ব্যবস্থা এখনো প্রধানত ‘অপরাধের পর শাস্তি’—এই ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক কাঠামোতেই আটকে আছে। অথচ আধুনিক অপরাধবিজ্ঞানে শাস্তির চেয়ে অপরাধ প্রতিরোধের ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়।
কেন অপরাধটি ঘটছে এবং কীভাবে এর ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে—এসবের মূল কারণ খুঁজে বের না করলে কোনো সমাধানই টেকসই হয় না। কেননা আধুনিক অপরাধবিজ্ঞানের মূলকথাই হলো অপরাধীকে চেনার আগে অপরাধের পেছনের মনস্তত্ত্বকে চেনা।
এই দূরদর্শিতার অভাব আমাদের রাষ্ট্রীয় নীতি ও চিকিৎসা খাতেও স্পষ্ট। আমাদের আইনি ও সামাজিক কাঠামোতে যেকোনো শিশু নির্যাতনকারীকে ঢালাওভাবে স্রেফ ‘ধর্ষক’ বা ‘খুনি’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
অথচ একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারীকে ধর্ষণ করা আর শিশুকে টার্গেট করার পেছনে কখনো কখনো যে মনস্তাত্ত্বিক ও যৌন বৈশিষ্ট্যের (যেমন শিশুকামিতা বা পেডোফিলিয়া) মৌলিক পার্থক্য থাকতে পারে, সেই ক্লিনিক্যাল বিভাজনটাই আমাদের এখানে অনুপস্থিত।
ফলে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট বা কোনো সরকারি হাসপাতালে এই সুপ্ত বিকৃতি নিয়ে কাজ করার মতো কোনো বিশেষায়িত উইং বা গবেষণার উদ্যোগ গড়ে ওঠেনি। এই সূক্ষ্ম পার্থক্য আমাদের নীতিনির্ধারণে প্রতিফলিত হয় না। ফলে চিকিৎসা, গবেষণা ও প্রতিরোধ—সব ক্ষেত্রেই ঘাটতি থেকে যায়।
উন্নত বিশ্বে এই বিভাজনটি অত্যন্ত স্পষ্ট। তারা এই সমস্যাটিকে কেবল একটি ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি’র অবনতি হিসেবে না দেখে বরং জনস্বাস্থ্যসংকট হিসেবে বিবেচনা করে।
তারা বুঝতে পেরেছে যে একজন অপরাধী যখন কোনো শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করে, তখন রাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থা যতই কঠোর হোক না কেন, সেই শিশুটির জীবন আর ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয় না।
তাই তারা অপরাধীর শাস্তির পাশাপাশি কেন এই মানসিকতার জন্ম হচ্ছে এবং কীভাবে সমাজ অপরাধ ঘটার আগেই তা প্রতিরোধ করতে পারে—সেই মনস্তাত্ত্বিক ও প্রাতিষ্ঠানিক নজরদারির বিজ্ঞানসম্মত পথটিই বেছে নিয়েছে।
এ বিষয়ে কথা হচ্ছিল মনোরোগবিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আহমেদ হেলালের সঙ্গে। তিনি বললেন, শিশু বা প্রাপ্তবয়স্ক যাকেই ধর্ষণ করা হোক না কেন, ধর্ষণের মূল মনস্তত্ত্ব সব সময় যে আলাদা হয়, তা নয়। অপরাধী সাধারণত দুর্বল লক্ষ্য বেছে নেয়।
শিশুরা প্রতিরোধ করতে পারে না, তাই তারা সহজ টার্গেট। সব শিশু নির্যাতনকারী পেডোফিলিক নয়। আবার সব পেডোফিলিক ব্যক্তি অপরাধ করে না। তাই মনস্তাত্ত্বিক মূল্যায়ন ও চিকিৎসার সুযোগ থাকা জরুরি।
তবে এটা ঠিক, সব সমাজেই পেডোফিলিয়া বৈশিষ্ট্যের মানুষ বিদ্যমান থাকার পরও তা নিয়ে আমাদের এখানে প্রাতিষ্ঠানিক কোনো উদ্যোগ নেই।
উন্নত দেশগুলোয় এই ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ মোকাবিলায় স্বেচ্ছায় চিকিৎসা গ্রহণের সুযোগ, ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের নিবিড় মূল্যায়ন এবং দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধীদের ওপর কাঠামোগত নজরদারির ব্যবস্থা রয়েছে।
কিন্তু আমাদের দেশে ফরেনসিক সাইকিয়াট্রি বিভাগ এবং সামগ্রিক মানসিক স্বাস্থ্য খাতের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রাতিষ্ঠানিক ও কার্যকর সংযোগ এখনো গড়ে ওঠেনি।
বাংলাদেশে শিশুধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা নতুন কিছু নয়। অতীতেও এমন অসংখ্য মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে, যা সাময়িকভাবে সমাজকে নাড়া দিলেও দীর্ঘ মেয়াদে কোনো পরিবর্তন আনেনি।
২০১৯ সালের রাজধানীর ওয়ারীতে ৭ বছরের শিশু হত্যাকাণ্ডের কথা উল্লেখ করা যায়। সায়মাকে তাদের বহুতল ভবনের ছাদতলার একটি খালি ফ্ল্যাটে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়েছিল। অপরাধীকে চিনে ফেলার কারণে খুনি তাকে গলায় দড়ি পেঁচিয়ে হত্যা করে।
একইভাবে ২০২১ সালে যাত্রাবাড়ীতে ৭ বছরের শিশু কিংবা ২০২৩ সালে সাভারে পাঁচ বছরের এক শিশুকে চিপসের প্রলোভন দেখিয়ে ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।
প্রতিটি ঘটনায় একটি সাধারণ প্যাটার্ন বা ধরন স্পষ্ট—অপরাধী পরিচিত বা প্রতিবেশী, অপরাধটি ঘটেছে কোনো বন্ধ ঘরে সুযোগ বুঝে এবং অপরাধ করার পর ধরা পড়ার তীব্র ভয় থেকে শিশুদের মেরে ফেলা হয়েছে। প্রতিটি ঘটনায় দোষীদের গ্রেপ্তার ও মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়েছে। তারপরও ঘটনাগুলো ঘটছে।
বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতিবছর কয়েক শ শিশু ধর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার হয়। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পর্যবেক্ষণেও একই প্রবণতা দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। অধিকাংশ ঘটনায় অপরাধী পরিচিত-প্রতিবেশী, আত্মীয় বা পরিবারের ঘনিষ্ঠ কেউ।
‘চিনে ফেলার কারণে হত্যার’ ঘটনা কেবল বাংলাদেশের একক কোনো সমস্যা নয়, এটি একটি বৈশ্বিক সংকট। অপরাধবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘এলিমিনেশন অব উইটনেস’ বা সাক্ষী চিরতরে মুছে দেওয়া।
ইতালীয় অপরাধবিজ্ঞানী সিজার লমব্রোসো অপরাধের জৈবিক ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তাঁর অনেক তত্ত্ব আজ আর গ্রহণযোগ্য নয়। তবে একটি বিষয় এখনো প্রাসঙ্গিক ও গ্রহণযোগ্য। তা হলো সব অপরাধ শুধু কঠোর শাস্তি দিয়ে থামানো যায় না। মানসিক ও সামাজিক উপাদানও বিবেচনায় নিতে হয়।
লমব্রোসো তাঁর গবেষণায় দেখিয়েছিলেন, কিছু অপরাধের উৎস মানুষের মনস্তাত্ত্বিক ও শারীরিক বিকৃতির মধ্যে লুকিয়ে থাকে, যা সাধারণ সামাজিক শাসন দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না।
উন্নত বিশ্ব অনেক আগেই বুঝেছে যে শুধু ফাঁসি বা কঠোর শাস্তি দিয়ে এই মনস্তাত্ত্বিক বিকৃতি বা পেডোফিলিয়া দূর করা যায় না। তারা এটিকে স্রেফ ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি’র অবনতি হিসেবে না দেখে বরং জনস্বাস্থ্যসংকট হিসেবে বিবেচনা করে।
তারা অপরাধ ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়ার চেয়ে অপরাধ যেন কোনোভাবেই ঘটতে না পারে, সেই প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থাকে বেশি প্রাধান্য দেয়। কারণ, একজন অপরাধী যখন কোনো শিশুকে হত্যা করে, তখন রাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থা যতই কঠোর হোক না কেন, সেই শিশুটির জীবন আর ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয় না।
এই প্রতিরোধমূলক দৃষ্টিভঙ্গির উল্লেখযোগ্য উদাহরণ জার্মানি। ২০০৫ সালে জার্মানির বার্লিনের বিখ্যাত শ্যারেট ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের ইনস্টিটিউট অব সেক্সোলজি অ্যান্ড সেক্সুয়াল মেডিসিন একটি বিশেষ প্রকল্প শুরু করে।
প্রকল্পটির নাম ‘কিন তাতের ভার্ডেন’ (অপরাধী হবেন না)। জার্মান সরকার ও অপরাধবিজ্ঞানীরা উপলব্ধি করেছিলেন, সমাজে অত্যন্ত অল্পসংখ্যক মানুষের মধ্যে জন্মগত বা মনস্তাত্ত্বিক ত্রুটির কারণে শিশুদের প্রতি যৌন আকর্ষণ তৈরি হয়। এরা অনেক সময় অপরাধ করার আগে থেকেই তীব্র মানসিক দ্বন্দ্বে ভোগেন।
এ প্রকল্পের আওতায় জার্মান রাষ্ট্র ঘোষণা দেয়: ‘যদি আপনার মনের গভীরে শিশুদের প্রতি কোনো যৌন আকর্ষণ বা বিকৃত ইচ্ছা জেগে ওঠে, তবে আপনি কোনো অপরাধে জড়িয়ে পড়ার আগেই আমাদের কাছে আসুন। আপনার নাম, পরিচয় ও পেশাগত তথ্য সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে। রাষ্ট্র সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে আপনার মনস্তাত্ত্বিক চিকিৎসার দায়িত্ব নেবে।’
গত দুই দশকে হাজার হাজার জার্মান নাগরিক স্বেচ্ছায় এই হেল্পলাইনে যোগাযোগ করেছেন এবং দীর্ঘমেয়াদি গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা এই থেরাপি কোর্সটি সম্পন্ন করেছেন, তাঁদের মাধ্যমে পরে কোনো শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেনি বললেই চলে।
২০০৫ সালের জুন মাস থেকে এখানে এমন ব্যক্তিদের জন্য থেরাপির ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে, যাঁদের শিশুদের প্রতি যৌন আকর্ষণমূলক কল্পনা আছে, কিন্তু তাঁরা কোনো ধরনের নির্যাতন বা অপরাধ করতে চান না এবং এজন্য স্বেচ্ছায় চিকিৎসা সহায়তা খুঁজছেন।
প্রকল্পটি চিকিৎসাপ্রার্থী ব্যক্তিদের জন্য সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে পরিচালিত হয়। সেখানে বিশেষজ্ঞদের অধীনে কগনিটিভ বিহেভিওরাল থেরাপি (সিবিটি) এবং প্রয়োজনে হরমোন উৎপাদন সাপ্রেস করার ওষুধের মাধ্যমে মানুষের এই বিকৃত চিন্তাকে আচরণে রূপান্তর হওয়া থেকে আটকে দেওয়া হয়।
গত দুই দশকে হাজার হাজার জার্মান নাগরিক স্বেচ্ছায় এই হেল্পলাইনে যোগাযোগ করেছেন এবং দীর্ঘমেয়াদি গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা এই থেরাপি কোর্সটি সম্পন্ন করেছেন, তাঁদের মাধ্যমে পরে কোনো শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেনি বললেই চলে।
জার্মানির এই মডেল দেখে ইউরোপের আরও বেশ কয়েকটি দেশ, যেমন অস্ট্রিয়া ও সুইজারল্যান্ড এ ধরনের নিখরচায় মনস্তাত্ত্বিক প্রতিরোধব্যবস্থা চালু করেছে। তারা হিসাব করে দেখেছে, একটি শিশুধর্ষণের পর যে সামাজিক ও আইনি ক্ষতি হয়, আইনি ব্যবস্থার পেছনে যে বিশাল অর্থ ব্যয় হয়, তার চেয়ে অপরাধ ঘটার আগেই ফ্রিতে থেরাপি দিয়ে একজন মানুষকে সুস্থ রাখা রাষ্ট্রের জন্য অনেক বেশি সাশ্রয়ী।
যুক্তরাজ্যেও এই সমস্যা মোকাবিলায় ব্যবস্থা রয়েছে। সেখানে ‘স্টপ ইট নাও!’ নামে একটি জাতীয় হেল্পলাইন ও থেরাপি ব্যবস্থা কাজ করে। এটি মূলত একটি প্রতিরোধমূলক নেটওয়ার্ক, যেখানে যে কেউ সম্পূর্ণ বেনামিভাবে কল করে মনস্তাত্ত্বিক পরামর্শ নিতে পারে। এর বাইরে যুক্তরাজ্যে শিশুদের অনলাইন সুরক্ষায় চাইল্ড এক্সপ্লয়টেশন অ্যান্ড অনলাইন প্রোটেকশন (সিইওপি) অত্যন্ত সক্রিয়, যা ইন্টারনেটে এ ধরনের মানুষদের গতিবিধি ট্র্যাকিং করে এবং অপরাধের আগেই তাদের ধরে ফেলে।
অন্যদিকে উত্তর আমেরিকার দেশগুলো, যেমন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় শাস্তির পাশাপাশি কঠোর সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক নজরদারির ব্যবস্থা রয়েছে। এই দেশগুলোয় ‘সেক্স ওফেন্ডার রেজিস্ট্রি’ বা যৌন অপরাধীদের একটি জাতীয় প্রকাশ্য ডেটাবেজ থাকে।
কানাডায় সার্কেলস অব সাপোর্ট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টেবিলিটি (সিওএসএ) মডেলের মাধ্যমে মুক্ত হওয়া উচ্চঝুঁকিসম্পন্ন অপরাধীদের চারপাশে সমাজকর্মী ও মনস্তাত্ত্বিকদের একটি দল সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখে, যাতে তারা পুরোনো অভ্যাসে ফিরে না যায়।
এসব উদাহরণ দেখায়, শাস্তির পাশাপাশি প্রতিরোধ জরুরি। আবেগ আর সস্তা রাজনীতির বাইরে এসে আমাদের দেশের সমাজব্যবস্থায় বাস্তবসম্মত পদক্ষেপগুলো কী হতে পারে, তা ভাবা জরুরি।
সরকার ও বেসরকারি সংস্থার যৌথ বা একক উদ্যোগের মাধ্যমে আমাদের দেশীয় বাস্তবতায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব। জার্মানির মডেলে সরকারি উদ্যোগে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের অধীনে একটি সম্পূর্ণ গোপন, সুরক্ষিত এবং বেনামি জাতীয় হেল্পলাইন বা কাউন্সেলিং সেল তৈরি করা যেতে পারে।
যদি এমন একটি ব্যবস্থা থাকে, যেখানে কোনো ধরনের আইনি বা সামাজিক হেনস্তার শিকার হওয়া ছাড়াই মানুষ তার মনস্তাত্ত্বিক বিকৃতির প্রতিকার চাইতে পারবে, তবে সম্ভাব্য অপরাধীদের কেউ কেউ নিজে থেকেই চিকিৎসার আওতায় আসতে পারে। অন্তত শুরুটা করা উচিত।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে এবং প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের ‘বডি সেফটি’ বা শারীরিক সুরক্ষা এবং ‘গুড টাচ-ব্যাড টাচ’ বিষয়ে সচেতনতা তৈরির পদক্ষেপ বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে।
সমাজতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে, শিশুদের এই প্রতিরক্ষামূলক সচেতনতা তৈরি করা জরুরি, যাতে তারা যেকোনো অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হওয়ামাত্রই নিজেদের রক্ষা করতে পারে বা পরিবারকে দ্রুত জানাতে পারে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি বিশেষায়িত উইং তৈরি করা যেতে পারে, যারা অতীতে শিশু নির্যাতনের দায়ে অভিযুক্ত, সাজা খেটে বের হওয়া বা জামিনে থাকা ব্যক্তিদের একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ডেটাবেজ তৈরি করবে।
এ বিষয়ে আহমেদ হেলাল বলেন, যদি কোনো ব্যক্তি নিজের ভেতরে এ ধরনের বিকৃত বা মনস্তাত্ত্বিক সমস্যা বোধ করেন এবং মনে করেন যে তাঁর চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন, তবে তিনি মানসিক স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞ, সাইকিয়াট্রিস্ট কিংবা সাইকোলজিস্টের শরণাপন্ন হতে পারেন।
কগনিটিভ বিহেভিওরাল থেরাপি (সিবিটি) বা ডায়ালেক্টিক্যাল বিহেভিওরাল থেরাপির (ডিবিটি) মতো বিভিন্ন আচরণগত চিকিৎসার মধ্য দিয়ে তাঁর এই বিকৃত আচরণের ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটানো সম্ভব।
এমনকি সমস্যার মাত্রা যদি খুব গভীর হয়, তবে সুনির্দিষ্ট ওষুধের মাধ্যমেও এটি নিয়ন্ত্রণ করা যায়। তিনি বলেন, যাদের মানসিক স্বাস্থ্যগত ত্রুটি বা সমস্যার কারণে সমাজে ধর্ষণসহ যেকোনো ধরনের অপরাধ ঘটার আশঙ্কা থাকে, তাদের আগে থেকেই চিহ্নিত করে চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করাটা অত্যন্ত জরুরি।
তবে আশার কথা হলো, আমাদের সামগ্রিক ব্যবস্থায় এখন সব দিক দিয়েই একধরনের ইতিবাচক ও গুণগত পরিবর্তন হচ্ছে। আমরা আশা করি, ভবিষ্যতে আমাদের মানসিক স্বাস্থ্য খাত এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী উভয় ক্ষেত্রেই অপরাধ প্রতিরোধের এই মনস্তাত্ত্বিক উপাদানটি আরও জোরালোভাবে সংযুক্ত হবে।
কৌশিক আহমেদ লেখক ও সাংবাদিক
koushik.ahmed@gmail.com