পবিত্র কাবা শরীফের প্রাঙ্গণে বিশ্ব মুসলিমের মিলনমেলা। ঈদুল আজহা উপলক্ষে সৌদি আরবের মক্কায় মসজিদুল হারামে তাওয়াফ করছেন সারা বিশ্ব থেকে আসা ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।
পবিত্র কাবা শরীফের প্রাঙ্গণে বিশ্ব মুসলিমের মিলনমেলা। ঈদুল আজহা উপলক্ষে সৌদি আরবের মক্কায় মসজিদুল হারামে তাওয়াফ করছেন সারা বিশ্ব থেকে আসা ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।

মতামত

সৌদির শত কোটি ডলারও যখন হামলা থেকে হাজিদের বাঁচাতে পারছে না

চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের যাত্রীদের যাত্রা শুরুর এলাকায় ওমরাহযাত্রীদের সাদা ইহরামের কাপড়ে লেগে ছিল রক্তের দাগ। এ দৃশ্য বিশ্ববাসীর মনে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে।

আগামী প্রজন্মও হয়তো এ ঘটনা মনে রাখবে। এটি শুধু একটি সামরিক হামলা নয়; বরং ক্ষমতা, নিরাপত্তা ও মানুষের অসহায়ত্ব সম্পর্কে প্রচলিত ধারণায় বড় ধরনের আঘাত।

৬ থেকে ১১ অক্টোবর পর্যন্ত যা ঘটেছে, তা কেবল ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ছিল না। পৃথিবীর দরিদ্রতম অঞ্চলগুলোর একটি ইয়েমেন থেকে উঠে আসা একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী সৌদি আরবের রাজধানীর বিপুল অর্থে গড়ে তোলা প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ভেদ করেছে।

একই সঙ্গে দেশটির প্রধান বিমানবন্দর অচল করে দিয়েছে। কয়েক দশকে কোনো প্রচলিত সামরিক বাহিনীও এমন ঘটনা ঘটাতে পারেনি।

কয়েক দিনের এ হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং ৩২০ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ওমরাহযাত্রী, বিদেশি কর্মী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যরা।

তাঁদের কারও সঙ্গে রাজনৈতিক বা সামরিক সিদ্ধান্তের কোনো সম্পর্ক ছিল না। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন ৪৬ বছর বয়সী ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি পেশাজীবী মোহাম্মদ ইউসুফ। তিনি পরিবারের সঙ্গে ওমরাহ করতে যাচ্ছিলেন।

নিহত হন বাংলাদেশের সম্মানিত ইসলামি আলেম মুফতি মোহাম্মদ নাসরুল্লাহ বদরপুরীও। তাঁরা কেউ যোদ্ধা ছিলেন না। তাঁরা ছিলেন আল্লাহর ঘরের মেহমান।

এ ঘটনা আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থার একটি মৌলিক ধারণাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। ধারণাটি হলো, বিপুল অর্থ ও উন্নত প্রযুক্তি থাকলে যেকোনো দেশ সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকতে পারে। রিয়াদ নিজেদের সুরক্ষায় অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল।

এর মধ্যে ছিল প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র, একাধিক স্তরের রাডার এবং আগাম সতর্কতার ব্যবস্থা। কিন্তু হুতিরা উন্নত প্রযুক্তি দিয়ে নয়, বরং সংখ্যার হিসাব কাজে লাগিয়ে এ প্রতিরক্ষা ভেদ করেছে।

এ কৌশলকে বলা যায় ‘বাফার ওভারফ্লো’। সহজভাবে বললে, প্রতিটি প্রতিরক্ষাব্যবস্থারই নির্দিষ্টসংখ্যক আক্রমণ শনাক্ত করা ও মোকাবিলা করার ক্ষমতা থাকে। একসঙ্গে সেই সীমার চেয়ে বেশি ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন এলে ব্যবস্থাটি অকার্যকর হয়ে পড়তে পারে।

এখানে ব্যয়ের ব্যবধানও গুরুত্বপূর্ণ। একটি প্যাট্রিয়ট–প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের দাম ৩০ থেকে ৪০ লাখ ডলার। কিছু হিসাব অনুযায়ী, পিএসি-টু জিইএম-টি সংস্করণের দাম ৪০ থেকে ৬০ লাখ ডলার পর্যন্ত হতে পারে।

বিপরীতে একটি হুতি ড্রোন তৈরি করতে খরচ হয় মাত্র ২০ থেকে ৫০ হাজার ডলার। ভূমিতে আঘাত হানার উপযোগী করে পরিবর্তিত আর-২৭ আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের রূপান্তর ব্যয় প্রায় ২০ হাজার ডলার।

বিশ্লেষকদের কিছু হিসাব অনুযায়ী, আক্রমণকারী ও প্রতিরক্ষাকারীর ব্যয়ের অনুপাত ৮৫ অনুপাত ১ পর্যন্ত হতে পারে। অর্থাৎ আক্রমণকারীকে সফল হতে হয় মাত্র একবার।

কিন্তু প্রতিরক্ষাকারীকে প্রতিবারই সফল হতে হয়। একটি আঘাতেই নিরাপত্তার সব প্রচলিত ধারণা ভেঙে পড়তে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরবের প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে আসছে। রাজপ্রাসাদ ও জ্বালানি অবকাঠামো রক্ষায় দেশটির বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সরিয়ে আনা হচ্ছে।

জরুরি সহায়তার জন্য পাকিস্তানসহ অন্য মিত্রদের কাছেও সহযোগিতা চাওয়া হচ্ছে। নির্ভুল লক্ষ্যভেদী অস্ত্রের যুগ শুরু হওয়ার পর এ ব্যয়ের অসমতা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পরিবর্তন।

সৌদি রাষ্ট্রের নিরাপত্তাদর্শন ছিল, বিপুল সম্পদ ও পশ্চিমা প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির সাহায্যে বিশৃঙ্খল অঞ্চলের মধ্যে একটি অজেয় আধুনিক রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব। এই ধারণাকে বলা যায় ‘অভেদ্যতার মিথ’। সাম্প্রতিক হামলা দেখিয়ে দিয়েছে, এমন বিশ্বাস বিপজ্জনক ভ্রান্তি।

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইরান–সমর্থিত হুতি গোষ্ঠীর হামলার পর ধোঁয়া ও আগুনের কুণ্ডলী দেখা যায়। ৮ অক্টোবর বৃহস্পতিবার এ হামলা হয়

সুন্নি ইসলামি শিক্ষার অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান আল-আজহার আল-শরিফ হামলাটিকে ‘হিরাবা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে ফতোয়া দিয়েছে।

হিরাবা বলতে সমাজ ও সৃষ্টির নৈতিক শৃঙ্খলার বিরুদ্ধে সশস্ত্র সহিংসতাকে বোঝানো হয়। এর মাধ্যমে হামলাকারীদের ধর্মীয় বৈধতার দাবিও প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন বা ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা মক্কাগামী ওমরাহযাত্রীদের ওপর হামলাকে ইসলামি মূল্যবোধের পরিপন্থী বলে নিন্দা জানিয়েছে।

সংস্থাটি বলেছে, হজযাত্রীদের নিরাপত্তা একটি পবিত্র সীমারেখা। কোনো ভূরাজনৈতিক সংঘাতের কারণে তা লঙ্ঘন করা যায় না। সৌদি জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকিও বলেছেন, দুই পবিত্র মসজিদের নিরাপত্তা এবং হাজিদের সুরক্ষা কোনোভাবেই আপসের বিষয় নয়।

সৌদি আরবের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ‘ভিশন ২০৩০’-এর ওপরও হামলার বড় প্রভাব পড়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা সৌদিয়া রিয়াদ থেকে নির্ধারিত প্রায় ৭০ শতাংশ ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে।

১১ অক্টোবর নাগাদ বিমানবন্দরের ফ্লাইট চলাচল প্রায় ৮৫ শতাংশ কমে যায়। নতুন আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা রিয়াদ এয়ার পুরোপুরি কার্যক্রম স্থগিত করে। এমিরেটস, ইতিহাদ ও কাতার এয়ারওয়েজের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাও তাদের সংযোগ ফ্লাইট বন্ধ রাখে।

বিশ্ব পেট্রোলিয়াম কাউন্সিলের জ্বালানি সম্মেলনের ঠিক আগে এ হামলা ঘটে। কয়েক সপ্তাহ পর ফিউচার ইনভেস্টমেন্ট ইনিশিয়েটিভের আয়োজন হওয়ার কথা ছিল।

এসব অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সৌদি আরবের উন্নয়ন–পরিকল্পনার জন্য বিপুল বিদেশি বিনিয়োগ আনার লক্ষ্য ছিল।

উড়োজাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিপি ও শেল কোম্পানির প্রধান নির্বাহীরাও আয়োজকদের জানিয়েছেন, তাঁরা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারবেন না।

ক্লিংগেনডাল ইনস্টিটিউটের মূল্যায়ন অনুযায়ী, যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অবকাঠামোগত, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষতি ভিশন ২০৩০-এর মূল ভিত্তিকে হুমকির মুখে ফেলেছে।

এ পরিকল্পনার লক্ষ্য বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে প্রতিযোগিতা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও পর্যটনের মতো খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া।

তবে এখন বিশ্ব বিনিয়োগকারীদের জন্য শিক্ষাটি স্পষ্ট—রাষ্ট্রের হাতে যত সম্পদই থাকুক, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চালু রাখার জন্য প্রয়োজনীয় বাস্তব নিরাপত্তা শুধু অর্থ দিয়ে নিশ্চিত করা যায় না।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়াও গুরুত্বপূর্ণ। ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, মিসর ও তুরস্কের মতো হাজি-ওমরাহযাত্রী পাঠানো দেশগুলোকে সঙ্গে নিয়ে ‘স্যাক্রেড করিডরস’ বা পবিত্র যাত্রাপথ উদ্যোগ গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছে।

ওমরাহযাত্রীদের সাদা ইহরামে লেগে থাকা রক্তের দাগ আমাদের কাছে এর চেয়ে কম কিছু দাবি করে না। প্রশ্ন শুধু এ–ই নয় যে বিশ্ব এ ঘটনা থেকে শিক্ষা নেবে কি না। আসল প্রশ্ন হলো, নিরাপত্তার আরেকটি মিথ ভেঙে পড়ার আগেই বিশ্ব সেই শিক্ষা কাজে লাগাবে কি না।

এর লক্ষ্য হজযাত্রার সব যাতায়াতপথকে আন্তর্জাতিক সুরক্ষার আওতায় স্থায়ীভাবে সামরিক কর্মকাণ্ডমুক্ত অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করা।

আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের ক্ষেত্রে এটি নতুন উদ্যোগ। এত দিন সুরক্ষার ধারণা মূলত নির্দিষ্ট স্থাপনা বা ভূখণ্ডকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল।

এ প্রস্তাবে সুরক্ষার আওতায় আসবে যাতায়াতের পথও। প্রথমে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রস্তাবটি তোলার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে ব্যাপক আন্তর্জাতিক সমর্থন পাওয়া যায়।

এরপর জাতিসংঘ সনদের সপ্তম অধ্যায়ের আওতায় নিরাপত্তা পরিষদের বাধ্যতামূলক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এটি কার্যকর করার কথা ভাবা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও এ হামলা বড় কৌশলগত সংকট তৈরি করেছে। একজন মার্কিন নাগরিকের মৃত্যুর পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হুতিদের অবকাঠামোয় সরাসরি সামরিক হামলার বিষয়টি তাঁর প্রশাসন বিবেচনা করছে।

তবে ইয়েমেনে হুতিদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সামরিক সহায়তার অনুরোধে ওয়াশিংটন এখনো পুরোপুরি সাড়া দেয়নি। যদিও দেশটি সামরিক উপদেষ্টা পাঠিয়েছে।

র‍্যান্ড করপোরেশনের বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, হুতিরা এখন আর ইরানের ‘প্রতিরোধের অক্ষ’-এর দ্বিতীয় বা তৃতীয় সারির শক্তি নয়। ইরানের অস্ত্র, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান থেকে তারা সুবিধা পায়।

তবে নিজেদের স্বার্থেও স্বাধীনভাবে কাজ করে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাতের পরবর্তী পর্যায়কে প্রভাবিত করার ক্ষমতা তাদের রয়েছে।

একই সঙ্গে বাব আল-মানদেব প্রণালির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। বিশ্বের সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনের ১২ থেকে ১৫ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে যায়। ফলে হুতিদের কেবল ইরানের নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিনিধি শক্তি হিসেবে দেখলে ভুল হবে। তাদের নিজস্ব কৌশলগত ক্ষমতা রয়েছে।

রিয়াদের ওপর হামলা স্থানীয় যুদ্ধের যুগের অবসান ঘটিয়েছে। ভৌগোলিক দূরত্ব আর নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয় না। পৃথিবীর অন্যতম দরিদ্র একটি দেশ থেকে পরিচালিত সশস্ত্র গোষ্ঠীও এখন বৈশ্বিক অর্থনীতির ধারাবাহিকতা ব্যাহত করতে পারে।

আধুনিক বিশ্বায়নের অন্যতম ভিত্তি হলো সর্বোচ্চ দক্ষতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ ও কর্মকাণ্ডকে কয়েকটি প্রধান কেন্দ্রের মধ্যে কেন্দ্রীভূত করা।

কিন্তু এ ব্যবস্থার দুর্বলতা হলো, একটি কেন্দ্র অচল হয়ে পড়লেই পুরো নেটওয়ার্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। গবেষকেরা দেখিয়েছেন, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলোর মধ্যে পারস্পরিক নির্ভরতা রয়েছে।

একটি জায়গায় বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটলে তার প্রভাব দ্রুত অন্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে এবং ভয়াবহ পরিণতি তৈরি করতে পারে।

ওমরাহযাত্রীদের সাদা ইহরামে লেগে থাকা রক্তের দাগ আমাদের কাছে এর চেয়ে কম কিছু দাবি করে না। প্রশ্ন শুধু এ–ই নয় যে বিশ্ব এ ঘটনা থেকে শিক্ষা নেবে কি না। আসল প্রশ্ন হলো, নিরাপত্তার আরেকটি মিথ ভেঙে পড়ার আগেই বিশ্ব সেই শিক্ষা কাজে লাগাবে কি না।

  • কুরনিয়াওয়ান আরিফ মাসপুল ইসলামি কূটনীতি ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার রাজনৈতিক চিন্তাধারা নিয়ে গবেষণা ও লেখালেখি করেন।

মিডল ইস্ট মনিটর থেকে নেওয়া।

ইংরেজি থেকে অনূদিত।