
তথ্যপ্রযুক্তির উৎকর্ষের এই যুগে কাগজের বই পড়ার প্রবণতা যখন কমে আসছে, তখন এক তরুণ স্কুলশিক্ষক নিজের উদ্যোগে তাঁর গ্রামে পাঠাগার স্থাপন করেছেন। পাঠাগারটিতে ইতিহাস-ঐতিহ্য, কবিতা, উপন্যাস, জ্ঞান-বিজ্ঞানসহ সব ধরনের দেড় হাজারের বেশি বই রয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে বিভিন্ন সাময়িকী ও পত্রপত্রিকা। শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সের পাঠক নিয়মিত সেখানে বই পড়তে আসেন। এ ছাড়া এলাকার শিশু-কিশোরদের মধ্যে মননশীলতা সৃষ্টির লক্ষ্যে পাঠাগার ঘিরে বছরজুড়েই নানা ধরনের সামাজিক-সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
প্রথম আলোর প্রতিবেদন জানাচ্ছে, গাজীপুর জেলা শহর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে নীলেরপাড়া গ্রাম। সেখানকার তরুণ এক স্কুলশিক্ষক মাধব চন্দ্র মণ্ডল টিনের ঘরে গড়ে তুলেছেন ‘বইপোকা’ পাঠাগার। ২০১৮ সালে ১৫০টি বই দিয়ে তাঁর পাঠাগার শুরু করেছিলেন। এখন বই রয়েছে দেড় হাজারের বেশি। শুধু বই পড়া নয়, পাঠাগার থেকে বছরের বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কবি-সাহিত্যিকের জন্ম-মৃত্যু দিবস পালন, জাতীয় দিবস পালন, চিত্রাঙ্কন, সাধারণ জ্ঞান, গল্প লেখা, কবিতা আবৃত্তির আয়োজন করা হয়। এ ছাড়া পাঠাগারের উদ্যোগে পাখিদের নিরাপদে বসবাসের জন্য এলাকার গাছপালায় শতাধিক হাঁড়ি ঝোলানো হয়েছে।
মাধব চন্দ্র মণ্ডল তাঁর এই পাঠাগার প্রতিষ্ঠার কারণ সম্পর্কে বলেছেন, ‘আমরা যারা গ্রামে বসবাস করি, তাদের শহরে গিয়ে বই পড়া বড় সমস্যা। কারণ, দেশের বেশির ভাগ পাঠাগার শহরকেন্দ্রিক।’ শিশু-কিশোরদের মানসিক বিকাশ ও তাদের মধ্যে মননশীলতা গড়ে তুলতে হলে পাঠাভ্যাসের বিকল্প নেই। ইন্টারনেট ও তথ্যপ্রযুক্তির অগ্রযাত্রা যত বাড়ছে, ততই বই পড়ার অভ্যাস যেন হারিয়ে যাচ্ছে। স্কুল ও কলেজগুলোতে পাঠ্যবইয়ের বাইরে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বই পড়ার সুযোগ কমেছে। আমাদের পুরো শিক্ষাব্যবস্থা হয়ে পড়েছে মুখস্থনির্ভর। ফলে কর্মক্ষেত্রে গিয়ে বহুমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার যোগ্যতা তাদের গড়ে ওঠে না।
তরুণ শিক্ষক মাধব চন্দ্রের পাঠাগার এবং পাঠাগারকে কেন্দ্র করে শিশু-কিশোরদের মননশীলতা গড়ে তোলার যে উদ্যোগ, সেটি নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই তিনি পাঠাগার গড়ে তোলাকে ব্রত হিসেবে নিয়েছেন। তাঁর এই উদ্যোগ সমাজের অন্য যেসব তরুণ ভালো কিছু করতে চান, তাঁদের জন্য অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত হতে পারে। মানুষকে আলোকিত করার তাঁর এ প্রচেষ্টা ছড়িয়ে পড়ুক।