শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন ও প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্ট মাহ্‌দী আমিন
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন ও প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্ট মাহ্‌দী আমিন

চিঠিপত্র

শিক্ষামন্ত্রী ও শিক্ষা উপদেষ্টার কাছে ২৯ জন সহকারী শিক্ষকের খোলাচিঠি

আমরা দেশের বিভিন্ন সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় বা জেলা স্কুলে কর্মরত ২৯ জন শিক্ষক এক চরম পেশাগত হতাশা ও মানসিক অস্বস্তি নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

আমরা প্রত্যেকেই রাষ্ট্রের নির্ধারিত সব নিয়মকানুন ও যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে সরকারি চাকরিতে যোগদান করেছিলাম। আমাদের বয়স ও অভিজ্ঞতার পরিধি এখন জীবনের শেষ প্রান্তে—কারও জন্ম ১৯৬৮ সালে, আবার কারও ১৯৮২ সালে। আমাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন ইতিমধ্যে অবসরে চলে গেছেন এবং বাকি কয়েকজনেরও অবসরের সময় ঘনিয়ে এসেছে।

অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে সারা জীবন নিষ্ঠার সঙ্গে আলো ছড়িয়েও চাকরিজীবনের শেষ সময়ে আমাদের এখনো ‘সহকারী শিক্ষক’ পদেই আটকে থাকতে হচ্ছে।

আমাদের এই দীর্ঘদিনের বঞ্চনা দূর করতে ইতিপূর্বে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (বিপিএসসি) সচিবালয়ের কাছে আইনি ও প্রশাসনিক মতামত চাওয়া হয়েছিল।

পিএসসি অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে আমাদের ‘সিনিয়র শিক্ষক’ পদে পদোন্নতি দেওয়ার জন্য সুস্পষ্ট পরামর্শ ও সুপারিশ প্রদান করে। সেই সুপারিশের ওপর ভিত্তি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে চলতি বছরের মার্চ মাসে একটি সারসংক্ষেপ বা নোটও উপস্থাপন করা হয়। কিন্তু অত্যন্ত রহস্যজনক কারণে আজ পর্যন্ত সেই কাঙ্ক্ষিত প্রজ্ঞাপন বা আদেশ জারি করা হয়নি।

আমরা ২৯ জন শিক্ষক দেশের ভিন্ন ভিন্ন প্রান্তে কর্মরত এবং অতীতে কেউ কারও পূর্বপরিচিত ছিলাম না; কেবল অভিন্ন বঞ্চনা ও নিয়তি আজ আমাদের এক কাতারে দাঁড় করিয়েছে।

চাকরিজীবনের শেষ প্রান্তে এসে কর্মস্থলে জুনিয়রদের অধীন কাজ করা এবং এখনো ‘সহকারী শিক্ষক’ পদবি বয়ে বেড়ানো আমাদের জন্য অত্যন্ত বিব্রতকর ও মানসিকভাবে কষ্টদায়ক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আমরা জানতে পেরেছি, আমাদের এই পদোন্নতি দিলে সরকারের আর্থিক ব্যয়ভার বা বাজেট তেমন একটা বাড়বে না। কারণ, দীর্ঘ চাকরিজীবনের জ্যেষ্ঠতার কারণে আমরা ইতিমধ্যে অনেকেই ‘সিনিয়র শিক্ষক’ পদের সমপরিমাণ স্কেলের বেতন-ভাতা ভোগ করছি। ফলে বিষয়টি আর্থিক নয়, বরং নিছক প্রশাসনিক সদিচ্ছা ও লাল ফিতার দৌরাত্ম্যের কারণে আটকে আছে।

চাকরিজীবনের শেষ প্রান্তে এসে কর্মস্থলে জুনিয়রদের অধীন কাজ করা এবং এখনো ‘সহকারী শিক্ষক’ পদবি বয়ে বেড়ানো আমাদের জন্য অত্যন্ত বিব্রতকর ও মানসিকভাবে কষ্টদায়ক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আমরা আমাদের চাকরিজীবনের এই শেষ সময়ে এসে কোনো বাড়তি সুবিধা চাচ্ছি না, কেবল প্রাপ্য সম্মানটুকু নিয়ে বিদায় নিতে চাই। আশা করি, শিক্ষামন্ত্রী ও শিক্ষা উপদেষ্টা মহোদয় অত্যন্ত মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই ২৯ জন শিক্ষকের ফাইলটি পুনর্বিবেচনা করবেন এবং অবিলম্বে আদেশ জারির মাধ্যমে আমাদের জীবনের এই দীর্ঘদিনের পেশাগত অস্বস্তিকে স্বস্তিতে রূপান্তর করবেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ২৯ জন ভুক্তভোগী শিক্ষক