
ঢাকায় যানজট প্রসঙ্গে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন হচ্ছে। তাই সড়কে ব্যক্তিগত গাড়ি বেড়েছে। আওয়ামী লীগ আরেক মেয়াদে ক্ষমতায় এলে উপজেলা পর্যায়েও যানজট হবে। আজ বুধবার সংসদে রাজধানীর যানজট নিয়ে বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদের সমালোচনার জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম এ কথা বলেন।
এর আগে জেলা পরিষদ (সংশোধন) বিল-২০২২–এর ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপির সাংসদ হারুনুর রশীদ বলেন, ঢাকা আজকে নিশ্চল নগরীতে পরিণত হয়েছে। টানা ১৫ বছর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায়, কিন্তু ঢাকা শহরের একটা ভয়াবহ দুরবস্থা। শব্দদূষণ, বায়ুদূষণ, পানিদূষণ, মশার উপদ্রব, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে ঢাকা শুধু নয়, গোটা বাংলাদেশ একটি অবাসযোগ্য দেশে পরিণত হতে যাচ্ছে।
হারুন বলেন, ‘সরকার শুধু মেগা প্রকল্পের দিকে দৃষ্টিপাত করছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যাঁরা দেখতে পান না, চোখে চশমা দিতে।’ আমরা চোখে চশমা দিচ্ছি। আজকে বাসা থেকে সচিবালয় যেতে তিন ঘণ্টা লেগে যাচ্ছে। রোজাদাররা অফিস থেকে বাসায় এসে ইফতার করতে পারছেন না। মসজিদে তারাবিহর নামাজ পড়তে গেলে মশার উপদ্রবে নামাজে বিঘ্নিত হচ্ছে। এগুলো বাস্তব চিত্র। এই জায়গাগুলোতে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন?’
মেট্রোরেল বাস্তবায়নে ঢাকা মহানগরীর যানজট দূর করা যাবে না বলে দাবি করেন হারুন বলেন, গণপরিবহন ব্যবস্থায় আধুনিকায়ন আনতে হবে।
হারুনের বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, ‘২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন হচ্ছে। তাই সড়কে ব্যক্তিগত গাড়ি বেড়েছে। ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগ যদি আরও পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকে, তাহলে উপজেলাতেও দেখবেন গাড়ির লাইন লেগে যাবে। হারুন সাহেবকে বলি আল্লাহ যদি বাঁচায় রাখে আওয়ামী লীগ আরেকটা মেয়াদ ক্ষমতায় থাকে, তাহলে আপনি দেখবেন যে, উপজেলায় ট্রাফিক জ্যাম হবে।’
তাজুল ইসলাম বলেন, আগে তাঁর মতিঝিল থেকে গুলশানে যেতে ১০ থেকে ১৫ মিনিট লাগত। এখন অনেক বেশি সময় লাগে। এখন কেন বেশি সময় লাগে, এমন প্রশ্ন রেখে নিজেই জবাব দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘কারণ আমাদের আয় অনেক বাড়ছে। ৩০০ থেকে ৪০০ ডলার মাথাপিছু আয়ের দেশ থেকে ২ হাজার ৫৯১ ডলার মাথাপিছু ডলারের দেশ। এখন সবাই গাড়ি কিনছেন।’
সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকা শহরের কথা বলছেন, এখানে মানুষ যেভাবে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছেন, সবাই ঢাকায় মুভ করছেন। সারা পৃথিবীতেই এমন হয়েছে। লন্ডন, টোকিও, কলকাতায়ও হয়েছে। তারা এটাকে ম্যানেজ করেছে। আমরাও এটা নিয়ে কাজ করছি। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন। আমাকে ড্যাপের সভাপতি বানিয়েছেন, সেখানে অনেক বিষয় বিবেচনা করছি।’