টাঙ্গাইল-৩ ও ৪ আসন

ভোটের লড়াইয়ে বিএনপি নাকি কৃষক শ্রমিক লীগ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) ও টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসন দুটিতে কে হচ্ছেন ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী, তা নিয়ে চলছে জল্পনাকল্পনা। বিএনপি ও কাদের সিদ্দিকীর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ উভয় দলই আসন দুটির দাবিদার।

টাঙ্গাইল জেলার আটটি সংসদীয় আসনের মধ্যে একমাত্র টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর-বাসাইল) আসনে বিএনপি কোনো প্রার্থী দেয়নি। এ আসনে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি আবদুল কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম, তাঁর মেয়ে কুঁড়ি সিদ্দিকী ও দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তালুকদার বীর প্রতীক মনোনয়নপত্র জমা দেন। গত রোববার বাছাইয়ের সময় ঋণ খেলাপের কারণে কাদের সিদ্দিকীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে যায়।

টাঙ্গাইল-৩ আসনে এবার বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছে দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবেক প্রতিমন্ত্রী লুৎফর রহমান খান ওরফে আজাদ ও জেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ মাঈনুল ইসলামকে। ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে বিএনপির প্রার্থী লুৎফর রহমান খান নির্বাচিত হন। ১৯৯১ ও ২০০১ সালে বিজয়ী হয়ে তিনি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন। কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ এ আসনে মনোনয়ন দিয়েছে ঘাটাইল পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান আবদুর রশীদকে। তিনি বলেন, ‘দলের সভাপতি নিশ্চিত করেছেন, এই আসন আমরা পাব। গত রোববার দলের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী ঘাটাইলে দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি (কাদের সিদ্দিকী) বলেন, এ আসনে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হবেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ থেকে।’

ঘাটাইল উপজেলা বিএনপির সম্পাদক রেজাউল করিম বলেন, লুৎফর রহমান খান একাধিকবার বিপুল ভোটে এ আসন থেকে বিজয়ী হয়েছেন। এখানে বিজয়ের জন্য তাঁর কোনো বিকল্প নেই। এ উপজেলায় বিএনপির শক্ত অবস্থান রয়েছে। তাই বিএনপি থেকেই ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হবেন, এতে কোনো সন্দেহ নেই।

টাঙ্গাইল-৪ আসনে বিএনপি থেকে চারজনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তাঁরা হলেন দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য লুৎফর রহমান মতিন ও বেনজীর টিটো, মুক্তিযোদ্ধা দলের সহসভাপতি আবদুল হালিম ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শুকুর মাহমুদ। এদিকে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ থেকে কাদের সিদ্দিকীসহ তিনজন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে কাদের সিদ্দিকীর মনোনয়ন ঋণ খেলাপের কারণে বাতিল হয়ে গেছে। এখন যে দুজন আছেন, তাঁরা হলেন কাদের সিদ্দিকীর ছোট ভাই আজাদ সিদ্দিকী ও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে সদ্য কৃষক শ্রমিক জনতা লীগে যোগদানকারী লিয়াকত আলী। কাদের সিদ্দিকীর পৈতৃক বাড়ি এই উপজেলায়। তিনি নিজেও ২০০১ সালে এ আসন থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। কাদের সিদ্দিকীর দলীয় নেতা-কর্মীদের দাবি, এ আসনে তাঁদের দলের প্রার্থী নির্বাচন করবেন। লিয়াকত আলী বলেন, দলীয় প্রধান তাঁকে নিশ্চিত করেছেন ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী করার ব্যাপারে। তাই তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এবং জেলা পরিষদের সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগে যোগ দিয়েছেন।

জেলা বিএনপির সভাপতি শামছুল আলম বলেন, কেন্দ্র থেকে জোট ও দলগতভাবে যাঁকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে, তাঁর পক্ষেই দলীয় নেতা-কর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন।