
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগ মাঝেমধ্যে খারাপ খবরের শিরোনাম হয়। নেতা-কর্মীদের সবার সঙ্গে ভালো আচরণ করার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
আজ বুধবার চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের তৃণমূলের সদস্য সংগ্রহ ও সদস্য নবায়ন অভিযানের উদ্বোধন করতে গিয়ে এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের। তিনি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত ছিলেন।
নগরের কাজীর দেউড়ির ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে বেলা ১১টায় এ সভা শুরু হয়। সভায় দেওয়া বক্তব্যে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের অন্তঃকলহের কারণে প্রাণের প্রদীপ নিভে গেছে। আর এ রকম দেখতে চাই না। নগর ও দক্ষিণের সম্মেলন আয়োজন করুন। দেরি হয়ে গেছে। দুঃসময়ের কর্মীদের কাছে টানুন। দল থেকে দুষিত রক্ত বের করে দিতে হবে।’
আগামী ২৫ জুন পদ্মা সেতুর উদ্বোধন হবে উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, সারা দেশের মানুষ তাতে খুশি হলেও বিএনপি ও তার দোসরদের বুকে জ্বালা। চট্টগ্রাম নগরে মেট্রোরেল হবে। টানেল হয়ে যাচ্ছে। ঢাকা–চট্টগ্রাম চার লেন থেকে ছয় লেন হবে।
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়ক চার লেন করার বিষয়ে জাপানের সঙ্গে কথা হয়েছে জানিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, চট্টগ্রাম মেট্রোরেলের সমীক্ষা চলছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম ছয় লাইনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে, সেটা বাস্তবায়ন করা হবে। তবে নেতা–কর্মীরা খারাপ আচরণ করলে শেখ হাসিনার এসব উন্নয়ন ম্লান হয়ে যাবে বলে সতর্ক করেন তিনি। নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সবার সঙ্গে ভালো আচরণ করতে হবে।’
সভায় ১ অক্টোবর মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলনের ঘোষণা দেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের শক্তি ক্ষমতা নয়, মূল শক্তি সংগঠন ও জনগণ। ভবিষ্যতে যে নির্বাচন হবে, তাতে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আসতে হবে।’
হানিফ আরও বলেন, ১ অক্টোবর মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে ওয়ার্ড ও থানার সম্মেলন হবে। নগর কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোশাররফ হোসেন। প্রধান বক্তা ছিলেন কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক সংসদ সদস্য মাহবুব উল আলম হানিফ। বিশেষ বক্তা হিসেবে ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, কৃষি ও সমবায় সম্পাদক বেগম ফরিদুন্নাহার লাইলী, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, অর্থ সম্পাদক ওয়াসিকা আয়েশা খান ও উপপ্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম।
আবু সাঈদ আল মাহমুদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগের দরজা সবার জন্য উন্মুক্ত। ভালো মানুষের জন্য আওয়ামী লীগের দরজা বন্ধ নেই। নতুন সদস্য যাদের নেব, তাদের পদ দেব না। তাকে একটা সময় পর্যন্ত পরীক্ষিত হতে হবে।’ নেতাদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে ক্ষয়িষ্ণু দল হিসেবে দেখতে চাই না। আপনারা মাইকিং করে সদস্য সংগ্রহ করুন। ৩০ জুনের মধ্যে যেসব ইউনিটের বিষয়ে অভিযোগ রয়েছে, সেগুলোর বিষয়ে সাংগঠনিক সম্পাদকেরা রিপোর্ট দেবেন। ১ জুলাই থেকে ওয়ার্ড ও থানা কমিটির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।’
মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, ‘নিজের আত্মীয়স্বজনের মধ্যে যদি পদ–পদবি–সদস্য রেখে দিই, তাহলে হবে না। ছাত্রলীগ–যুবলীগ যাঁরা করেছেন, তাঁদের অনেকের আজ পদ নেই। তাঁদের আওয়ামী লীগ করতে সুযোগ দিতে হবে। উদার মন নিয়ে সদস্য সংগ্রহ করতে হবে।’
ফরিদুন্নাহার লাইলী বলেন, ‘আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে হবে।’ সুজিত রায় নন্দী বলেন, ‘আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকি, তাহলে এমন কোনো শক্তি নেই আওয়ামী লীগকে ঠেকাবে। দলে অনুপ্রবেশকারীদের সম্পর্কে সজাগ থাকতে হবে। তারা মধু খেয়ে চলে যাবে।’
আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক সংসদ সদস্য ওয়াশিকা আয়েশা খান বলেন, ‘বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে পৌঁছেছে, তার পেছনে নারীর ক্ষমতায়ন অন্যতম। দলের সদস্য সংগ্রহ করার সময় নারীদের প্রাধান্য দেন। অর্ধেক সদস্য নারী রাখার চেষ্টা করেন।’
নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীনের সঞ্চালনায় আরও উপস্থিত ছিলেন নগরের সহসভাপতি নঈম উদ্দিন চৌধুরী, সিটি করপোরেশনের সাবেক প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন, জহিরুল আলম দোভাষ, সুনীল সরকার ও আলতাফ হোসেন চৌধুরী।