বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান
বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান

গণভোট প্রসঙ্গে জামায়াত আমির

একই ডেকচিতে রান্না করা গোশত হালাল আর ঝোল হারাম

গণভোট যদি অবৈধ হয়, তাহলে সংসদ নির্বাচনটা বৈধ হয় কীভাবে—ক্ষমতাসীন বিএনপির উদ্দেশে এমন প্রশ্ন রেখে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘কী চমৎকার যুক্তি! একই ডেকচিতে গোশত পাকানো হয়েছে। গোশতের ঝোল হলো হারাম আর গোশত হইল হালাল। কী আশ্চর্য ব্যাপার!’

জামায়াতের আমির বলেন, ‘হারাম হইলে তো দুটোই হারাম। হালাল হইলে দুটোই হালাল। যদি গণভোট হারাম হয়, তাইলে সংসদ নির্বাচনও হারাম। আর সংসদ নির্বাচন হারাম হইলে এখন এই দেশে কোনো সরকার নেই।’

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার দাবিতে আয়োজিত এক জনসভায় জামায়াতের আমির এ কথাগুলো বলেন। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর–সংলগ্ন ফলপট্টি এলাকায় এই জনসভার আয়োজন করে জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী উত্তর।

গণভোটের রায় বাস্তবায়নের মাধ্যমে জুলাই শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের ঋণ পরিশোধ করতে হবে জানিয়ে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেন, ‘দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটে “হ্যাঁ” বলল। ইলেকশনের আগে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বললেন, গণভোটে ভোট দিন এবং “হ্যাঁ”তে ভোট দিন। আমরাও বললাম গণভোটে ভোট দিন এবং “হ্যাঁ”তে ভোট দিন। ইলেকশন হলো, এখন তারা বলে গণভোট অবৈধ।’

শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘নির্বাচনের পর শপথ দুইটা নেওয়ার কথা। আমরা (দুটোই) নিয়েছি, ওনারা একটা নিয়েছেন। সরকারকে অনুরোধ করব—মেহেরবানি করে জনগণের রায়কে অপমান করবেন না। জনগণের রায়কে যারাই অপমান করেছে, ইতিহাসে তাদের কঠিন মূল্য দিতে হয়েছে। দেরি হয়েছে অসুবিধা নেই, মেনে নিন।’

গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য সংসদে লড়াই করে যাচ্ছেন জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত, জনগণের মুক্তি অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত, ফ্যাসিবাদের শেষ চিহ্ন বাংলাদেশ থেকে বিদায় না দেওয়া পর্যন্ত আমাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে। আমরা এখান থেকে বিশ্রাম নেব না।’

এ সময় অন্তত নিজেদের নেতা-কর্মীদের মুখের দিকে তাকিয়ে হলেও জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার করার আহ্বান জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘জুলাইয়ের কৃতজ্ঞতা আদায় (শোধ) করতে শিখুন। যাঁদের কারণে আজকের সংসদ, আজকের সরকার, আজকের বিরোধী দল, তাঁদের অগ্রাহ্য-অপমান করবেন না। তাঁদের আত্মা অভিশাপ দেবে। শহীদদের আত্মা যদি অভিশাপ দেয়, কেউ শান্তিতে থাকতে পারবেন না।’

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণার প্রসঙ্গে জামায়াতের আমির বলেন, ‘জুলাই ছিল ঘূর্ণিঝড়ের মতো। যে ঘূর্ণিঝড় ফ্যাসিবাদকে তছনছ করে দিয়েছে। বাংলাদেশেও থাকতে দেয়নি। এখন তারা ওখান থেকে মাঝে মাঝে একটু ভাবসাব দেখায়—এই চলে আসলাম।’ তিনি বলেন, ‘আমার গোনা (গণনা) মতে ১৩ বারের ক্যালেন্ডার ফেইল করেছে, এখন ১৪ নম্বর বার আগামী ডিসেম্বর। এ দেশের যুবসমাজ তৈরি হয়ে আছে, তোমাদের গলায় ফাঁসির রশি পরানোর জন্য, আসো।’

‘সব জায়গায় চোরের মেলা’

বিভিন্ন সমস্যা ও সংকটের সমাধান না হওয়ার বিষয়ে জামায়াতের আমির বলেন, ‘সংকট তো হবেই! সব জায়গায় যদি চোরের মেলা থাকে, তাইলে সংকট সমাধান হবে কীভাবে? ঘাটে ঘাটে...চোরেরা বসে আছে। এ জন্যই সংকটগুলো দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।’

গ্যাস–সংকটের বিষয়টি উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘বৈধ লাইন (সংযোগ) যে নিয়েছে, সে গ্যাস পায় না। আবার চুরি করে যে লাইন নিয়েছে, সেই গ্যাস পায়। ওখানে গ্যাস যায় কীভাবে? সবাই গ্যাস পাক, আমরা সেটাই চাই। কিন্তু সেটা বৈধভাবে যেতে হবে।’ তাঁর ভাষ্য, ‘সেটা চুরি করে কেন? এই চোরদের সাহায্য করে কারা? কেউ না কেউ এই চোরদের সহায়তা করে। গডফাদাররা আছে জায়গায় জায়গায়।’

রাস্তার গাড়ি চলাচলের জায়গা, ফুটপাতে পথচারীদের হাঁটার জায়গা বন্ধ করে হকারদের দোকান বসানো নিয়ে জামায়াতের আমির বলেন, রাস্তায় হকাররা দোকান বসিয়ে রাখে, মানুষ হাঁটতে পারে না। তাঁর প্রশ্ন, ‘কেন তাদের এখানে বসতে হবে?...চলাচলের রাস্তা কেন তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে? কে তুলে দিয়েছে? দাগ কেটে কেটে কে ওগুলো তাদের কাছে বিক্রি করে?’ এটা নিরসন করার দায়িত্ব সরকারের বলেও মন্তব্য করেন শফিকুর রহমান।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। অন্যদের বক্তব্য দেন ঢাকা-১৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবদুল বাতেন, ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম (আরমান) প্রমুখ।