রাজধানীতে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। মগবাজার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬
রাজধানীতে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। মগবাজার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬

ইসলামী আন্দোলনের জন্য রাখা আসনগুলো ১০ দলের মধ্যে সমঝোতায় বণ্টন: মামুনুল হক

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জন্য ৪৭টি আসন রেখেছিল জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোট; কিন্তু দলটি জোটে না থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওই আসনগুলো এখন জোটের দলগুলোর মধ্যে ভাগাভাগি হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক।

আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা জানান মামুনুল হক। এর আগে তিনি জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরের সঙ্গে দেখা করেন।

মামুনুল হক বলেন, শুরু থেকে যে প্রক্রিয়ায় আসন বণ্টন হয়েছে, ইসলামী আন্দোলন না আসায় সমঝোতার ভিত্তিতে একই প্রক্রিয়ায় আসন বণ্টন হবে। যে আসনে যে দলের প্রার্থীকে সবচেয়ে শক্তিশালী মনে করা হবে, তাঁকেই একক প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হবে।

এই মুহূর্তে ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে আসন সমঝোতার আর কোনো সুযোগ নেই। তবে রাজনৈতিক সমঝোতা হতে পারে।
মাওলানা মামুনুল হক, আমির, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস

১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন রেখে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই আটটি ইসলামি দল সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে নির্বাচন এবং গণভোট আলাদাভাবে করার দাবিতে যুগপৎ আন্দোলনে নেমেছিল। পরে তারা একসঙ্গে জোট বেঁধে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। একপর্যায়ে জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) তিনটি দল এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়।

তবে আসন ভাগাভাগি নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে টানাপোড়েন দেখা দেয় চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলনের। সমঝোতা না হওয়ায় গত বৃহস্পতিবার জামায়াতের নেতৃত্বাধীন এই জোটের ২৫৩ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। যেখানে জামায়াতের আসন থাকে ১৭৯টি। বাকি দলগুলোর মধ্যে এনসিপিকে ৩০টি ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে ২০টি আসন দেওয়া হয়।

৪৭টি আসন রেখে ইসলামী আন্দোলনকে জোটে ফেরানোর আশা করা হলেও দলটি গতকাল সংবাদ সম্মেলন করে জোট ছেড়ে এককভাবে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত জানায়। ফলে ওই আসনগুলো নিয়ে এখন নতুন করে ভাবতে হচ্ছে জোটের নেতাদের।

১৯ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। তার আগেই আসনগুলো বণ্টন হয়ে যাওয়ার আশা প্রকাশ করে মামুনুল হক বলেন, এরপর আসনগুলোতে যে দলের প্রার্থী থাকবেন, তিনি ছাড়া বাকিরা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেবেন।

জোট থেকে ইসলামী আন্দোলনের বেরিয়ে যাওয়া নির্বাচনে কোনো প্রভাব ফেলবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে মামুনুল হক বলেন, সম্মিলিতভাবে ঐক্যের প্রতি মানুষকে আহ্বান জানানো হয়েছিল। সেই অঙ্গীকার থেকে সরে যায়নি দলগুলো। তাই খুব বেশি প্রভাব পড়বে বলে মনে হয় না।

ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে আসন সমঝোতার আর কোনো সুযোগ আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মামুনুল হক বলেন, ‘এই মুহূর্তে ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে আসন সমঝোতার আর কোনো সুযোগ নেই। তবে রাজনৈতিক সমঝোতা হতে পারে।’

ইসলামী আন্দোলনের সংবাদ সম্মেলনে জোটের ইসলামপন্থী দলগুলো ঠিক পথে আছে কি না, সেই প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। এ বিষয়ে মামুনুল হক বলেন, তাঁদের দল ঠিক পথেই আছে। তবে অন্যের অনুভূতিকে শ্রদ্ধা জানায় তাঁর দল।

চরমোনাই পীরের দলের জোটে না থাকার নেপথ্যে অন্য কিছু রয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও করা হয় মামুনুল হককে। জবাবে তিনি বলেন, ‘ষড়যন্ত্র আছে বলে মনে হচ্ছে না। শেষ পর্যন্ত সবাই মিলে একসঙ্গে নির্বাচন করতে না পারাকে নিজেদের ব্যর্থতা বলেই ধরে নেওয়া যায়।’

জামায়াত ক্ষমতায় গেলে শরিয়াহ আইন বাস্তবায়ন করবে না, ইসলামী আন্দোলনের এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মামুনুল হক বলেন, জামায়াতের আমিরের কথার মূল অর্থ হলো, যে প্রক্রিয়ায় বর্তমানে দেশ চলছে, নির্বাচন হচ্ছে, সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার মধ্য দিয়ে রাজনীতির ধাপে ধাপে অগ্রসর হতে হচ্ছে, এই প্রক্রিয়ায় এক দফার মধ্য দিয়ে হঠাৎ করে এক দিনেই শরিয়াহ আইন বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। সেটিই জামায়াতের আমির বলেছেন। এই কথার মধ্যে কোনো অসংগতি নেই।