খুলনা জংশন রেলওয়ে স্টেশনের ভবনের দক্ষিণ পাশে রেলওয়ে কোয়ার্টার–সংলগ্ন জমিতে গড়ে উঠেছে মিষ্টান্ন তৈরির কারখানা ও অন্যান্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। এভাবে স্থাপনা গড়ে ওঠায় স্টেশনের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে
খুলনা জংশন রেলওয়ে স্টেশনের ভবনের দক্ষিণ পাশে রেলওয়ে কোয়ার্টার–সংলগ্ন জমিতে গড়ে উঠেছে মিষ্টান্ন তৈরির কারখানা ও অন্যান্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। এভাবে স্থাপনা গড়ে ওঠায় স্টেশনের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে

সরেজমিন খুলনা-২

রাজনৈতিক ছায়ায় খুলনায় দখল ও চাঁদাবাজি

  • দখল হয়েছে রেলওয়ের চিকিৎসকদের বাসভবন ‘ডাক্তারবাড়ি’।

  • উন্নয়নকাজেও ভাগ বসাচ্ছে চাঁদাবাজেরা। চাঁদা না দিলে বন্ধ করে দেওয়া হয় কাজ।

  • সন্ত্রাসীরা আসে মোটরসাইকেলে শোডাউন দিয়ে, তুলে নিয়ে যায় ঠিকাদারকে।

  • শহরে পুলিশের তালিকাতেই ৬৯ চাঁদাবাজ ও ১৮১সন্ত্রাসীর নাম।

খুলনায় রেলের জমি, নদীর ঘাট, বাজারসংলগ্ন খোলা জায়গা ও সিটি করপোরেশনের উন্নয়নকাজ ঘিরে নতুন করে দখল ও চাঁদাবাজি চলছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পালাবদলের পর শহরের বিভিন্ন এলাকায় রেলের জমিতে নতুন স্থাপনা উঠেছে, কোথাও দোকানঘর করা হয়েছে, কোথাও ঠিকাদারি কাজ বন্ধ করে চাঁদা আদায়ের ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, সন্ত্রাসী গোষ্ঠী এবং প্রশাসনের অসাধু অংশের যোগসাজশের অভিযোগ এসেছে।

রূপসা নদীর তীরবর্তী ঘাট এলাকা একসময় আলোচিত সন্ত্রাসী এরশাদ শিকদারের অপরাধজগতের কেন্দ্র ছিল। তাঁর ফাঁসির পর বড় বাজার ও ঘাট এলাকায় তুলনামূলক স্বস্তি ফিরেছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সেখানে আবার দখল ও চাঁদাবাজির ঘটনা সামনে এসেছে। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের কারও কারও সম্পৃক্ততার অভিযোগও রয়েছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে ঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সরকারি জমির কিছু জায়গায় ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর নতুন স্থাপনা উঠেছে। কোথাও অস্থায়ী স্থাপনা করে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, খুলনায় বর্তমানে রেলওয়ের ৭৬ একরের বেশি জমি অবৈধ দখলে রয়েছে।

আলোচিত সন্ত্রাসী গ্রুপের কিছু সদস্য রাজনৈতিক সংগঠনের কমিটিতে ঢুকে পড়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। খুলনা বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের একজন প্রথম আলোকে বলেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের বিভিন্ন ওয়ার্ড কমিটিতে সন্ত্রাসী গ্রেনেড বাবুর সদস্যদের অনেকে জায়গা করে নিয়েছে।

কেবল ঘাট এলাকা নয়, শহরজুড়েই দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। রেলের জমিতে থাকা স্কুলের সীমানাপ্রাচীর এবং রেলওয়ে হাসপাতালের চিকিৎসকদের বাসভবন ভেঙে সেটি দখলে নেওয়া হয়েছে। দখলের জন্য অনেকের নামে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময়কার বিভিন্ন ঘটনায় মিথ্যা মামলা দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। উন্নয়নকাজেও ভাগ বসাচ্ছে চাঁদাবাজেরা। চাঁদা না দিলে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। পুলিশের তালিকাতেই শুধু খুলনা শহরে ৬৯ জন চাঁদাবাজ ও ১৮১ জন সন্ত্রাসীর নাম আছে।

খুলনায় সক্রিয় সন্ত্রাসী নয়টি গ্রুপ

আলোচিত সন্ত্রাসী গ্রুপের কিছু সদস্য রাজনৈতিক সংগঠনের কমিটিতে ঢুকে পড়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। খুলনা বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের একজন প্রথম আলোকে বলেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের বিভিন্ন ওয়ার্ড কমিটিতে সন্ত্রাসী গ্রেনেড বাবুর সদস্যদের অনেকে জায়গা করে নিয়েছে।

সন্ত্রাসীদের সঙ্গে একশ্রেণির রাজনৈতিক নেতার যোগসাজশের কারণে দখল, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণে আসছে না বলে স্থানীয় সূত্রগুলোর অভিযোগ। পুলিশসহ প্রশাসনের কিছু অসাধু ব্যক্তিও এই প্রক্রিয়ায় জড়িয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গত বছর বিএনপির তিন নেতার বিরুদ্ধে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে আটকাদেশও (ডিটেনশন) দেওয়া হয়েছিল। যদিও তাঁদের কাউকেই তখন পুলিশ গ্রেপ্তার করেনি।

পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা ও প্রশাসনের দুর্বলতার কারণেই খুলনায় দখল, চাঁদাবাজি ও রাজনৈতিক আশ্রয়ের অর্থনীতি তৈরি হয়েছে। যেখানে অনিয়ম, সেখানে পুলিশও আছে
কুদরত-ই-খুদা, খুলনা জেলা সম্পাদক, সুজন

এ বিষয়ে খুলনা মহানগর পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, ওই ঘটনা তাঁর যোগদানের আগে ঘটেছে। তিনি কোনো ঘটনা শুনলেই ব্যবস্থা নিচ্ছেন।

একের পর এক ঘটনার পরও জড়িতরা ছাড় পেয়ে যাচ্ছে কেন-জানতে চাইলে কমিশনার বলেন, মামলা হলে তাঁরা ব্যবস্থা নিচ্ছেন। তবে দখল ও চাঁদাবাজির যেসব ঘটনার কথা বলা হচ্ছে, সেগুলোর অনেক অভিযোগ পুলিশের কাছে আসেনি। আবার মামলাও হয়নি।

রাজনৈতিক পরিচয়ে দখল

বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে আটকাদেশ পাওয়া তিনজনের একজন খুলনা সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোল্লা ফরিদ আহমেদ, যিনি ফরিদ মোল্লা নামে পরিচিত। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে খুলনায় দখলবাজির অভিযোগে তাঁর নাম বেশি আলোচিত হয়েছে। রেলওয়ের জমি দখল, নদীবন্দর ঘাট ও বড় বাজার, রেলওয়ে মার্কেটের ভেতরে রেলওয়ের চিকিৎসকদের বাসভবন-এমন অনেক জায়গায় দখলের অভিযোগে উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।

গত ১০, ১১ ও ১২ মে খুলনার রূপসা নদীর তীরবর্তী ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ঘাট, বড় বাজার ও রেলওয়ে মার্কেট ঘুরে বিভিন্ন স্থানে ফরিদ মোল্লার পোস্টার ও ফেস্টুন দেখা গেছে। স্থানীয় কেউ প্রকাশ্যে তাঁর বিরুদ্ধে কথা বলতে রাজি হননি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেকে জানিয়েছেন, সেখানে ফরিদ মোল্লার বিরুদ্ধে কথা বললে ‘খবর আছে’।

রেলওয়ে মার্কেটের ভেতরে রেলওয়ের চিকিৎসকদের বাসভবনকে স্থানীয় লোকজন ‘ডাক্তারবাড়ি’নামে চেনেন। গণ-অভ্যুত্থানের পর কয়েক দফায় ভবনটির ছাদসহ বিভিন্ন অংশ ভেঙে ফেলা হয়। গত ৯ মার্চ ভবনের বাকি অংশ ভেঙে রাতারাতি সেখানে ১৪টির বেশি দোকান নির্মাণ করা হয়। স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, দোকান তৈরির পুরো প্রক্রিয়ায় ফরিদ মোল্লার ভূমিকা ছিল।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে মোল্লা ফরিদ আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের। তিনি দাবি করেন, রেলওয়ের কোনো জমি দখল করেননি। বিএনপির অভ্যন্তরীণ তদন্তেও তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অপরাধ প্রমাণিত হয়নি।

রেলওয়ের চিকিৎসকদের বাসভবন ‘ডাক্তারবাড়ি’ ভেঙে রেলের জায়গা দখল করে নির্মাণ করা হয়েছে দোকান। গতকাল খুলনার রেলওয়ে মার্কেট এলাকায়

ডাক্তারবাড়ির জায়গা দখল এবং সেখানে দোকান নির্মাণের অভিযোগ অস্বীকার করে ফরিদ মোল্লা বলেন, ‘ডাক্তারবাড়ির জায়গার সঙ্গে আমার সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ কারও কাছে নেই। ২০১৩ বা ২০১৪ সালের দিকে আওয়ামী লীগের এক কাউন্সিলর ওই জায়গা ভাঙতে গিয়েছিল। এর বাইরে আমি কিছু জানি না।’

গত ৯ মার্চ ভবনের অংশ ভেঙে রাতারাতি দোকান নির্মাণের বিষয়ে ফরিদ মোল্লা বলেন, ‘ওখানে নতুন করে কোনো দোকান হয়নি। স্কুলের বাউন্ডারিও কেউ ভাঙেনি। হকাররা শীতের সময় অস্থায়ীভাবে দোকান বসিয়েছে।’

অথচ খুলনা রেলওয়ে থানায় রেলওয়ের ১৮ নম্বর কাছারির ফিল্ড কানুনগোর দেওয়া অভিযোগে বলা হয়, রাতের আঁধারে অবৈধভাবে সেখানে ঘরগুলো নির্মাণ করা হয়েছে। এমনকি গত ১১ মে সরেজমিনে এই প্রতিবেদকও সেখানে দোকান দেখতে পেয়েছেন।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে মোল্লা ফরিদ আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের। তিনি দাবি করেন, রেলওয়ের কোনো জমি দখল করেননি। বিএনপির অভ্যন্তরীণ তদন্তেও তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অপরাধ প্রমাণিত হয়নি।

আটকাদেশ পাওয়া আরেকজন খুলনা মহানগর ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব ইস্তিয়াক আহমেদ ওরফে ইসতি। তাঁর মামাতো ভাই হলেন খুলনার বর্তমানে আলোচিত সন্ত্রাসী গ্রুপ বি-কোম্পানির গ্রেনেড বাবু। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ইসতির বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অপরাধমূলক তৎপরতার অভিযোগ এসেছে।

অভিযোগের বিষয়ে ইস্তিয়াক আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘সন্ত্রাসী গ্রুপের কাউকে চিনি না। পত্রপত্রিকা ও ফেসবুকে যা দেখি, সেটাই জানি। দীর্ঘ ১৭ বছর আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেই আমাদের জীবন কেটে গেছে। এসব দেখার সময় আমাদের ছিল না। বাবুর সঙ্গে ১৫ বছর ধরে কোনো যোগাযোগ নেই।’

স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটিতে সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্যরা ঢুকে পড়ছে, এমন অভিযোগের বিষয়ে ইস্তিয়াক বলেন, প্রমাণ পেলে সঙ্গে সঙ্গে বহিষ্কার করা হবে।

নিজের বিরুদ্ধে আটকাদেশের বিষয়ে ইস্তিয়াক বলেন, ‘সেটি রাজনৈতিক হয়রানিমূলক ছিল। নতুন পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে কথা হয়েছে। তখন তাঁদের বলা হয়েছে, বিষয়টি ঠিক হয়নি।’তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের নেতা রকিবুল ইসলাম বকুল (জাতীয় সংসদের হুইপ) ভাইয়ের নির্দেশনা আছে, ক্লিন ইমেজের রাজনীতি করতে হবে।’

এই ইস্তিয়াকের ভাই হলেন মোংলা কাস্টমস এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশন) মাহামুদুন চৌধুরী (জনি)। ২০২৪ সালের নভেম্বরে তিনিসহ বিএনপির সমর্থক ব্যবসায়ীদের একটি অংশ অ্যাসোসিয়েশনের ভবন দখলে নিয়ে ১৩ সদস্যের একটি অ্যাডহক কমিটির ঘোষণা দেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। সেখানে সাবেক যুবদল নেতা মোশাররফ হোসেনকে আহ্বায়ক ও মাহামুদুন চৌধুরীকে সদস্যসচিব করা হয়।

স্থানীয় লোকজন জানান, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর খুলনায় বিএনপির রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ করছেন দলটির একজন কেন্দ্রীয় নেতা। প্রথম আলোর অনুসন্ধানে বিভিন্ন অপরাধে সম্পৃক্ত অথবা যোগসাজশ রয়েছে বিএনপির এমন যে কজনের নাম এসেছে, তাঁদের বেশির ভাগই ওই নেতার অনুসারী বলে এলাকায় প্রচার আছে। খুলনার বিভিন্ন এলাকায় এসব নেতার ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুনেও বিএনপির ওই কেন্দ্রীয় নেতার ছবি দেখা গেছে।

এ বিষয়ে মাহামুদুন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ৫ আগস্টের পর অস্থির পরিস্থিতিতে বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে ছাত্রসমাজের মাধ্যমে একটি কমিটি করা হয়েছিল। পরে নির্বাচন হয়েছে এবং এখন তিনি নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক। ভবন দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘এটি দখলের বিষয় নয়; পরিস্থিতির কারণে কার্যক্রম সচল রাখতেই তখন কমিটি করা হয়েছিল।’

গত বছরের ২০ সেপ্টেম্বর বাস্তুহারা এলাকায় মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, জমি দখল ও কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণের অভিযোগে বিএনপি নেতা গোলাম মোস্তফা ভুট্টোকে গ্রেপ্তার করেছিল কেএমপি। তাঁর বিরুদ্ধে সাতটি মামলা ছিল। পুলিশের ভাষ্য, ৫ আগস্টের পর তিনি এলাকায় ভয়ের পরিবেশ তৈরি করেছিলেন।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর পুলিশ প্রশাসনকে ব্যবহার করে খুলনায় সম্পদ দখলের পাশাপাশি নানা ধরনের চাঁদাবাজির তথ্য পাওয়া গেছে। কোথাও মামলায় মিথ্যা আসামি করে, কোথাও আবার ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’তকমা দিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ এসেছে। বিএনপির একশ্রেণির নেতা-কর্মীর পাশাপাশি শুরুর দিকে ‘ছাত্র-জনতা’পরিচয় দিয়েও চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটেছে। ভুয়া মামলা দিয়ে প্রতিষ্ঠান দখল ও দখলচেষ্টার অভিযোগও আছে। প্রথম আলো এমন অন্তত ১৩টি ঘটনার খোঁজ পেয়েছে।

খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি এস এম শফিকুল আলম (মনা) দাবি করেন, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর পেছনে কোনো রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা নেই।

দখল, মাদক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কারও কারও নাম আসার বিষয়ে শফিকুল আলম বলেন, তাঁদের দল ইতিমধ্যে ৩৫৫ জনকে বহিষ্কার করেছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় লোকজন জানান, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর খুলনায় বিএনপির রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ করছেন দলটির একজন কেন্দ্রীয় নেতা। প্রথম আলোর অনুসন্ধানে বিভিন্ন অপরাধে সম্পৃক্ত অথবা যোগসাজশ রয়েছে বিএনপির এমন যে কজনের নাম এসেছে, তাঁদের বেশির ভাগই ওই নেতার অনুসারী বলে এলাকায় প্রচার আছে। খুলনার বিভিন্ন এলাকায় এসব নেতার ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুনেও বিএনপির ওই কেন্দ্রীয় নেতার ছবি দেখা গেছে।

রেলের জমি দখল

খুলনা নগরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে রেলের জমি দখলের স্পষ্ট চিত্র দেখা যায়। পুরোনো রেলস্টেশন এলাকায় রেললাইনসংলগ্ন জায়গায় সারি সারি দোকানঘর। জোড়াগেট এলাকায় রেলের জমির ওপর স্থাপনা। হাসপাতাল রোডে সেমিপাকা দোকান। দৌলতপুর, বিশেষ করে কলেজ স্টেশন এলাকায় রেলের জায়গা ঘেঁষে পাকা ও টিনশেড স্থাপনা গড়ে উঠেছে। কোথাও দোকান চালু হয়েছে, কোথাও নতুন স্থাপনা তোলার প্রস্তুতি দেখা গেছে।

অনেক জায়গায় রেললাইনের পাশের খোলা অংশ আর আলাদা করে চেনার উপায় নেই। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর এসব এলাকায় দখলের প্রবণতা বেড়েছে। অনেকে আবার দখলের কৌশল হিসেবে বেছে নিয়েছেন মামলা। এ ক্ষেত্রে শুরুতে তাঁরা জায়গা দখল করছেন। পরে রেল কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিতে গেলে ক্ষতিপূরণের মামলা করছেন।

রেলওয়ের ২০২৫ সালের মার্চ থেকে সেপ্টেম্বরের ২১টি নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, তাতে খুলনার বিভিন্ন এলাকায় রেলের জমিতে দোকানঘর, সেমিপাকা স্থাপনা, পাকা ও টিনশেড ঘর নির্মাণের কথা উল্লেখ রয়েছে।

পুরোনো রেলস্টেশন এলাকা ঘিরে সবচেয়ে বেশি দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। রেলওয়ের ২০২৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বরের এক নথিতে স্টেশনসংলগ্ন রেলওয়ে ইয়ার্ড, ৬ ও ৭ নম্বর ঘাট, লোডিং গেটসংলগ্ন এলাকা, হাসপাতাল রোড, বিআইডব্লিউটিএর সীমানাপ্রাচীর-সংলগ্ন এলাকা এবং পুরোনো বাজার রেললাইন এলাকায় অবৈধ স্থাপনার কথা উল্লেখ করা হয়। সরেজমিনে ঘুরেও সেখানে রেলওয়ের জমির পাশে দোকানঘর ও বিভিন্ন স্থাপনা দেখা যায়।

রেলওয়ের চিকিৎসকদের বাসভবন ‘ডাক্তারবাড়ি’ দখলের আগের চিত্র

জোড়াগেট ও মন্টু কলোনি এলাকায় রেলের জমিতে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ আছে। ২০২৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে জানান, মো. আলমগীর হোসেন নামের এক ব্যক্তি রেলের জমিতে থাকা পুকুর ভরাট করে ঘর নির্মাণ করছেন। বাধা দিলেও তিনি থামেননি।

একইভাবে রেলওয়ে ইয়ার্ডে, খুলনা অফিসার্স রেস্টহাউসের পাশে এবং হাসপাতাল রোডে, মানিক মিয়া শিপিং কোম্পানির পেছনে রেলওয়ের জমিতে অবৈধভাবে দোকানঘর ও স্থাপনা করা হয়। এসব ঘটনার বেশির ভাগ ক্ষেত্রে স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মী অথবা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর নাম এসেছে।

সরেজমিনে পুরোনো রেলস্টেশনে গেলে সেখানকার রেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, এই স্টেশনের ছোট দুই কক্ষের একটি ঘর ছাড়া আশপাশের প্রায় সব জমি দখল করা হয়েছে। মূল সড়ক থেকে স্টেশনের নিয়ন্ত্রণকক্ষের দিকে যাওয়ার পথে শুধু সরু একটি পথ রাখা হয়েছে। এখন সেটিও ধীরে ধীরে দখল হচ্ছে। স্টেশন থেকে জোড়াগেট পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার এলাকার প্রায় পুরোটাই এভাবে দখল হয়েছে। গত ১৮ এপ্রিল দখলের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন খুলনা জংশন স্টেশনমাস্টার মাসুদ রানা।

গতকাল শুক্রবার মুঠোফোনে জানতে চাইলে মাসুদ রানা প্রথম আলোকে বলেন, স্টেশন ভবনের আশপাশের রেলের বেশির ভাগ জমি দখল হয়ে গেছে। দক্ষিণ পাশে রেলওয়ে কোয়ার্টার-সংলগ্ন জমিতেও বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে উঠেছে। সেখানে দোকানপাট, মিষ্টি-দই তৈরির কারখানা ও অন্যান্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান চলছে। এসব স্থাপনার কারণে স্টেশনের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয় লোকজন জানান, কিছুদিন আগে আসাদুজ্জামান ওরফে মিঠুর নেতৃত্বে সাত-আটজন এসে রেলের ফাঁকা জমিগুলো সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে গেছেন। তাঁরা নিজেদের বি-কোম্পানির লোক পরিচয় দিয়েছেন। মিঠুর খুলনা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক। তিনি মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব ইস্তিয়াক আহমেদের অনুসারী।

রেলের জমির খোঁজখবর নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আসাদুজ্জামান মিঠু। তিনি প্রথম আলোর কাছে দাবি করেন, তিনি স্টেশনমাস্টারের একটি ব্যক্তিগত সমস্যা নিয়ে কথা বলতে সেখানে গিয়েছিলেন। তখন জংশন স্টেশন এলাকায় রেলের দুটি পুকুর সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলেন বলে স্বীকার করেন। তাঁর দাবি, সেটি দখল বা ইজারা নেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল না। ‘বি-কোম্পানির সদস্য’পরিচয় দেওয়ার বিষয়টি ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে দাবি করেন তিনি।

এদিকে রেলওয়ে খুলনার ১৮ নম্বর কাছারির ভূসম্পত্তি বিভাগের ফিল্ড কানুনগো ইকবাল মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, রেলের অনেক জমি বেদখল হয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাবসহ নানা কারণে বাধা দিয়েও অনেক সময় এগুলো ঠেকানো যায় না।

চাঁদার জন্য উন্নয়নকাজে বাধা

খুলনা সিটি করপোরেশনের উন্নয়নকাজেও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর চাঁদাবাজি, কাজ বন্ধ করে দেওয়া, ঠিকাদারদের হুমকি-মারধরের ঘটনা ঘটেছে। তবে এসব ঘটনায় কেউ মামলা করার সাহস করেননি। পুলিশও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিযোগ। অন্তত চারটি ঘটনা নিয়ে স্থানীয় ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট ১৪ ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেছে প্রথম আলো। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তাঁরা জানিয়েছেন, সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ‘বি কোম্পানি’ও ‘আশিক বাহিনী’চাঁদার জন্য এসব কাজ বন্ধ করে দিয়েছিল। ঠিকাদারের লোকজনকে তুলে নিয়ে মারধর করে টাকা আদায় করে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগও আছে।

খুলনা সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের জিন্নাহপাড়া এলাকায় দুটি প্যাকেজে রাস্তা ও গলির উন্নয়নকাজ চলছিল। গত ১ মার্চ আশিক বাহিনীর সদস্যরা ওই কাজ বন্ধ করে দেয়। পরে তারা ঠিকাদারের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। দর-কষাকষির পর ৬ লাখ টাকায় সমঝোতা হয়।

এই ঘটনার পর সন্ত্রাসী গ্রুপ বি কোম্পানির লোকজন দিনের বেলায় ৮-১০টি মোটরসাইকেলে করে কাজের স্থানে যায়। তারা সেখান থেকে উন্নয়নকাজের সাব-ঠিকাদারকে তুলে নিয়ে মারধর করে এবং তাঁর কাছে থাকা ৭০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। পরে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিষয়টি পুলিশ কমিশনারকে জানালে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং সাব-ঠিকাদারকে উদ্ধার করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, সাব-ঠিকাদার উদ্ধার ও দুজনকে গ্রেপ্তারের পর ঠিকাদারের ওপর চাপ আরও বাড়ে। সন্ত্রাসীরা তাঁকে হুমকি দিতে থাকে এবং পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে। পরে ঠিকাদার দুই লাখ টাকা দেন। এরপরও সাব-ঠিকাদারকে আবার ভয়ভীতি দেখানো, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আরও দুই লাখ টাকা চাঁদা আদায় করা হয়।

চাঁদাবাজি সেখানেই থামেনি। সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, প্রথম প্যাকেজের সর্বশেষ ঢালাই কাজ শুরু হয় গত ১৪ মে। এর কিছুক্ষণ পরেই আশিক বাহিনীর লোকজন এসে কাজ বন্ধ করে দেয় এবং তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। পরে দেড় লাখ টাকা দেওয়ার পর আবার ঢালাই শুরু করা হয়। যদিও খুলনা মহানগর পুলিশের কমিশনার দাবি করেছেন, খবর পেয়ে সংশ্লিষ্ট থানার ওসি ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ শুরুর ব্যবস্থা করেছেন।

খুলনা মহানগরের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডসংলগ্ন র‍্যাব কার্যালয় থেকে দশগেটের মধ্যে মাথাভাঙ্গা স্যানিটারি ল্যান্ডফিল উন্নয়ন ও বালু ভরাটের কাজ নিয়েও একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, শুরুতে বি কোম্পানির লোকজন কাজটি তাদের একটি প্রতিষ্ঠানকে লিখে দিতে চাপ দেয়। সেটি না পেরে বহু দেনদরবার ও বিভিন্ন মাধ্যমে তদবিরের পর কাজটি পাওয়া ঠিকাদার সন্ত্রাসী গ্রুপ বি কোম্পানির নির্ধারিত দুই ব্যক্তিকে উচ্চ মূল্যে বালু সরবরাহের কাজ দিয়ে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করেন।

এরপর ঠিকাদার কাজ শুরু করলে ৩০ এপ্রিল আশিক বাহিনীর লোকজন গিয়ে একটি খননযন্ত্রে আগুন ধরিয়ে দেয়। এরপর সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ভয়ে তাদের সঙ্গে আপস করেন। তবে বিষয়টি নিয়ে ঠিকাদার থানায় কোনো অভিযোগ করেননি। এ বিষয়ে তিনি প্রথম আলোর সঙ্গেও কথা বলতে রাজি হননি।

চাঁদার জন্য গত এপ্রিলে ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের মতিয়াখালী ৬, ৭ ও ৮ নম্বর গলি এবং আজাদ মাস্টার গলির উন্নয়নকাজও বন্ধ করে দিয়েছিল আশিক বাহিনী। কাজটি এখনো বন্ধ আছে।

স্থানীয় ঠিকাদারেরা এ বিষয়ে মুখ খুলতেও ভয় পাচ্ছেন। কারণ, চাঁদা না দিলে কাজ বন্ধ করে দেওয়া, শ্রমিকদের ভয় দেখানো, যন্ত্রপাতি পুড়িয়ে দেওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকির ঘটনা নিয়মিত ঘটছে। গোলাগুলির ঘটনা ঘটলে বিষয়গুলো সামনে আসে।

কেবল উন্নয়নকাজই নয়, সাধারণ মানুষের থেকেও চাঁদাবাজির ঘটনা আছে। যেমন গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ছয়টায় নগরীর লবণচরা থানার ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে মতিয়াখালীতে প্রবাসী মোহাম্মাদ হাসান চানের বাড়িতে ছয়-সাতজন সন্ত্রাসী এসে একটি মোটরসাইকেল নিয়ে যায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে, কিছুদিন ধরে বিভিন্ন নম্বর থেকে ফোন করে এই বাড়ির মানুষের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল খুলনার সন্ত্রাসী আশিক গ্রুপ।

‘রাষ্ট্র নিরাপত্তা দিতে পারছে না’

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, খুলনার বর্তমান পরিস্থিতি তিন স্তরে দাঁড়িয়ে আছে। প্রথম স্তরে দৃশ্যমান দখল-রেলের জমি, ঘাট, পুকুর, স্কুলের প্রাচীর, পুরোনো ভবন, বাজারসংলগ্ন খোলা জায়গা। দ্বিতীয় স্তরে অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ-চাঁদাবাজি, ঠিকাদারি, বালু সরবরাহ, ঘাটের টোল, দোকান ভাড়া। তৃতীয় স্তরে রাজনৈতিক ছায়া-দলীয় পরিচয়, ওয়ার্ড কমিটি, স্থানীয় নেতার আশ্রয়, অভিযোগ উঠলে অস্বীকার।

এই তিন স্তর মিলে খুলনায় এমন এক পরিস্থিতি তৈরি করেছে, এতে অপরাধ কেবল বিচ্ছিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সীমিত থাকছে না; স্থানীয় ক্ষমতা, অর্থনীতি ও রাজনীতির সঙ্গে মিশে যাচ্ছে। কেউ দখল করছে, কেউ দখল রক্ষা করছে, কেউ রাজনৈতিক পরিচয় দিচ্ছে, কেউ অস্বীকার করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শহরের ডাকবাংলো মোড়ের এক প্রবীণ ব্যবসায়ী বলেন, ‘এখানে এখন সবাই জানে কারা করছে, কিন্তু কেউ বলে না। কারণ, বললে দোকান থাকবে না, কাজ থাকবে না, নিরাপত্তাও থাকবে না।’

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) খুলনা জেলা সম্পাদক কুদরত-ই-খুদা প্রথম আলোকে বলেন, পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা ও প্রশাসনের দুর্বলতার কারণেই খুলনায় মাদক, দখল, চাঁদাবাজি ও রাজনৈতিক আশ্রয়ের অর্থনীতি তৈরি হয়েছে। যেখানে অনিয়ম, সেখানে পুলিশও আছে। কোনো না কোনোভাবে তারা জড়িত থাকে। খুলনায় হাজী মুহম্মদ মুহসীন এস্টেটসহ বড় এস্টেটগুলোর জমিও প্রভাবশালী চক্র প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’করে দখল করছে। তিনি বলেন, রাষ্ট্র এখনো নিরাপত্তা দিতে পারছে না। পুলিশও দিতে পারছে না। সে কারণে কেউ মামলা করতে চায় না, কথাও বলতে চায় না।