
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) বর্তমান প্রশানকে ‘জামায়াতপন্থী প্রশাসন’ আখ্যা দিয়ে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল বলেছে, ‘তাদের নগ্ন স্বজনপ্রীতি ও নিয়োগ-জালিয়াতি মূলত সুপ্ত ফ্যাসিবাদী চরিত্রের এক কুৎসিত ট্রেলারমাত্র। এই স্বাধীনতাবিরোধী ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তি রাষ্ট্রযন্ত্রের চাবিকাঠি কিংবা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ পেলে গোটা দেশকে স্বজনপ্রীতির অন্ধকার গহ্বরে নিক্ষেপ করবে।’
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব অভিযোগ করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও সহ-উপাচার্যের অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। এর পাশাপাশি সহ-উপাচার্যের কন্যার নিয়োগসহ সব বিতর্কিত ও অবৈধ নিয়োগ অবিলম্বে বাতিল, ইউজিসির নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নিয়োগ বোর্ড পরিচালনাকারীদের বিরুদ্ধে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া এবং বিভাগীয় সভাপতিদের আপত্তি, পরিকল্পনা কমিটির সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে দেওয়া সব নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার ও স্বচ্ছ-ন্যায্য নিয়োগপ্রক্রিয়া নিশ্চিতের দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি।
ছাত্রদলের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পবিত্র চেতনার প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মেধার অবমূল্যায়ন করে চবির বর্তমান জামায়াতপন্থী প্রশাসন পরিকল্পিতভাবে নিয়োগ–বাণিজ্যের মহোৎসবে লিপ্ত হয়েছে। তাদের নজিরবিহীন নিয়োগ–জালিয়াতি ও স্বজনপ্রীতির মহোৎসবের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে ছাত্রদল।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগে অনিয়মের বেশ কয়েকটি উদাহরণ তুলে ধরে ছাত্রদল বলেছে, প্রকৃত কোনো চাহিদা না থাকা সত্ত্বেও গত ১৫ মাসে সেখানে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী মিলিয়ে প্রায় ২৫০ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং আরও ৩০৪টি পদের নিয়োগপ্রক্রিয়া তড়িঘড়ি করে সচল রাখা হয়েছে। গত দেড় বছরে মোট ৫৫৪ জনের এই বিশাল নিয়োগপ্রক্রিয়া মূলত একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর দল ভারী করার নগ্ন মহোৎসব ছাড়া আর কিছুই নয়। এই বিশাল নিয়োগ অভিযানের মধ্যে সবচেয়ে স্পষ্ট স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের দৃষ্টান্ত হলো সহ-উপাচার্য শামীম উদ্দিন খানের কন্যা মাহীরা শামীমকে ফিন্যান্স বিভাগে প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া।
ছাত্রদল বলেছে, ‘জামায়াতপন্থী প্রশাসনের নগ্ন স্বজনপ্রীতি ও নিয়োগ-জালিয়াতি মূলত তাদের সুপ্ত ফ্যাসিবাদী চরিত্রের এক কুৎসিত ট্রেলারমাত্র। এই স্বাধীনতাবিরোধী ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তি আজ একটি বিদ্যাপীঠে যে পৈশাচিক লালসার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে, তা থেকে স্পষ্ট যে রাষ্ট্রযন্ত্রের চাবিকাঠি কিংবা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ পেলে তারা গোটা দেশকে স্বজনপ্রীতির এক অন্ধকার গহ্বরে নিক্ষেপ করবে। প্রশাসনের এই দুঃশাসনের বিরুদ্ধে যখন সাধারণ শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে ক্ষোভের দাবানল জ্বলছে, তখন শিবির-অধ্যুষিত চাকসু এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিবির-অধ্যুষিত ছাত্র সংসদগুলোর নির্লজ্জ নীরবতা প্রমাণ করে, এই নিয়োগ-বাণিজ্যের সুবিধাভোগী হিসেবে তারাও জামায়াতপন্থী প্রশাসনের সঙ্গে নেপথ্যে সমঝোতায় লিপ্ত।’
ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে অর্জিত ফ্যাসিবাদমুক্ত নতুন বাংলাদেশে কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর দলীয়করণ বা স্বজনপ্রীতি বরদাশত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিএনপির ছাত্রসংগঠন ছাত্রদল। তাদের বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, মেধার অবমূল্যায়ন করে চবির জামায়াতপন্থী প্রশাসন যদি তাদের আজ্ঞাবহদের অবৈধ নিয়োগ বাতিল না করে, তবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে ছাত্রদল কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলবে।