জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. সাইফুল আলম
জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. সাইফুল আলম

জামায়াতের সংসদ সদস্যের উষ্মা

‘চাঁদাবাজি কর, একটাই শাস্তি—মুচলেকা’

চাঁদাবাজির অভিযোগে আটক এক সংসদ সদস্যের (এমপির) ছেলেকে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় উষ্মা প্রকাশ করেছেন ঢাকা–১২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. সাইফুল আলম। তিনি বলেছেন, এতে সারা দেশে ভুল বার্তা যাচ্ছে। তাঁর ভাষায়, ‘চাঁদাবাজি কর, একটাই শাস্তি—মুচলেকা দিতে হবে। মুচলেকা দিলে মুক্তি পেয়ে যাবে।’

আজ শনিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে সাইফুল আলম এ কথা বরেন। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

২১ জুন চাঁদাবাজির অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের ছেলে খাইরুল ইসলাম সজীবকে পুলিশ আটক করে। পরদিন মুচলেকা নিয়ে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে বক্তব্যে সাইফুল আলম কারও নাম উল্লেখ করেননি।

নিজ নির্বাচনী এলাকার চাঁদাবাজির প্রসঙ্গ তুলে জামায়াতের এই সংসদ সদস্য বলেন, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার ও শিল্পাঞ্চলে আগে সরকারি দলের লোকজন চাঁদাবাজি করত, এখনো করছে। চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘চাঁদাবাজ কোনো দলের লোক নয়। তাদের ওন (নিজের মনে) করা হলে ভুল করা হবে। চাঁদাবাজদের ধরা হোক।’

সাইফুল আলম অভিযোগ করেন, রাজধানীর শিল্পাঞ্চলে অবৈধভাবে বিদ্যুতের লাইন টেনে ব্যাটারিচালিত রিকশা চার্জ দেওয়ার নামে নতুন ধরনের চাঁদাবাজি শুরু হয়েছে। এর সঙ্গে সরকারি দলের লোকজন জড়িত।

ব্যাংক রেজোল্যুশন আইন-২০২৬ বাতিলের দাবি জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর এই সংসদ সদস্য বলেন, অর্থমন্ত্রী একসময় বলেছিলেন, ‘জানালাটা খোলা রাখা হয়েছে।’ সেই জানালা দিয়েই এস আলম গ্রুপ ঢুকে পড়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক কয়েকটি বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন সাইফুল আলম। তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই স্বীকার করেছেন যে এস আলমের গাড়িতে চড়ে সংবর্ধনা নেওয়া ঠিক হয়নি। কিন্তু চট্টগ্রামে এস আলমের দামি গাড়ি রক্ষার ঘটনায় বিএনপির নেতা–কর্মীদের বহিষ্কারের প্রসঙ্গও তাঁর বলা উচিত ছিল।

একই সঙ্গে জামায়াতের এই সংসদ সদস্য বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেছেন, ‘আল্লাহু আকবার’ স্লোগান দিয়ে একটি দল ইসলামী ব্যাংক দখল করেছে। অথচ অস্ত্র নিয়ে ব্যাংক দখলের অভিযোগে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদ নিয়ে তিনি কিছু বলেননি। ‘তাহলে কি আল্লাহু আকবারে তাঁর আপত্তি আছে, কিন্তু অস্ত্রের বিষয়ে নেই?’—এই প্রশ্ন রাখেন সাইফুল আলম।

ইসলামী ব্যাংকের আরডিএস প্রকল্প থেকে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী তহবিলে ১১ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে—স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন বক্তব্যও নাকচ করেন জামায়াতের এই সদস্য। ব্যাংকের ২০২৫ সালের আর্থিক হিসাবের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সম্ভবত নিজের দল ও সরকারের নির্বাচনী বাজেটের কথা ভেবেই এমন মন্তব্য করেছেন। তিনি আরও বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অডিটের কথাও বলেছেন। এত দিন জানতাম তিনি স্বরাষ্ট্র, আইন ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কথা বলেন। এখন দেখছি অডিটের দায়িত্বও যেন তাঁর হাতে। অডিট হলে সেটি সংসদে উপস্থাপনের আহ্বান জানান তিনি।

পরে সাইফুল আলমের বক্তব্যের জবাবে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘আল্লাহু আকবার’ স্লোগানের বিরোধিতা করেননি; বরং ধর্মীয় স্লোগান ব্যবহার করে কোনো ধরনের ব্যাংক দখল বা অপরাধকে বৈধতা দেওয়ার বিরোধিতা করেছেন।

অনিন্দ্য ইসলাম বলেন, অতীতে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান ব্যবহার করে যেমন নানা অনিয়মকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে, তেমনি ভবিষ্যতে ‘নারায়ে তাকবির/আল্লাহু আকবার’ স্লোগান দিয়েও কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত নয়।