
প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান বলেছেন, জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে বিরোধী দলের প্রস্তাব বিবেচনায় নেবে সরকার। তাদের প্রস্তাবে বাস্তবতার নিরিখে কিছু থাকলে সেটা বাস্তবায়ন করা হবে।
আজ বুধবার জাতীয় সংসদে জ্বালানিসংকট নিয়ে বিরোধী দলের আনা একটি নোটিশের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদ নেতা এ কথা বলেন।
এর আগে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান জ্বালানিসংকট নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের সমন্বয়ে একটি ‘কমন কমিটি’ করার প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, তাঁদের কিছু প্রস্তাব আছে। সরকার চাইলে সেটা তাঁরা দেবেন। অবশ্য ‘কমন কমিটি’ গঠনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী কিছু বলেননি। ‘দেশের বর্তমান জ্বালানিসংকট নিরসনে এবং জনদুর্ভোগ লাঘবে অবিলম্বে সরকারের কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ’ বিষয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা হয়।
বিরোধীদলীয় নেতা জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান এ বিষয়ে নোটিশটি আনেন। নোটিশটির ওপর সরকারি ও বিরোধী দলের মোট আটজন আলোচনায় অংশ নেন। বিরোধী দলের একাধিক সদস্য অভিযোগ করেন, জ্বালানিসংকট বৈশ্বিক হলেও এ ক্ষেত্রে সরকারের কূটনৈতিক পদক্ষেপ যথাযথ ছিল না। শুরুতে জ্বালানি নিয়ে সঠিক তথ্যও সরকার তুলে ধরেনি।
অন্যদিকে সরকারি দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, জ্বালানি নিয়ে কোনো সংকট নেই, যে সংকটের কথা বলা হচ্ছে, সেটা কৃত্রিম। মে মাস পর্যন্ত জ্বালানির যে চাহিদা, তা নিশ্চিত করা হয়েছে। এখন জুন–জুলাই মাসের চাহিদা পূরণের জন্য সরকার কাজ করছে।
বিরোধী দলের প্রস্তাব বিবেচনার আশ্বাস
বিরোধীদলীয় নেতা ও বিরোধী দলকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে যে বিষয়টি নিয়ে আমরা আলোচনা করলাম, অবশ্যই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।’
বহু শহীদের রক্তের ওপর বর্তমান সংসদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে, সেটা নিয়ে হয়তো মতপার্থক্য আছে। তবে নিঃসন্দেহে তাঁরা কেউই অস্বীকার করছেন না যে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্বের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
বিরোধীদলীয় নেতার প্রস্তাবের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিরোধীদলীয় নেতা একটি প্রস্তাব দিয়েছেন যে আমরা বিরোধী দল সরকারি দল, সকলে মিলে কেন আলোচনা করতে পারি না? আমি সংসদকে অবহিত করতে চাই, সংসদ নেতা হিসেবে যে অবশ্যই আমরা বিরোধী দলকে আমন্ত্রণ জানাব আমাদের অবস্থান থেকে। আমরা বসব, আমরা আলোচনা করব। আমরা উনাদের প্রস্তাব দেখব।’
যদি বিরোধী দলের প্রস্তাবে বাস্তবতার নিরিখে বাস্তবায়নযোগ্য কিছু থাকে তাহলে সরকার অবশ্যই তা করবে—এমন মন্তব্য করে সংসদ নেতা বলেন, ‘আমরা যেই অবস্থানে, এই ফ্লোরে যেদিকেই বসি না কেন, বাংলাদেশের মানুষ আমাদেরকে এখানে পাঠিয়েছে তাদের স্বার্থ দেখার জন্য। কাজেই বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ নিয়ে আলোচনা করলে বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষা হবে। যে কাজ করলে বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষা হবে, ইনশা আল্লাহ, আমরা অবশ্যই সে কাজ করব।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের স্বার্থের বিষয়ে যদি কেউ কোনো প্রস্তাব, পরামর্শ, সুপারিশ দেন, বিএনপি সে বিষয়ে আলোচনা করতে প্রস্তত। সব সময় তাঁরা সে প্রস্তাব গ্রহণ করতে, আলোচনা করতে রাজি আছেন।
সংসদ নেতা তারেক রহমান বলেন, ‘আজকে এই সংসদে প্রতিটি রাজনৈতিক দল আমার মনে হয় একটি জায়গায় উপনীত হয়েছি যে আমাদের আর যা কিছুর ব্যাপারে মতপার্থক্য থাকুক না কেন, দেশ এবং দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষার ব্যাপারে আমাদের কোনো মতপার্থক্য নেই।’
বিরোধীদলীয় নেতার প্রস্তাব
পাম্প ঘুরে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, গাড়ির চালকেরা তেলের জন্য গাড়ি লাইনে রেখে চাটাই পেতে ঘুমাচ্ছেন। কেউ ১৪ ঘণ্টা কেউ ৫ ঘণ্টা ধরে লাইনে আছেন। যাঁদের গাড়ি (কার), তাঁরা দুই হাজার টাকার তেল পাচ্ছেন। আর বাইকাররা পাচ্ছেন ১৫০ থেকে ৫০০ টাকার তেল। আগে যাঁদের দেড় থেকে দুই হাজার টাকা আয় হতো, এখন হচ্ছে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা।
শফিকুর রহমান বলেন, জ্বালানি পরিস্থিতি একটা সংকট। এই সংকট সরকারের তৈরি নয়। কিন্তু চাহিদা ব্যবস্থাপনায় বেশ কিছু সমস্যা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এই জায়গায় আমরা সবাই ওপেন হার্ট নিয়ে বসতে পারলে, কথা বলতে পারলে কমন প্ল্যাটফর্ম থেকে অ্যাড্রেস করতে পারলে মানুষ একটা আস্থার জায়গা পেত। আমরা বাস্তবধর্মীভাবে বিষয়টি মোকাবিলা করতে পারতাম।’
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, কিছু অসৎ লোক সব সময় সুযোগ নেয়। তাদের ছাড় দেওয়া যাবে না। যারা অসৎ, তারা কোনো দলের হতে পারে না। সুযোগসন্ধানীদের বরদাশত করা উচিত নয়।
জ্বালানির ক্ষেত্রে তেল–গ্যাসের বিকল্প এবং স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা কেন থাকবে না— এমন প্রশ্ন রেখে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘সেই বিষয়গুলো নিয়ে আমাদের খোলামেলা আলোচনা এখানেও হতে পারে। আবার এখান থেকে গঠিত কমিটির মাধ্যমেও হতে পারে।’
যৌথভাবে করতে পারলে গণতন্ত্রটা টেকসইয়ের দিকে যেতে পারে মন্তব্য করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘এই বিষয়টাকে টোটালি অ্যাড্রেস করার জন্য এবং একটা টোটাল সলিউশনের জন্য, যদি সরকারি দল অনুভব করে যে আমরা একটা কমন কমিটি করব, তাহলে আমরা সাড়া দেব। এটাই আমাদের অবস্থান।’
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, তাঁদের কিছু প্রস্তাব আছে। সেগুলো তারা সরকারের হাতেই তুলে দেবেন। কারণ, বাস্তবায়িত হবে সরকারের মাধ্যমে। ওখান থেকে সরকার যেটুকু মনে করবে নেবে। প্রযোজ্য নয়, তা ফেলে দেবে, অসুবিধা নেই।
সংকট কৃত্রিম
জ্বালানি তেলের মজুতের তথ্য তুলে ধরে জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, সংসদে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিরোধী দলের বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, আসলেই এটা সংকট নয়, এটা কৃত্রিম সংকট। ইরান যুদ্ধের আগে পাম্পগুলোতে যে পরিমাণ তেল সরবরাহ করা হতো, যুদ্ধ শুরুর পর তার চেয়ে বেশি দেওয়া হচ্ছে। যাঁরা অসৎ উদ্দেশ্যে তেলের জন্য লাইনে দাঁড়াচ্ছেন, তাঁদের ভিড়ে যাঁদের আসলেই তেল প্রয়োজন, তাঁরা পাচ্ছেন না।
পাম্পের সামনের যে লাইন, সেটাকে ‘অবৈধ লাইন’ আখ্যা দিয়ে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, ‘সংকট যেটা বলা হচ্ছে, আমরা যত তেল দেওয়ার দরকার, তা–ই দিয়ে যাচ্ছি। আমি মনে করি, এই লাইনটা—যে লাইনটা নিয়ে আপনারা এত কথা বলছেন, এটা কি সত্যিই প্রয়োজনের লাইন? আমি সাংবাদিকদের অনুরোধ করেছি, আপনারা ইনভেস্টিগেশন করে দেখেন, এই লাইনটা কি সত্যি প্রয়োজনের জন্য, নাকি এই লাইনটা রাইডাররা রাইড শেয়ার ছেড়ে দিয়ে তেল বিক্রি করছেন। কারণ, সেখানে তারা বেশি প্রফিট করছেন।’
এই ‘অবৈধ লাইনের বিরুদ্ধে’ জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলারও আহ্বান জানান জ্বালানিমন্ত্রী। আবার তিনি এ–ও বলেন, তাঁর বাসা আসাদ গেটে দুটি পেট্রলপাম্পের উল্টা দিকে। এই লাইনের বিষয়ে তাঁর অভিজ্ঞতা হলো, এখানে কারও মধ্যে ক্লান্তি নেই। সবাই তেল নিচ্ছে।
সীমার মধ্যে থেকে জ্বালানির দাম সমন্বয় করা হয়েছে
যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে তেলের দাম বাড়ানোর কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে, দেশের অর্থনীতি যতটা বহন করতে পারে, সেই সীমার মধ্যে থেকে জ্বালানির দাম সমন্বয় করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রশ্ন রাখেন, যদি সত্যিই দেশব্যাপী জ্বালানিসংকট তৈরি হয়ে থাকে, তাহলে কি চাষাবাদ বন্ধ হয়েছে, শিল্পকারখানা বন্ধ হয়েছে, স্কুল-কলেজে কার্যক্রম থেমেছে, অথবা ব্যবসা-বাণিজ্য অচল হয়ে গেছে? তিনি বলেন, এসব খাত স্বাভাবিকভাবে চলছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোথাও কোথাও মজুতদারি, কালোবাজারি ও পাচারের চেষ্টা হয়েছে। এসব অনিয়ম উদ্ঘাটনও করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থাগুলো। দু-একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা ছাড়া জ্বালানি তেল, পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য বা সিলিন্ডার বড় আকারে পাচার হতে দেওয়া হয়নি।
সরকার শুরু থেকে দায়িত্বশীল নীতি গ্রহণ করেছে
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, সরকার সতর্কতা, দায়িত্বশীলতা ও দূরদর্শিতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করে আসছে। ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত এবং পরবর্তী সময়ে হরমুজ প্রণালি অকার্যকর ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার কারণে জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থায় ব্যাপক অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়। হরমুজ প্রণালি বন্ধের কারণে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও শৃঙ্খলায় চাপ তৈরি হয়। সরকার পরিস্থিতির গভীরতা অনুধাবন করে শুরু থেকে সংযত, সুরক্ষামূলক ও দায়িত্বশীল নীতি গ্রহণ করে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, পাম্পে বাইকার ও গাড়ির লাইন জ্বালানি সরবরাহের প্রকৃত চিত্রের স্বাক্ষর দেয় না। পেট্রল ব্যবহারকারী ৮৮ শতাংশ গ্রাহকের চাহিদা নিয়ে কোনো প্রশ্ন তৈরি হয়নি।
বিরোধী দলের সদস্যরা যা বললেন
জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ বলেন, মূল্যবৃদ্ধির পরও পাম্পের লাইন সংকুচিত হয়নি। কৃষকের পণ্যের দাম বাড়েনি। শ্রমিকের আয় বাড়েনি। গ্রামে ১০–১২ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। ছাত্রদের পড়ালেখা বিঘ্ন হচ্ছে। কলকারখানায় উৎপাদন বিঘ্নিত হচ্ছে।
এনসিপির সংসদ সদস্য আতিকুর রহমান মুজাহিদ বলেন, ‘এই সংকট মোকাবিলায় আমরা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ফেল করেছি। যুদ্ধ শুরুর পর আমরা যে স্টেটমেন্ট দিয়েছি, তা ছিল সম্পূর্ণ ইমব্যালান্সড (অসামঞ্জস্য)। আমরা রাষ্ট্রীয় স্বার্থ সুরক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছি। রাষ্ট্র হিসেবে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।’
জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য সাইফুল আলম বলেন, দেশে তেলের সংকট সরকার সৃষ্টি করেনি, এটা ইসরায়েলের সৃষ্টি ও তার প্রভুর সৃষ্টি। কিন্তু সরকার তার নিন্দা করতে পারেনি।
সাইফুল আলম বলেন, সরকার বারবার বলছে কোনো সমস্যা নেই, কিন্তু সংসদ ভবন এলাকা থেকে বিজয় সরণি পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ি ভিন্ন বাস্তবতার কথা বলছে। সমস্যা নেই বলে সমস্যাকে এড়িয়ে গেলে সমাধান হবে না।
ওয়াদুদ ভূঁইয়ার বক্তব্য ঘিরে উত্তেজনা
এর আগে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় বিএনপির সংসদ সদস্য আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়ার বক্তব্য ঘিরে সংসদে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা তৈরি হয়। তিনি অভিযোগ করেন, সরকারকে নাজেহাল করতে বিরোধী দল সংসদের ভেতরে-বাইরে চক্রান্ত শুরু করেছে।
চট্টগ্রাম সিটি কলেছে ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষের প্রসঙ্গ টেনে আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া বলেন, চট্টগ্রামে সিটি কলেজে ছাত্রদলের ওপর শিবির হামলা করেছে। ছাত্রদল শুধু বলেছে গুপ্ত। সে জন্য তারা ছাত্রদলের ওপর হামলা করে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ওপর আঘাত হেনেছে।
ওয়াদুদ ভূঁইয়ার এই বক্তব্যের সময় বিরোধী দলের সদস্যরা হইচই করে প্রতিবাদ জানান। তবে বক্তব্য চালিয়ে যান ওই সদস্য।
ওয়াদুদ ভূঁইয়া বলেন, ‘চট্টগ্রামে ছাত্রদল কী কথা বলেছে? গুপ্ত বলেছে। এই সংসদে আমরা কথা বলার জন্য নির্বাচিত হয়ে আসছি। বিরোধী দলের ভাইয়েরা আজকে কণ্ঠ চেপে ধরতে চায়। ফ্যাসিস্টদের মতো গলা চেপে ধরতে চায়। তার প্রকাশ এখানে।’
বিরোধী দলের উদ্দেশে ওয়াদুদ ভূঁইয়া আরও বলেন, ‘বিরোধী দলকে বলে দিতে চাই, আমাদের যারা ভোট দিয়েছে, তারা আঙুল চুষবে না। বসে থাকবে না। আমাদের ভোটাররা তাকিয়ে তাকিয়ে থাকবে না। তারা প্রতিবাদ করবে।’
পরে বিরোদীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান ফ্লোর নিয়ে ওই সদস্যের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান। বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করার দাবি জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘একজন সংসদ সদস্য সংসদে দাঁড়িয়ে যে হুমকির ভাষায় কথা বললেন, এতে আমরা আঘাত পেয়েছি। আমরা ক্ষোভ প্রকাশ করছি। জনগণ বসে থাকবে না? তার মানে কী? তিনি কী উসকে দিচ্ছেন জনগণকে বিশৃঙ্খলার দিকে? এগুলো সংসদীয় আচরণ নয়।’
জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, পরীক্ষা করে যদি অসংসদীয় কোনো ভাষা পাওয়া যায়, তা এক্সপাঞ্জ করা হবে। আর যেসব বক্তব্য, এটা বাংলাদেশের রাজনীতির ভাষা, ‘আমরা চুপ করে থাকব না’—এটা শতবছর ধরে বাঙালিরা বলে এসেছেন।